|
ঘর-হীন
আমার ঘর মানুষের হৃদয়েঃ দাবী
করেছেন তসলিমা নাসরীন
তসলিমা
নাসরীন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ছেড়ে থাকায় তাকে বাধ্য করা হলেও,
মানবাধিকারে বিশ্বাসী
মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান করে নিতে পেরেছেন তিনি।
লেখালেখির মাধ্যমে মত
প্রকাশের কারণে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া এ-লেখক এখন সুইডেন সরকারের আশ্রয়ে উপসালা
শহরে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
ধর্মীয় উগ্রবাদীদের
তান্ডব ও সরকারের অনাগ্রহের এক-পর্যায়ে কিছুদিন আগে তিনি ভারত ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য
হন।
মঙ্গলবার
স্টকহৌমে 'রাইটার্স
এান্ড
লিটারারী ট্রান্সলেটর্স' ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেসে অংশগ্রহণ-কালে দেয়া ভাষণে তসলিমা
নাসরীন বলেন,
'বই লেখার মধ্য দিয়ে আমি গঠনমূলক কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম।
আর এর পরিণতিতে
মৌলবাদীদের পক্ষ থেকে আমাকে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে হত্যা করার দাবী জানানো হয়েছিলো।'
তিনি আরও বলেন,
'[তৎকালীন
বাংলাদেশ] সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছিলো আমার বিরুদ্ধে।
সরকার আমাকে দেশের বাইরে
ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলো।'
উল্লেখ্য,
১৯৯৪ সাল থেকে
বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছেন তসলিমা।
পরবর্তী সময়ে একাধিকবার
ফেরার আবেদন করেও জন্মভূমিতে প্রবেশ করতে পারেননি এ-লেখক।
স্টকহৌমে
দেয়া বৃক্ততার এক পর্যায়ে শোকাকূল তসলিমা বলেন,
'আমি ঘরহারা।
কিন্তু তবু আমার একটি ঘর আছে।
মানবাধিকারে বিশ্বাস
করেন যে-মানুষেরা, তাদের হৃদয়ের অন্তঃস্থলে আমার ঘর-বসতি।'
তসলিমা নাসরীন ছাড়াও
পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে আগত লেখকবৃন্দ লেখকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও
লেখকের অধিকারের
পরিধি-বৃদ্ধি থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে চারদিনব্যাপী সম্মেলনে বিস্তৃত
আলাপ-আলোচনা করেন।
লেখকেদের অনেকে নিজ-নিজ
দেশে কীভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ধর্ম বা মতাদর্শের নামে মত-প্রকাশের স্বাধীনতা দমন করছে,
সে-সব ব্যাপারে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
লেখালেখি কারণে তসলিমা
নাসরীনের মতো দেশ ছেড়ে থাকতে বাধ্য হওয়া কয়েকজন লেখক এবারের রাইটার্স
এান্ড
লিটারারী ট্রান্সলেটর্স' ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।
লন্ডনঃ ২
জুলাই, ২০০৮ |