London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

ইরান-ইরাক-আফগানিস্তান প্রসঙ্গে বুশের র্বশেষ অবস্থান ব্যাখ্যা

ইরান, ইরাক ও আফগানিস্তান প্রসঙ্গে নিজ-প্রশাসনের সর্বশেষ অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশবুধবার বুশ জানিয়েছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি-কেন্দ্রিক সঙ্কট নিরসনের ক্ষেত্রে কূটনীতিক সমাধানের ব্যাপারটিকে এখনও পর্যন্ত সর্বাগ্রে স্থান দেয়া হচ্ছেএছাড়াও ইরাক ও আফগানিস্তানে বহুজাতিক বাহিনীর অবস্থান দীর্ঘায়িত করার ব্যাপারেও শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তিনি

বুধবার ওয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যদান-কালে বুশ বলেন, 'আমি এটা সবার কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছি যে, ইরান সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সর্বাগ্রে স্থান দেয়া হবে।' এক্ষেত্রে অন্যান্য দেশগুলোকে সাথে নিয়ে অগ্রসর হবার অঙ্গীকার করে তিনিঅন্যান্য দেশকে সাথে নিয়ে অগ্রসর হবার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে ইরানের উদ্দেশ্যে বুশ বলেন, 'তখন আপনারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন আপনারা যদি [ইউরেনিয়াম] পরিশোধন অব্যাহত রাখেন, তাহলে আপনারা অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে পড়ে যাবেন।' কূটনীতির কথা উল্লেখ করলেও বুশ একই সাথে জানিয়েছেন, ইরানের ব্যাপারে সব-ধরণের বিকল্প বিবেচনাতে রাখা হয়েছে তবে এসব বিবেচনার মধ্যে সামরিক ব্যবস্থা  গ্রহণের সম্ভাবনাটি সর্বাগ্রে নেই বলেই জানিয়েছেন তিনিবুশ এ-প্রসঙ্গে জানান, তিনি ওয়াইট হাউস ছেড়ে যাবার আগেই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের উপরে সামরিক হামলা চালানোর যে-গুজব শোনা যাচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেইউল্লেখ্য, পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সাথে বিবাদে লিপ্ত আছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বইরান সব সময় জানাচ্ছে, তার পরমাণু কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতকিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা একথা মানতে রাজী নয়

ইরান ছাড়াও আফগানিস্তান ও ইরাক প্রসঙ্গেও বুধবার মন্তব্য রাখেন বুশতিনি জানান, গত কয়েকটি মাস আফগানিস্তানে 'ভীষণ কঠিন' সময় যাচ্ছেসেখানে গত দু-মাসে ইরাকের চেয়ে অধিক সংখ্যক মার্কিন ও ন্যাটৌ-সেনার প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বুশউল্লেখ্য, জুনমাসে ন্যাটৌ ও মার্কিন বাহিনী মিলিয়ে ঊনপঞ্চাশ জন বহুজাতিক-সেনা প্রাণ হারিয়েছেন২০০১ সালে আগ্রাসন শুরুর পরে, মাসওয়ারী হিসাবে প্রাণহানির এ-হার সর্বোচ্চ প্রাণহানির সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসাবে 'শত্রু ' পক্ষ থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর উপরে হামলা সংখ্যা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন তিনিবুশ আরও জানান, গত কয়েকটি মাস 'তালেবানদের জন্যেও ছিলো কঠিন সময়।'

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারেও বুধবার একটু ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টউল্লেখ্য, এ-বছরের শুরুর দিকে মার্কিন ডিফেন্স সেক্রেট্যারী রবার্ট গেইটস জানিয়েছিলেন, আফগানিস্তানে 'সহিংসতা' বৃদ্ধি পেলে ২০০৯ সাল নাগাদ বাড়তি সেনা পাঠানো হতে পারেবর্তমানে আফগানিস্তানে ৩১ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেবুধবার এ-প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে বুশ জানান, 'সেনা-সংখ্যার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারটি আমরা অনবরত পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখছিপরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে আমরা আমাদের চলতি অবস্থানে পরিবর্তন আনতেও পারি।' বুশ আরও দাবী করেন, বহুজাতিক বাহিনী আফগানিস্তানে যে-ধরণের কৌশল অবলম্বন করছে, তা কাজে দিচ্ছে

বুশ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে টৌকিওতে অনুষ্ঠিতব্য জি-৮ সম্মেলন চলাকালে তিনি ইরাক ও আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে সদস্য দেশগুলোর সাথে কথা বলবেন এবং দেশদুটিতে অবস্থান অক্ষুন্ন রাখার আহবান জানাবেনইরাক ও আফগানিস্তান পরিস্থিতিকে তিনি কতোটা গুরুত্ব দেন, তা বুঝাতে যেয়ে বুশ বলেন, 'কিছু লোকের মধ্যে এটাকে সত্যিকারের যুদ্ধ হিসাবে বিবেচনা না করার একটা প্রবণতা আছেতারা যেনো বুঝাতে চান, কিছু-কিছু মেজাজ-বিগড়ানো লোক মাঝে-মধ্যে এসে আমাদের সেনাদের উপরে হামলা চালিয়ে যায়আমি যে-পরিস্থিতিকে এভাবে বিবেচনা করি না তা আপনারা জানেন।' বুশ দাবী করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং ইরাক ও আফগানিস্তানের জনগণকে মুক্তি স্বাদ এনে দেবার জন্য বহুজাতিক বাহিনীর অবস্থান করাটা প্রয়োজন

লন্ডনঃ ২ জুলাই, ২০০৮

 

আজকের প্রধান খবর8

সাপ্তাহিক খবর সংগ্রহ8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.