|
ইউরৌপীয়ান ইউনিয়ন বর্বরতাকে
আইনে পরিণত করেছেঃ শ্যাভেজ
কয়েক
সপ্তাহ আগে তৈরী-করা ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন আইনটির তীব্র সমালোচনা করেছেন
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ।
মঙ্গলবার লাতিন দেশগুলোর
জোট মেরকোসুর ট্রেইড ব্লকের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে দেয়া বক্তব্যে শ্যাভেজের কথার
প্রতিধ্বনি ঘটিয়েছেন আরো কয়েকজন লাতিন নেতা।
সম্মেলন থেকে ইইউর নতুন
অভিবাসন আইনের বিরোধিতা করে একটি নিন্দা প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে।
উল্লেখ্য,
গত মাসের আঠারো তারিখে
ইইউতে পাস হওয়া নতুন আইনে অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপারে বর্তমানের তুলনায় অধিকতর নির্দয়
ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
২০১০ সাল থেকে কার্যকর
হতে যাওয়া আইনটিতে
ইইউ-সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কোনো
একটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত একজন ব্যক্তিতে আঠারো মাস পর্যন্ত কয়েদ করে রাখার নিয়ম
অর্ন্তভূক্ত রাখা হয়েছে।
এছাড়া একবার আটক হলে
পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে আইনটিতে।
ইইউর হিসাবে বর্তমানে
ইউরৌপে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা আনুমানিক ১২ মিলিয়ন।
মঙ্গলবারের বক্তব্যে শ্যাভেজ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সবক নিয়ে ইউরৌপ
'বর্বর' অভিবাসন আইন তৈরী করেছে।
শ্যাভেজের ভাষায়, 'সভ্য
ইউরৌপ বর্বরতাকে আইনে পরিণত করে নিয়েছে।'
এ-প্রসঙ্গে ভেনিজুয়েলার
প্রেসিডেন্ট জানান, দক্ষিণ আমেরিকায় ভিসা-বিহীন ভ্রমণ-ব্যবস্থা চালু করা যায় কি-না,
সে-ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মহাদেশের নেতারা।
বর্তমানে আর্জেন্টিনা,
ব্রাজিল,
প্যারাগুয়ের ও উরুগুয়ের
নাগরিকেরা ভিসা ছাড়াই পরস্পরের দেশে যেতে পারেন।
অবৈধ
অভিবাসীদের ইইউ থেকে বের করে দেয়ার আইনটিকে 'আটলান্টিকের বুকে দেয়াল দেয়ার শামিল'
এক প্রচেষ্টা হিসাবে নিন্দা করেন শ্যাভেজ।
লাতিন নেতাদের উদ্দেশ্যে
তিনি বলেন,
'আমাদের
জনগণের সম্মান রক্ষার্থে আমাদেরকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।'
এ-সময় আর্জেন্টিনা,
ব্রাজিল,
বলিভিয়া,
উরুগুয়ে ও চিলির
প্রেসিডেন্টগণ উপস্থিত ছিলেন।
ইউরৌপের গৃহীত
সিদ্ধান্তটিকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক মেক্সিকোর বিরুদ্ধে যে-ধরণের 'লজ্জাকর
সীমান্ত-দেয়াল' গড়ে তোলা হয়েছে, তার সাথে তুলনা করেন শ্যাভেজ।
ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের
অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোরও ডাক দিয়েছেন তিনি।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডা সিলভা তার বক্তব্যে ইইউ-এর সিদ্ধান্তকে 'বিদেশীদের
প্রতি অহেতুক ঘৃনাজনিত এক রোগ' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট
রাফায়েল কোরেরার ভাষায় এ-আইন 'লজ্জাজনক'।
নিজেকে ইউরৌপ থেকে আগত
এক অভিবাসীর দৌহিত্র হিসাবে পরিচয় দিয়ে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট তাবারে ভাসকুয়েস বলেন,
'লাতিন আমেরিকার থেকে যাওয়া অভিবাসীদের [ইউরৌপে] মানবাধিকারের প্রতি কোনো সম্মান
নেই দেখে আমরা গভীরভাবে ব্যাথিত।
এ-অভিবাসীরা নিজেদের
ভূমিতে নিজেদর চাহিদার পূরণ করতে না পেরে অন্যত্র গমন করেছে,
যেমনটি [ইউরৌপ থেকে
একদা] করেছিলে তাদের পিতামহরা।'
লন্ডনঃ ১
জুলাই, ২০০৮ |