|
প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের
বিপক্ষে যায়নি আফ্রিকাঃ বিরোধীরা হতাশ
পশ্চিমা
বিশ্বের অনুসরণে প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের কট্টর বিরুদ্ধাচারণের পরিবর্তে
জিম্বাবুয়েতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশটিত ক্ষমতা ভাগাভাগির
পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন আফ্রিকার নেতৃত্ব।
মঙ্গলবার মিশরের শার্ম
আল শেখে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মেলনে আফ্রিকার নেতারা উপরোক্ত সমাধানের
পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম।
এদিকে,
আফ্রিকান নেতাদের এহেন
অবস্থানের কারণে জিম্বাবুয়ের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলটির মধ্যে হতাশা সঞ্চারিত
হবার মতো আচরণ লক্ষ্য করা গেছে।
কূটনৈতিক
সূত্র জানিয়েছে,
আফ্রিকার নেতাদের ইচ্ছা হচ্ছে
প্রেসিডেন্ট ও জানু-পিএফ পার্টি প্রধান রবার্ট মুগাবে ও প্রধান বিরোধ দল এমডিসি-এর
নেতা মর্গান চাঙ্গিরাইকে আলোচনার টেবিলে বসানোর ব্যবস্থা করা।
সম্মেলনে গৃহীত
প্রস্তাবনায় 'শান্তি ও স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সংলাপে অংশ নেয়ার জন্য
প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ও এমডিসি নেতা মর্গান চাঙ্গিরাইকে উৎসাহিত করার' কথা বলা
হয়েছে মঙ্গলবার।
তবে মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয়
দেশটির দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যাপারে আফ্রিকার নেতারা বেশ অসন্তুষ্ট
বলে খবর দিয়েছে কোনো-কোনো সংবাদ-সংস্থা।
উল্লেখ্য,
প্রথম দফার নির্বাচনে
বিরোধী প্রার্থী বেশি ভৌট পেলেও দেশের সংবিধান-মতে প্রয়োজনীয় হারের ভৌট না-পাবার
কারণে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন দেখা দেয়।
কিন্তু দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে বিরোধী দলীয় প্রার্থী
চাঙ্গিরাই সন্ত্রাস ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান।
আফ্রিকার
অনেক নেতা মনে করছেন বিরোধী দলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদটি ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে
জিমাম্বুয়েতে অশান্তির অবসানের ব্যবস্থা করতে পারেন মুগাবে।
তবে এ-ব্যাপারে সম্মেলনে
গৃহীত প্রস্তাবনাতে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
সাউথ আফ্রিকান
ডেভেলাপমেন্ট কমিউনিটির পক্ষ থেকে জিম্বাবুয়েতে 'ঐকমত্যের সরকার' গঠনের যে-প্রস্তাব
দেয়া হয়েছে, সে-ব্যাপারেও আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মতি থাকার খবর জানা গেছে।
ঘন্টা
দুয়েকের অধিক সময় ধরে আলাপ-আলোচনার পরে জিম্বাবুয়ে বিষয়কে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন
সম্মেলনে অংশ নেয়া নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবারের সম্মেলন থেকে
মুগাবের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়নি।
রবার্ট মুগাবের মুখপাত্র
জর্জ চাম্বারা সম্মেলনের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,
'তিনি [মুগাবে]
জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসাবে সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন।
তিনি জিম্বাবুয়ের
প্রেসিডেন্ট হিসাবেই বাড়ী ফিরবেন।'
উল্লেখ্য,
গত শুক্রবারে বিরোধী দল
বিহীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিস্ফোরণমুখ
হয়ে উঠেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বিরোধী দল ও পশ্চিমা
দেশগুলোর দাবী হচ্ছে স্বেচ্ছাচারী পন্থায় নিজেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার মধ্য
দিয়ে জিম্বাবুয়েতে গণতন্ত্রের শেষ ক্ষতিটুকু করেছেন মুগাবে।
এদিকে মুগাবে ও তার
সমর্থকদের দাবী, পশ্চিমা শক্তিগুলো বিশেষ করে ব্রিটেইনের সহযোগিতায় ক্ষমতায় যাওয়ার
চেষ্টায় লিপ্ত আছে প্রধান বিরোধী দল এমডিসিএ-সহ অন্যান্যরা।
স্মরণ করা যেতে পারে,
১৯৮০ সালে স্বাধীনতার
সময় থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা রবার্ট মুগাবের সরকারের সাথে পশ্চিম বিশ্ব
বিশেষ করে ব্রিটেইনের তিক্ত সম্পর্ক বিরাজ করছে।
বিশেষ করে,
ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলের
সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ-বান্ধব ভূমি ব্যবস্থায় সংস্কার প্রচেষ্টা শুরু করার পর থেকেই
তোপের মুখে পড়েন মুগাবে।
উল্লেখ্য,
১৯৩০ সালে তথাকথিত দ্য
ল্যান্ড এপয়েন্টমেন্ট
এাক্টের
মাধ্যমে তৎকালীন সাদার্ন রৌডেশিয়াতে (বর্তমানে জিম্বাবুয়েতে) ব্রিটিশ উপনিবেশ
স্থাপনকারী সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের জন্য দেশের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে বিপুল পরিমাণ ভূমি
বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দেয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
স্বাধীনতার পরে
এ-ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে ভূমি সংষকারের উদ্যোগ নেয়া হলে ব্রিটেইনের সাথে
বিরোধ বাড়তে থাকে জিম্বাবুয়ের।
২০০৬ সাল থেকে
সংখ্যাগুরু কৃষ্ণাঙ্গদের পক্ষে আরও কিছু উদ্যোগ নেয়া হলে সঙ্কট আরো বাড়তে থাকে।
তবে ভূমি সংস্কারের
ব্যাপারটি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে - বিশেষতঃ ব্রিটেইনের সাথে - সমস্যা বাড়তে
থাকলেও, বিরোধীদের উপরে দমন-নিপীড়ন চালানোর অভিযোগেও বিভিন্ন সময়ে সমালোচিত হয়েছেন
মুগাবে।
এদিকে,
মঙ্গলবার আফ্রিকান
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত খুশী হতে পারেনি প্রধান বিরোধী দল এমডিসি।
দলের মুখপাত্র নেলসন
চামিসা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,
'[সম্মেলনে
গৃহীত] প্রস্তাবনাটি খুঁটিয়ে দেখা না পর্যন্ত আমরা কোনো ধরণের মন্তব্য প্রকাশ করবো
না।
আমরা আগে ভালোভাবে প্রস্তাবনাটি
বুঝে নিতে চাই।'
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো
নেতিবাচক মন্তব্য করা না হলেও দলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির পক্ষ থেকে
আফ্রিকার নেতাদের 'নিষ্ক্রিয়তার' ব্যাপারে 'গভীর হতাশা' ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদের আরও দাবী, আফ্রিকার
রাষ্ট্রপ্রধানেরা যে-অবস্থানটি নিয়েছেন, তাতে জিম্বাবুয়ের পরিস্থিতি আরো খারাপের
দিকে যাবে।
এমডিসির বহিঃবিশ্বের মিত্ররাও
মঙ্গলবারের প্রস্তাবনাটির ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বিশেষ করে ব্রিটেইন
জানিয়েছে, জিম্বাবুয়ে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক সাহায্য প্রাপ্তি অব্যাহত রাখতে চাইলে
মুগাবেকে ক্ষমতা ভাগাভাগি বিষয়ক আলাপ-আলোচনা থেকে দূরে রাখতে হবে।
উল্লেখ্য,
ব্রিটেইন ও পশ্চিমা
বিশ্ব মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করতে চায়।
পর্যবেক্ষকদের মতে,
আফ্রিকান নেতাদের সম্মেলন থেকে
গৃহীত প্রস্তাবনাটির ফলে পশ্চিমা বিশ্বের চাপের মুখে থাকা মুগাবের অবস্থান কিছুটা
হলেও শক্ত হবে।
লন্ডনঃ ১ জুলাই, ২০০৮ |