|
বাংলাদেশে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সরকারের সংলাপঃ এরশাদ যাননি
বাংলাদেশে
সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে সাবেক সেনা-শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের
নেতৃত্বাধীন
জাতীয় পার্টির সংলাপ হয়েছে সোমবার।
তবে এরশাদ সংলাপে
উপস্থিত ছিলেন না।
তার পক্ষে পার্টির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে একটি
প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেন।
এদিকে
সরকার জানিয়েছে, বিএনপিকে
সংলাপে বসানো ও নির্বাচনমুখী করার ব্যাপারে তারা সচেষ্ট আছেন।
সংলাপ
শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল বলেন,
কোনো একটি দল নির্বাচনে
না আসলে নির্বাচন অর্থবহ হবে না, এটি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক চিন্তা-ভাবনা।
এ-ধারণা বা সংস্কৃতি
পরিবর্তন করতে না পারলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সকল দলের অংশগ্রহণ
নিশ্চিত করার দাবী ছাড়াও এরশাদের জাতীয় পার্টি যে-সব দাবী পেশ করেছে, তার মধ্যে আছে
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্যের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া,
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি
সহনীয় মাত্রায় রাখা,
রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা,
রেশনিং ব্যবস্থার আওতায় পল্লীর মানুষের সঙ্গে স্কুল-শিক্ষক ও সরকারী
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং গ্যাস ও কয়লা উত্তোলনে দ্রুত সিদ্ধান্ত
নেওয়া।
এছাড়া নির্বাচনে যাতে সৎ ও
যোগ্য প্রার্থী অংশগ্রহণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার কথাও বলেছে জাপা।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের
পক্ষে শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ডঃ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন,
সৎ ও যোগ্য প্রার্থী যদি
নির্বাচনে অংশ নেয়, সে-বিষয়ে দু-পক্ষেরই ভূমিকা রয়েছে।
সরকার নির্বাচনের পরিবেশ
সৃষ্টি করবে এবং এক্ষেত্রে অর্ধেক দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের।
দুর্নীতির ব্যাপারে
সরকার আগের অবস্থান থেকে দূরে সরে এসেছে বলে সংলাপে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ
তোলা হয়।
উপজেলা পরিষদ আইন প্রণয়নে খসড়ায়
সংশোধনী আনার ব্যাপারে সংলাপে প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে
খবরে প্রকাশ,
আগামী
বৃহস্পতিবার আওয়ামীলীগের সঙ্গে সরকারের আনুষ্ঠানিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
দলের
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন।
খালেদা
জিয়া ও তার দু-ছেলের মুক্তি ছাড়া সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসবে না বলে জানিয়েছে অন্য
প্রধান দল বিএনপি।
এ-ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে জিল্লুর
বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে এগুতে চাই।
সবাই আমাদের অগ্রযাত্রায়
শামিল হবে বলে আমি আশা করছি।'
এ-প্রসঙ্গে তিনি আরও
বলেন,
'আলোচনার
প্রক্রিয়া চলছে এবং
যৌক্তিক বিষয় নিয়ে
অবশ্যই আলোচনা হবে।
তারাও (চারদলীয় জোট) চান
একটি অর্থবহ নির্বাচন হোক,
জাতিকে রাজনৈতিক
অনিশ্চয়তা থেকে উদ্ধার করা হোক।
আমাদের সমাধানমুখী
চিন্তা-ভাবনা অব্যাহত রয়েছে।'
উল্লেখ্য,
আওয়ামীলীগ কার্য নির্বাহী কমিটি বৈঠক করে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে
অংশ নেবে বলে জানিয়েছে।
সোমবার
দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাতীয় পার্টি সাথে সংলাপে সরকারের পক্ষে
নেতৃত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দীন আহমদ।
তার সঙ্গে পাঁচ উপদেষ্টা
উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ব্যারিস্টার আনিসুল
ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ
নেয়।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
৩০ জুন
২০০৮ |