|
ভারতে
ভাঙ্গছে জোটসরকারঃ নির্বাচনের প্রস্তুতি কংগ্রেস ও বামের
ভারতের
সরকারী দল কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের দ্রুত নির্বাচনের
প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। রোববার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ-কথা জানানো হয়। অন্যদিকে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী এক অনুষ্ঠানে পরমাণু-চুক্তিকে সমর্থন করার জন্যে
বামপন্থীদের প্রতি আহ্বান রাখেন।
একইদিন দুপুরে
ভারতের ক্ষমতাসীন জোটসরকারের অন্যতম শরীকদল সিপিআই-এম আয়োজিত সংবাদসম্মেলনে দলটির
সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু-চুক্তির
বিরোধিতার প্রশ্নে দলটি কোনো ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, 'প্রয়োজনে সরকারের উপর থেকে
সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।' দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়াতেও দলটির পক্ষ থেকে
সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়। সিপিআই-এম পরমাণু-চুক্তি কার্যকর করে ঐকমত্যের
সরকারের পতন ঘটিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উস্কে দেয়ার পথে পা না-বাড়ানোর জন্যে
কংগ্রেসের কাছে আহ্বানও জানায়।
নয়াদিল্লীতে
সিপিআই-এমের পলিট ব্যুরোর বৈঠকেও নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নির্বাচনী-কৌশল সংক্রান্ত
আলোচনা প্রাধান্য পায়। দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের রোববারের এ-বৈঠক থেকে
নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়। পলিট ব্যুরো জানায়,
পরমাণু-চুক্তি কার্যকর করে কংগ্রেস ভিয়েনায় আইএই-র বৈঠকে যাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে
অন্যান্য বামদলকে নিয়ে সিপিআই-এম সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে।
পলিটব্যুরোর এ-বৈঠকে পশ্চিম বঙ্গ, ত্রিপুরা ও কেরালার মুখ্যমন্ত্রীরা ছাড়াও
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বামনেতা জ্যোতি বসু, বিমান বসু ও বৃন্দা কারাত উপস্থিত
ছিলেন।
সরকারী জোটের
প্রধান দুটি দলের পরস্পর-বিরোধী এ-অবস্থান থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে পরমাণুচুক্তি সংক্রান্ত মতদ্বৈততায় ভারতে নির্ধারিত সময়ের আগেই আসন্ন শীতকালে
সাধারণ নির্বাচন হবে। আগামী ২০০৯ সালের মে মাস নাগাদ এ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা
ছিলো। তবে বেশ কয়েকটি রাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনে এ-বছরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে জাপানে আগামী
জুলাই মাসে জি-এইট সম্মেলন চলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ ও ভারতের
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর মধ্যে পরমাণুচুক্তি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হওয়ার কথা
রয়েছে। কিন্তু জাপানে পরমাণুপ্রসঙ্গ খুবই স্পর্শকাতর হওয়ায় সেখানকার কূটনীতিকরা
চাইছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের আলোচনার বিষয়গুলি থেকে এটিকে বাইরে রাখার।
রোববার কংগ্রেসের
মুখপাত্র কংগ্রেস দ্বিবেদী জোনাথন জানান, শনিবার সোনিয়া গান্ধী নয়াদিল্লীতে পার্টির
জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের জন্যে দ্রুত
প্রস্তুতি নিতে বলেন। তিনি জানান, এ-বৈঠক হয়েছে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে। লোকসভার
নির্বাচন নিয়েও এতে আলোচনা করা হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলটির নেতাকর্মীদের
নির্বাচনের প্রচারণাকৌশল নিয়ে কাজ করতে এবং সরকারের সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি
নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসূচি নিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রকাশ
কারাত তাঁর সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু-চুক্তি বাস্তবায়িত
হলে ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বলতে কিছুই থাকবে না। তিনি বলেন, এর ফলে আগামী ৪০
বছর দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করতে বাধ্য হবে এবং তাই এ-চুক্তি মেনে নেয়া
সিপিআই-এমের পক্ষে সম্ভব নয়। ২০০৭ সালের ২৩ নভেম্বর ইউপিএ-বাম সমন্বয় কমিটির বৈঠকে
স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ-চুক্তি অনুযায়ী
বর্তমান সরকার কোনও জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি করতে পারেন না।
উল্লেখ্য, ভারতের
জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে পরমাণু-চুক্তির ব্যাপারে শরীক কোনও সংগঠনের আপত্তিই সরকার মেনে নেবে না।
কিন্তু এ-রকম চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়ার পরও তিনি পরমাণু-চুক্তির প্রতি জোটের বামপন্থী
সংগঠনগুলির সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হন। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০০৬ সালে
এ-চুক্তি চূড়ান্ত হয়।
এর আগে ২৫ জুন
কংগ্রেস ও সিপিআই-এম এক যৌথসভায় মিলিত হলেও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়।
লন্ডনঃ ২৯ জুন, ২০০৮ |