|
পরমাণু প্রকল্পের তথ্য সরবরাহ
উত্তর কোরিয়ারঃ উৎফুল্ল বুশ প্রশাসন
ছয় মাস বিলম্বে হলেও শেষ পর্যন্ত
পরমাণু প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্যাদি আন্তর্জাতিক মহলের হাতে
হস্তান্তর করেছে উত্তর কোরিয়া।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের
কাছে এ-হস্তান্তর ক্রিয়া সম্পন্ন করেছে পিয়ংইয়ং।
এদিকে,
উত্তর কোরিয়ার পদক্ষেপকে
স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটি জানিয়েছে উত্তর
কোরিয়ার উপরে আরোপিত দীর্ঘদিনের অবরোধ উঠিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে
ইতোমধ্যে।
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে প্রকাশ,
উত্তর কোরিয়া চীনের হাতে
যেসব তথ্যাদি সরবরাহ করেছে, তাতে পরমাণু প্রকল্পের বিস্তারিত বয়ান দেয়া হলেও,
দেশটির হাতে কতগুলো
পরমাণু বোমা আছে, সে-ব্যাপারে কোনো ধরণের তথ্য দেয়া হয়নি।
অবশ্য এ-ব্যাপারে কোনো
তথ্য-যে দেয়া হবে না, সে-ব্যাপারটি আগে থেকেই জানা ছিলো।
ইন্সটিটিউট ফর সায়ীন্স
এান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির হিসাব-মতে, ১২টি
পরমাণু বোমা বানানোর মতো যথেষ্ট প্লুটোনিয়াম উত্তর কোরিয়ার সংগ্রহে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের
ইউরেনিয়াম পরিশোধন ও পরমাণু প্রকল্পের বিস্তার রোধ সংক্রান্ত তথ্যাদি সংযুক্ত করা
হয়েছে উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেদনে।
উল্লেখ্য,
উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু
প্রকল্প থেকে সরিয়ে আনার ব্যাপারে যে-পাঁচটি দেশ প্রধান ভূমিকা পালন করছে, তাদের
মধ্যে চীন অন্যতম।
অন্যদেশগুলো হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্র,
রাশিয়া,
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।
২০০৩ সালে এ-দেশগুলোর
নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত দেন-দরবার চলছে।
জানা গেছে,
বৃস্পতিবার উত্তর
কোরিয়ার পক্ষ থেকে যে-সব তথ্যাদি হস্তান্তর করা হয়েছে, সেগুলো এখন নিগূঢ়ভাবে
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে ছয়-জাতি কর্তৃপক্ষ।
তবে শেষ পর্যন্ত যা-ই
হোক না কেনো,
পিয়ংইয়ংয়ের ঘোষণার ব্যাপারে
সন্তোষ প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও
উত্তর কোরিয়ার ঘোষণাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
জর্জ বুশ এক বিবৃতিতে উত্তর
কোরিয়ার ঘোষণাকে একটি 'ইতিবাচক পদক্ষেপ' হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট
জানিয়েছেন, অবিলম্বে উত্তর কোরিয়ার উপর থেকে অবরোধ শিথিল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
তবে এ-ব্যাপারে সতর্ক
করে দিয়ে তিনি জানান, পিয়ংইয়ংকে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে এবং যেসব তথ্য-সরবরাহ
করা হয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করার জন্য ঝুট-ঝামেলা বিহীন সুযোগ করে দিতে হবে।
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে বহুলালোচিত প্লুটৌনিয়াম রি-এাকটর
কৌর এবং রেডিও
এাকটিভ নিউক্লিয়ার বর্জ্যের ব্যাপারে
সুস্পষ্ট তথ্যাদি হস্তান্তর করতে হবে উত্তর কোরিয়াকে।
শুক্রবার এ-রিএাক্টরটি
ধ্বংসের চিত্র টেলিভিশন-যোগে সম্প্রচার করার কথা উত্তর কোরিয়ার।
ওয়াইট হাউসের একজন
মুখপাত্র জানিয়েছেন, সন্ত্রসবাদী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে উত্তর কোরিয়ার নাম বাদ
দেবার প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী পঁয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে।
অবরোধ তুলে নেয়ার ব্যাপারে বুশ
প্রশাসন যে-ঘোষণা দিয়েছে, তা কংগ্রেসে কোনো ধরণের বাধার মুখে পড়বে না বলেই মনে
করছেন না পর্যবেক্ষকরা।
কেনো-না, কংগ্রেসের
সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার সাথে জর্জ বুশের কূটনীতিক
প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য,
হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভ
ও সিনেটে বর্তমানে ডেমোক্র্যাটরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।
উল্লেখ্য,
মার্কিন নেতৃত্বাধীন
অবরোধের কারণে গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে আছে উত্তর কোরিয়া।
এছাড়াও, দেশটির আশঙ্কা
হচ্ছে, পরমাণু অস্ত্রের 'উছিলা' ধরে যে-কোনো সময়ে হামলা চালিয়ে বসতে পারে
যুক্তরাষ্ট্র।
সিরিয়ার পরমাণু প্রকল্পে
সাহায্য করার যে-অভিযোগ করছে মার্কিনীরা,
তাও বারংবার অস্বীকার
করছে উত্তর কোরিয়া।
বৃহস্পতিবার যে-সব তথ্য
সরবরাহ করা হয়েছে, সেগুলোকে মার্কিনীদের দাবীর অনেকটুকু পূরণ হিসাবে ধরে নেয়া হলেও,
বিশ্লেষকদের ধারণা উত্তর
কোরিয়াকে পুরোপুরিভাবে পরমাণু প্রকল্প থেকে সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সুদীর্ঘ সময় লেগে
যাবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস
গ্রুপের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল পিঙ্কস্টন মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রকল্পের
ব্যাপারটিকে পুরোপুরি ফয়সালা করতে 'মাসের পর মাস নয় বরং কয়েক বছর লেগে যাবে।'
তবে আগামী প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটি পার্টির প্রার্থী বারাক ওবামা বলেছেন,
'উত্তর কোরিয়ার পারফরমেন্সের ভিত্তিতেই' অবরোধ উঠিয়ে নেয়া-না-নেয়ার ব্যাপারটি
নির্ধারিত করা হবে।
উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে
দেয়া তথ্যাদি যাচাই করে নেয়ার জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।
রিপাবলিকান পার্টির
প্রার্থী জন ম্যাককেইনের কাছ থেকেও উত্তর কোরিয়ার ঘোষণার ব্যাপারে সতর্ক
প্রতিক্রিয়া এসেছে।
উত্তর কোরিয়ার
দু-প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার ও জাপানের বিশেষ উদ্বেগের প্রতি নজর রাখার জন্যেও
আহবান জানিয়েছেন ম্যাককেইন।
এ- দু'দেশ সব-সময় উত্তর
কোরিয়ার কাছ থেকে হামলার শিকার হবার আশঙ্কা প্রচার করে যাচ্ছে।
কিন্তু উত্তর কোরিয়া
কখনোই এ-অভিযোগ শিকার করে না।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার কাছ
থেকে আসা ঘোষণার ব্যাপারে বুশ প্রশাসনে উৎফুল্লভাব পরিলক্ষিত হলেও,
দলের ভেতরের
কট্টরপন্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন বুশ।
জাতিসংঘের সাবেক মার্কিন
দূত জন বৌল্টন বলেন,
'এটা
লজ্জাকর।'
উত্তর কোরিয়ার উপর থেকে অবরোধ
সরিয়ে নেয়ার ঘোষণাকে তিনি বুশ বিদেশ-নীতির চূড়ান্ত বিপর্যয় হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
লন্ডনঃ ২৬ জুন ২০০৮
|