|
চাপের মুখে সমালোচনা করেছেন
ম্যান্ডেলাঃ
জিম্বাবুয়ের
তথ্যমন্ত্রীর
দাবী
জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সঙ্কটকে
‘নেতৃত্বের
দুঃখজনক ব্যর্থতা’র
কারণ বলে বুধবার রাতে লন্ডনে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি
নেলসন ম্যান্ডেলা। ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে তার সম্মানে দেয়া এক চ্যারিটী ডিনারে
উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। মাত্র কয়েকটি শব্দের একটি বাক্যের মধ্যে
তিনি তাঁর মন্তব্যকে সীমিত রাখলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে তা ছাপা হয়
‘নীরবতা ভাঙলেন
ম্যান্ডেলা’
শিরোনামে। তবে, বৃহষ্পতিবার, তাঁর এ-মন্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে
জিম্বাবুয়ের তথ্যমন্ত্রী সিখানাইয়িসো নডলোভু বলেছেন, ওই রাতে চ্যারিটি ডিনারটিতে
জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সমালোচনা করার জন্যে ম্যান্ডেলার ওপর চাপ
সৃষ্টি করা হয়েছিল। জিম্বাবুয়ের সরকারী দল জানু-পিএফের সংসদীয় চীফ হুইপ জেরোমে
ম্যাকডৌন্যাল্ড গামবো বলেছেন, ম্যান্ডেলার বিবৃতি ‘খুবই
দুর্ভাগ্যজনক’
এবং ‘সম্পূর্ণ
অগ্রহণযোগ্য।’
জিম্বাবুয়ে সম্পর্কে ম্যান্ডেলার
এ-বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন তাঁর ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিশ্বের সকল
প্রচারমাধ্যমের দৃষ্টি তাঁর ওপর নিবদ্ধ। আর কাকতালীয় হলেও উল্লেখযোগ্য,
জিম্বাবুয়েতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে শুক্রবার ওই একই দিনে। জন্মদিন
উপলক্ষ্যে বুধবার রাতে লন্ডনে বিশ্বের প্রধান সারির ব্যক্তিদের সঙ্গে ডিনার শেষে
বক্তব্য রাখার সময় ম্যান্ডেলা দারিদ্র, মধ্যপ্রাচ্য, ইরাক ও দারফুর-সহ বিশ্বের বেশ
কয়েকটি গুরুতর সঙ্কট সম্পর্কে মন্তব্য করেন, যদিও প্রচারমাধ্যমগুলোতে গুরুত্বের
সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে কেবল জিম্বাবুয়ে-সম্পর্কিত ভাষ্য।
ন'বছর আগে ম্যান্ডেলা রাজনীতি থেকে অবসর
নিয়েছেন। কিন্তু তারপরও তাঁর যে-কোনো মন্তব্যকে বিশ্বের প্রচারমাধ্যমে খুব
গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়। কেনো-না, এখনও মানুষ তাঁর মতামতকে খুবই গুরুত্ব
দিয়ে থাকে। তবে ম্যান্ডেলা জনসমক্ষে কখনও এমন কোনও মন্তব্য করেন না, যা দক্ষিণ
আফ্রিকার নেতৃত্ব থাবো এমবেকির সঙ্গে দূরত্ব তৈরী করার মতো। উল্লেখ্য, এমবিকো
জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী। জাতিসংঘের বিবৃতির সঙ্গে
সহমত প্রকাশ করায় দক্ষিণ আফ্রিকা আগের কূটনৈতিক অবস্থান থেকে খানিকটা সরে এসেছে বলে
মনে হলেও জিম্বাবুয়ের প্রশ্নে দেশটি এখনও রক্ষণশীল অবস্থান বজায় রেখে চলেছে।
ম্যান্ডেলার এ-মন্তব্য দীর্ঘদিন ধরে
রবার্ট মুগাবের শাসনামলকে ‘একটি
মারাত্মক বিপর্যয়’
হিসেবে চিহ্নিতকারী পশ্চিমা নেতৃত্ব লুফে নিয়েছে। ডাচ দূতাবাসে অবস্থানকারী
জিম্বাবুয়ের বিরোধী দলীয় নেতা মর্গান চাঙ্গিরাই ‘আন্তরিকতার
সঙ্গে’
গ্রহণ করেছেন ম্যান্ডেলার ‘এ-সংহতিকে।’
টেলিফৌনে স্কাই নিউজে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বৃহস্পতিবার বলেন,
‘এ-রকম একটা
কিছুই আমরা তার কাছ থেকে আশা করছিলাম।’
তবে জিম্বাবুয়ের তথ্যমন্ত্রী সিখানাইয়িসো
নডলোভু এ-ব্যাপারে বলেছেন, বুধবার রাতের চ্যারিটি ডিনারটিতে জিম্বাবুয়ের সরকার
সম্পর্কে সমালোচনার জন্যে নেলসন ম্যান্ডেলার ওপর চাপ তৈরী করা হয়েছিলো। তিনি বলেন,
‘ম্যান্ডেলা
একজন রাষ্ট্র নায়ক, তিনি সাহসের পথিকৃৎ, হ্যাঁ তিনি তাই।’
ম্যান্ডেলার ওপর ‘চাপ
সৃষ্টি করার’
জন্যে তিনি উপস্থিত পশ্চিমাদের ‘নিন্দা’
করেন।
নডলোভু ম্যান্ডেলার এ-মন্তব্যকে ব্রিটেইন
কর্তৃক মুগাবেকে ‘নাইটহুড’
থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি বলেন, এ-দুটো ঘটনাই আফ্রিকাকে
শাসনকারী উপনিবেশিক শক্তির অপপ্রচার। তিনি আরও বলেন, জিম্বাবুয়ের সমালোচনা করা এক
ধরণের প্রতারণা, কেনো-না কেউই জিম্বাবুয়ের উপর বিভিন্ন অবরোধ আরোপের আহ্বান জানানোর
জন্যে ব্রিটেইনের সমালোচনা করেনি। তবে তিনি ম্যান্ডেলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন
বলেন, তিনি জিম্বাবুয়ের ওপর এ-রকম অবরোধের সমালোচনা করেছেন।
তবে সংসদীয় চীফ হুইপ জেরোমে ম্যাকডোনাল্ড
গামবো বিবিসি’র
সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তথ্যমন্ত্রীর চেয়েও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন,
ম্যান্ডেলার বিবৃতি খুবই দুর্ভাগ্যজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেন,
‘আমি এ
ধরণের মন্তব্যের কোনো গুরুত্ব দেখি না... এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য...।’
পশ্চিমা বিশ্বনেতৃবৃন্দের কাছ থেকে
প্রশংসা পেলেও কোনো কোনো আফ্রিকানের মতে, ম্যান্ডেলার এ-মন্তব্য সমস্যা সমাধানের
চেয়ে বরং আরও ঘনীভূত করবে। লন্ডনে অবস্থানরত সুদানের হিপ-হপ শিল্পী ইমানুয়েল জাল
এদেরই একজন। তার মতে, ম্যান্ডেলার মন্তব্য জিম্বাবুয়ের সাধারণ মানুষের কোনও কাজে
লাগবে না। তিনি বলেন, ‘মুগাবের
প্রতি যতো বেশি তর্জনী তোলা হয়েছে, জিম্বাবুয়ের মানুষ তত বেশি নির্যাতিত হয়েছে।’
বার্তা সংস্থা রয়টারকে ইমানুয়েল জাল বলেন,
‘আমার
মতে, নেলসন ম্যান্ডেলা বিগত বছরগুলোয় যথেষ্ট জ্ঞানী হয়েছেন এবং ভালো করেই জানেন
প্রেস কীভাবে প্যাঁচ লাগাতে পারে।’
তিনি মন্তব্য করেন, ম্যান্ডেলা যদি জিম্বাবুয়ে সফর করেন তা হলেই কেবল জিম্বাবুয়ে
রক্ষা পেতে পারে।
জাল ছিলেন সুদানের এথনিক-সংঘাতের
শিশুযোদ্ধা। একজন সাহায্যকর্মী এমা ম্যাককুন ১২ বছর বয়সে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং
কেনিয়ায় পাঠিয়ে দিয়ে রক্ষা করেন। কিন্তু পরের বছরই এমা ম্যাককুন গাড়ী দুর্ঘটনায়
মারা যান। ম্যান্ডেলার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত হাইড পার্কের কনসার্টে তিনি তাঁর
‘ওয়ারচাইল্ড’
নামের
এালবামটি
থেকে ‘এমা’
শিরোনামের একটি গান গাইবেন।
ম্যান্ডেলা সম্পর্কে জাল আরও বলেন, ক্ষমতা
ভালোবাসেন না বলেই ম্যান্ডেলার পক্ষে সম্ভব হয়েছে তা ত্যাগ করা, অন্য কারও কাছে
ছেড়ে দেয়া।
লন্ডনঃ ২৬ জুন, ২০০৮
|