|
সন্ত্রাসী-তালিকা থেকে
উত্তর কোরিয়ার
নাম
কাটার
ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রের
তথাকথিত
সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে উত্তর কোরিয়ার নাম বাদ দেয়ার ইঙ্গিত এসেছে
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে।
এছাড়াও বিশ্বজুড়ে
সমালোচিত ট্রেইডিং উইথ দ্য এনিমী
এাক্ট
নামের একটি বিতর্কিত তালিকা থেকে দেশটির নাম বাদ দেয়ার আভাষ দিয়েছে ওয়াইট হাউস।
তবে উত্তর কোরিয়াকে
মার্কিনী তালিকা থেকে নিস্কৃতি পেতে হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই পরমাণু কর্মসূচির
ইতিবৃত্ত সংক্রান্ত পূর্ণ ঘোষণা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার
উপরোক্ত সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য পেশ শেষে উত্তর কোরিয়ার পদক্ষেপের ব্যাপারে ইঙ্গিত
করে ওয়াইট হাউস মুখপাত্র ডানা পেরিনো বলেন,
'আমাদেরকে অপেক্ষা করতে
হবে এবং কী ঘটে তা দেখতে হবে।'
উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে
পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত ঘোষণাটি আসবে কি-না,
সে-ব্যাপারে অবশ্য
দৃশ্যত নিশ্চিত হতে পারছে না মার্কিনীরা।
পেরিনো বলেন,
'তারা [উত্তর কোরিয়া] আসলেই এটা [ঘোষণা] দিতে যাচ্ছে কি-না,
সে-ব্যাপারে আমরা আসলেই
কিছু জানিনা।'
তবে পিয়ংইয়ং এর পক্ষ থেকে একটি
সঠিক ও সত্যতা-যাচাইযোগ্য ঘোষণা আসাটাই যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া বলে জানিয়েছে ওয়াইট
হাউসের মুখপাত্রটি।
উল্লেখ্য,
গত সোমবার পেরিনো
জানিয়েছিলেন,
বৃহস্পতিবার নাগাদ উত্তর
কোরিয়ার পক্ষ থেকে পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
উল্লেখ্য,
দেশটির পরমাণু কর্মসূচি
নিয়ে মার্কিনীদের আপত্তি দীর্ঘদিনের।
যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছেমত
পরমাণু প্রকল্প থেকে সরে না আসার কারণে বছরের পর বছর ধরে নানা-ধরণের অবরোধের মধ্যে
পড়ে আছে দেশটি।
দূরপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের
প্রধানতম দুই মিত্র রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পক্ষ থেকে এ-ব্যাপারে চাপ-দান
অব্যাহত আছে।
এ-দু'টি দেশ উত্তর কোরিয়ার
প্রতিবেশী।
এছাড়াও চীন,
রাশিয়ার পক্ষ থেকেও
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়ার উপরে চাপ দেয়া হচ্ছে।
উত্তর
কোরিয়াকে মার্কিনীদের পক্ষ থেকে ছাড়া দেয়ার সম্ভাবনাতে জাপান অবশ্য ওয়াইট হাউসের
উপরে খুশী থাকতে পারছে না।
জাপান জানিয়েছে, উত্তর
কোরিয়া তাদের যেসব নাগরিককে অপহরণ করে নিয়েছে,
দেশটি ছাড় দেয়ার আগে
অপহরণের ব্যাপারটি সুরাহা চায় তারা।
অভিযুক্ত উত্তর কোরিয়া
অবশ্য জাপানের অভিযোগ কখনো মেনে নেয়নি।
জাপানের দাবীর ব্যাপারে
জর্জ বুশের সচেতন থাকার কথা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
তবে উত্তর কোরিয়ার নাম
মার্কিনীদের প্রণীত সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে অপহরণ
সংক্রান্ত বিষয়টির সুরাহ করাকে পূর্বশর্ত হিসাবে হাজির করা হবে না বলে জানানো হয়েছে
জাপানকে।
উল্লেখ্য,
এ-মাসের মাঝামাঝি সময়ে
মার্কিন সেক্রেট্যারী অফ স্টেইট কন্ডোলিৎসা রাইস উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে শিথিল
অবস্থান গ্রহণের আভাষ দেয়া হয়েছিলো।
১৯৮৮ সাল থেকে দেশটিকে
কালো তালিকায় ঢুকিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
২০০৬ সালের নভেম্বরে
পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার পর থেকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও উত্তর কোরিয়ার উপরে অবরোধ
জারী করা হয়েছে।
এখন থেকে ছয়মাস আগে একবার উত্তর
কোরিয়ার পক্ষ থেকে পরমাণু কর্মসূচির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ঘোষণা দেবার কথা ছিলো।
উত্তর
কোরিয়ার পক্ষ থেকে ঘোষণা আসলেও, সে-ঘোষণাতে শেষ পর্যন্ত কী থাকবে,
সে-ব্যাপারে নিশ্চিত হতে
পারছেন না পর্যবেক্ষকরাও।
কারও-কারও ধারণা,
উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে
পরমাণু স্থাপনের বন্ধের ঘোষণা দেয়া হতে পারে।
সেক্ষেত্রে অবশ্য
চাপ-দানকারী রাষ্ট্রগুলোর একটি জিজ্ঞাসার জবাব বাকী থেকে যাবে।
তা হচ্ছে,
ইতিমধ্যে তৈরী করে ফেলা
পরমাণু বোমাগুলোর ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেবে উত্তর কোরিয়া?
লন্ডনঃ ২৫
জুন, ২০০৮ |