|
জিম্বাবুয়ে
আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠানোর দাবী চাঙ্গিরাইর
জিম্বাবুয়ের
বিরোধী দলীয় নেতা মর্গান চাঙ্গিরাই বুধবার দেশটিতে নতুন করে অবাধ ও নিরপেক্ষ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী
পাঠানোর জন্যে বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটেইনের দৈনিক
গার্ডিয়ানে লিখিত এক নিবন্ধে তিনি এ-দাবী করেন। পরে অস্ট্রেলিয়ার একটি টিভি
চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, মুগাবে প্রকারান্তরে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
এদিকে
সোয়াজিল্যান্ডের রাজধানী এমবাবানেতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকান রাষ্ট্রপ্রধানরা
জিম্বাবুয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্যে বুধবার একত্রিত হয়েছেন। তবে ১৪টি
আঞ্চলিক রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত সাদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি এসএডিসি'র
এ-আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেনো-না, দক্ষিণ আফ্রিকার
রাষ্ট্রপতি ও জিম্বাবুয়ে-সঙ্কটের মধ্যস্থতাকারী থাবো এমবেকি এতে যোগ দেননি।
এমবেকির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ-আঞ্চলিক জোটের নিরাপত্তা কমিটির সদস্য না হওয়াতে
এমবেকি আলোচনায় যোগ দিচ্ছেন না।
এর আগে মঙ্গলবার
নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ব্রিটেইন-সহ যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স
যুক্তভাবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ২৯ মার্চের গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ভিত্তিতে
জিম্বাবুয়ের বিরোধী দলীয় নেতা মর্গান চাঙ্গিরাইকে নতুন রাষ্ট্রপতি ঘোষণার উদ্যোগ
নেয়। কিন্তু জাতিসংঘে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত দুমিসানো খুমালোর বিরোধিতার মুখে
পরিকল্পনাটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। দুমিসানো বলেন, জিম্বাবুয়েতে বৈদেশিক হস্তক্ষেপ
মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়; বিশেষতঃ জিম্বাবুয়েকে যারা উপনিবেশ করে রেখেছিলো তাদের
হস্তক্ষেপ আরও বেশি অনাকাঙ্ক্ষিত।
অন্যদিকে মঙ্গলবার
দক্ষিণ আফ্রিকার কেইপটাউনে অবস্থানরত নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত ডেসমন্ড টুটু
অস্ট্রেলিয়ার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জিম্বাবুয়ের রাষ্ট্রপতি রবার্ট মুগাবেকে
ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, জিম্বাবুয়েতে রক্তের বন্যা বয়ে যাওয়ার
আগেই অন্যান্য দেশগুলোর উচিত যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তিনি বলেন, দেশকে
স্বাধীন করার ক্ষেত্রে গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা রাখলেও মুগাবের বর্তমান ভূমিকা অনেককেই
আহত করেছে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন স্মিথ জিম্বাবুয়েতে আর্ন্তজাতিক সামরিক পদক্ষেপের
সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের ইউএস রাষ্ট্রদূতও মন্তব্য করেছেন যে, যা-ই
ঘটুক না কেনো, জিম্বাবুয়েতে আগামী শুক্রবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সাম্প্রতিক
রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জিম্বাবুয়েকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বহিষ্কার
করার চিন্তাভাবনা করছে এবং ইংল্যান্ডে আগামী বছরের জুনে অনুষ্ঠিতব্য টুয়েন্টি ২০
বিশ্বকাপ থেকে দেশটির বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইসিসির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডেইভিড
মর্গান মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে এরকম
ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সংবাদ সংস্থ এপি
নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স ব্রিটেইনের সঙ্গে মিলে জাতিসংঘের
বিবৃতির ভাষা এমনভাবে তৈরী করার চেষ্টা চালায়, যাতে মর্গান চাঙ্গিরাইকে জিম্বাবুয়ের
আইনসঙ্গত রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করা যায়। ব্রিটেইনের তৈরী করা মূল বিবৃতিতে বলা
হয়, জিম্বাবুয়ের নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। কিন্তু পরে নিরাপত্তা পরিষদ
ওই অবস্থান থেকে সরে এসে শুধুমাত্র সেখানকার রাজনৈতিক সহিংসতার সমালোচনা করে।
জাতিসংঘে
জিম্বাবুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত বনিফেচ চিদাউসিকু জানান, নিরাপত্তা
পরিষদের সদস্য নয় এমন একটি দেশ বেলজিয়ামের মাধ্যমে ব্রিটেইন চাঙ্গিরাইকে
জিম্বাবুয়ের সংবিধান ও নির্বাচনবিধিকে অগ্রাহ্য করে আইনসঙ্গত রাষ্ট্রপতি ঘোষণার
চেষ্টা চালায়। এ-প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায়
তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি দুমিসানো খুলামোকে ধন্যবাদও জানান।
লন্ডনঃ ২৫ জুন, ২০০৮ |