|
পাকিস্তানী
কৌর্টের রায়ঃ
নির্বাচনে প্রার্থী হবার অযোগ্য নাওয়াজ শরিফ
চলতি
সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য একটি উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরিফ।
সোমবার লাহোরের
হাইকৌর্টে এ-রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে,
আদালতে রায়টিকে
'ষড়যন্ত্র' হিসাবে আখ্যায়িত করেছে শরিফের দল মুসলিম লীগ (এন)।
সংবাদ-মাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, আদালত জানিয়েছে,
১৯৯৯ সালে যে-রায়ের বলে
শরিফকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিলো,
সে-রায়টিকেই বহাল রাখা
হয়েছে।
উল্লেখ্য,
তৎকালীন সেনা-প্রধান
মুশাররফকে বহনকারী একটি বিমান ছিনতাই করানোর ব্যাপারে যুক্ততার অভিযোগ এনে শরিফকে
নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করানো হয়েছিলো।
গতমাসে নির্বাচন কমিশনের
কথাবার্তা থেকে মনে হয়েছিলো, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার ফিরে পাবেন শরিফ।
কিন্তু সোমবারের রায়ের
ভিতর দিয়ে এ-ধারণাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে,
আদালতের রায়টি শরিফ ও
তার মুসলিম লীগের উপরে বড়ো একটি আঘাত সন্দেহ নেই।
তবে এ-ব্যাপারটিকে
কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন পিপিপি ও প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফের সাথে শরিফদের সম্পর্ক
কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে এখন দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের কারও-কারও ধারণা,
বর্তমান উচ্চ-আদালতের
ব্যাপারে শরিফের অবস্থানটিও সোমবারের রায়কে প্রভাবিত করে থাকতে পারে।
গত বছরের শেষদিকে সত্তর
জনের মতো বিচারককে বরখাস্ত করে নতুন বিচারকদের নিয়োগ দিয়েছেন মুশাররফ।
শরিফ সব-সময়
এ-প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিক হিসাবে আখ্যায়িত করে আসছেন এবং আগের বিচারকদের
পুনঃনিয়োগের দাবী করে যাচ্ছেন।
সোমবারের রায়টিকে
চ্যালেইঞ্জ করে শরিফ সুপ্রীম কৌর্টে যাবেন কি-না,
তা স্পষ্ট নয়।
কেনো-না,
এটা করলে মুশাররফের হাতে
নিয়োগ-প্রাপ্ত বিচারকদের বৈধতা দেয়া হয়ে যাবে শরিফের পক্ষ থেকে।
আদালতের
রায়ের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মুসলিম লীগের মুখপাত্র সিদ্দিকুল ফারুক বলেন,
'একটি ষড়যন্ত্রের অংশ
হিসাবে এ-রায়টি দেয়া হয়েছে।'
শরীফের আইনজীবীরা
জানিয়েছেন,
আদালতের রায় শুনে তারা হতভম্ব
হয়ে পড়েছিলেন।
মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে
আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের রায়টি প্রত্যাখান করা হয়েছে।
সোমবার রায়টি দেয়ার সময়
শরিফ সমর্থক বেশ কিছু মানুষ আদালত প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে 'মুশাররফ বিদায় হও' ধ্বনি দিতে
থাকেন।
লন্ডনঃ
২৩ জুন,
২০০৮ |