|
বর্ণ-বিতর্কে পদ খোয়ালেন লন্ডন
মেয়রের প্রধান
রাজনৈতিক
উপদেষ্টা
বর্ণবাদী
মন্তব্য করার কারণে প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা জেইমস ম্যাকগ্রাথকে পদত্যাগ করাতে
বাধ্য হলেন মে মাসের শুরুতে নির্বাচিত হওয়া লন্ডন শহরের মেয়র কনজারভেটিভ পার্টির
বরিস জনসন।
তার এ-সিদ্ধান্তের সাথে
সংহতি
প্রকাশ করেছেন দলনেতা ডেইভিড ক্যামেরৌন।
অবশ্য টৌরীদের বিভিন্ন
ফৌরাম থেকে মেয়রের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা অব্যাহত আছে।
খবরে
প্রকাশ,
জনসনের নির্বাচনী সাফল্যের পরে,
মে মাসের বিশ তারিখে
দ্য-লেইটেস্ট ডটকম নামের একটি ওয়েবসাইটের সাংবাদিক মার্ক ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথে দেয়া
এক সাক্ষাৎকারে এক-পর্যায়ে কৃষ্ণ-সম্প্রদায়ের মানুষ-জনের সম্পর্কে জেইমস ম্যাকগ্রাথ
বলেন, 'এখানে [লন্ডন] ভালো না লাগলে তারা চলে যেতে পারে।'
উল্লেখ্য মেয়রের অফিস
সিটি হলে বসে নেয়া সাক্ষাৎকারটির এক-পর্যায়ে লেখক ডার্কাস হাওয়ের একটি প্রবন্ধের
কথা ম্যাকগ্রাথকে স্মরণ করিয়ে দেন ওয়ার্ডসওয়ার্থের।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত প্রবন্ধটিতে ভয়েস ম্যাগাজিনের
সাংবাদিক হাও
আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে জনসন মেয়র নির্বাচিত হলে বেশি বয়েসী অভিবাসী
আফ্রো-ক্যারিবীয়ানদের মধ্যে লন্ডন ছেড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চলে যাবার হিড়িক দেখা দিতে
পারে।
এ-ব্যাপারে মতামত জানতে
চাইলে ম্যাকগ্রাথ বলেন, 'ভালোকথা,
এখানে [লন্ডন] ভালো না
লাগলে তারা চলে যেতে পারে।'
এ-সপ্তহান্তে
ওয়ার্ডওয়ার্থের পক্ষ থেকে খবরটি ফাঁস করে দেয়ার পরপর আলোড়ন ওঠে মেয়র-শিবিরে।
রাতেই মেয়রের পক্ষ থেকে
ম্যাকগ্রাথের পদ্যতাগের খবর জানিয়ে দেয়া হয় মিডিয়াতে।
ম্যাকগ্রাথ অবশ্য দাবী করেছেন যে, তার বক্তব্য খন্ডিতভাবে প্রকাশ করেছেন
দ্য-লেইটেস্টের সাংবাদিক।
কিন্তু ম্যাকগ্রাথের
পদত্যাগের খবর প্রচারের পরে লেখা এক প্রতিবেদনে ওয়ার্ডসওয়ার্থ জানিয়েছেন,
মাসাধিককাল ধরে ম্যাকগ্রাথের পক্ষ থেকে জবাব আসার অপেক্ষা শেষে তিনি খবরটি প্রচারের
ব্যবস্থা নিয়েছেন।
এ-প্রসঙ্গে
ওয়ার্ডসওয়ার্থ সোমবার জানিয়েছেন,
ম্যাকগ্রাথের গতমাসের
মন্তব্যটি ঢাক-ঢোল বাজিয়ে লোকজনকে শোনানোর জন্য তাড়াহুড়ো করেননি।
বরং ম্যাকগ্রাথের কাছ
থেকে বক্তব্যের ব্যাখ্যা শোনার চেষ্টা চালিয়েছেন।
কিন্তু একাধিকবার স্মরণ
করিয়ে দেয়ার পরেও সাংবাদিকের প্রচেষ্টার কোনো মূল্য দেয়ার কোনো প্রয়োজন বোধ করেননি
মেয়র জনসনের প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা ম্যাকগ্রাথ।
এমতাবস্থায়,
এক মাসেরও বেশি সময় পরে
কৃষ্ণ-সম্প্রদায়ের মানুষজন সম্পর্কে মেয়রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির ভাবনাটি জনগণের
সামনে তুলে এনেছেন ওয়ার্ডসওয়ার্থ।
ম্যাকগ্রাথের বক্তব্যের
টেইপ ওয়ার্ডওয়ার্থের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ম্যাকগ্রাথের পদত্যাগ সংক্রান্ত বক্তব্য দান-কালে মেয়র জনসন দাবী করেন যে,
তার সদ্য-পদত্যাগী
রাজনৈতিক উপদেষ্টা বর্ণবাদী নন।
কিন্তু আলোচ্য মন্তব্যের
পরে তাকে আর দায়িত্বে নিয়োজিত রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান জনসন।
সাংবাদিকদের সামনে দেয়া
বিবৃতিতে রোববার রাতে জনসন বলেন, 'গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি,
আমার রাজনৈতিক উপদেষ্টা
জেইমস ম্যাকগ্রাথের পদ্যতাগ-পত্রটি আমি গ্রহণ করেছি।'
উল্লেখ্য,
জনসনের প্রশাসনে অত্যন্ত
প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন অস্ট্রেলিয়াতে জন্মগ্রহণকারী চৌত্রিশ বছর বয়েসী
ম্যাকগ্রাথ।
মূলতঃ গত সাত বছর ধরে টৌরী
পার্টির সাথে ঘনিষ্টভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।
২০০৫ সালে জাতীয়
নির্বাচনের আগেও এ-দলের জন্য কাজ করেছেন ম্যাকগ্রাথ।
জেইমস ম্যাকগ্রাথলে
বর্ণবাদী হিসাবে চিহ্নিতকরণে নারাজ টৌরী দলনেতা ডেইভিড ক্যামেরৌন।
সোমবার তিনি বলেন,
'[ম্যাকগ্রাথ]
একজন ভালো মানুষ,
কিন্তু তার মন্তব্যে
কান্ডজ্ঞান-শূণ্যতা আছে।
রাজনীতিতে যে-কাউকে
[কৃতকর্মের ] পরিণতি ভোগ করতে হয়।'
তবে ম্যাকগ্রাথের
ব্যাপারে জনসন যে-সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,
তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন
দিয়েছেন ক্যামেরৌন।
এদিকে,
দলনেতার পক্ষ থেকে
সমর্থন পেলেও,
ম্যাকগ্রাথকে পদত্যাগ করানোর
কারণে দলীয় সমর্থকের তোপের মুখে পড়েছেন জনসন।
কনজারভেটিভদের অন্যতম
প্রভাবশালী ওয়েবসাইট কনজারভেটিভ হৌমে বিপুল সংখ্যক দলীয়-সমর্থক রোববার রাত থেকেই
জনসনের নিন্দা করে মন্তব্য প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
ওয়েবসাইটির অন্যতম
ব্লগার ইয়ান ডেলের পক্ষ থেকে মেয়রের সিদ্ধান্তটিকে সর্বাপেক্ষা 'ঘৃণ্য' ও
'কাপুরুষোচিত' এক কর্ম হিসাবে সমালোচনা করা হয়েছে।
এছাড়া ডেল দাবী করেন,
[বর্তমান সময়ে ] কেউ একজন যখন বর্ণবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়,
তখন যুক্তিশীলতা ও
পক্ষপাতিহীনতার বলি হয় সর্ব-প্রথমে।
কৃষ্ণ-সম্প্রদায়-বিরোধী বক্তব্যের পরিণতিতে ম্যাকগ্রাথের পদচ্যুতিতে ব্যাথিত
জেনিফার ওয়েলস নামের এক ব্লগার জানিয়েছেন,
জনসন যেভাবে
ম্যাকগ্রাথকে পদত্যাগ করিয়েছেন,
তা শরীরের রক্ত গরম
করিয়ে দেয়ার মতো।
জেনিফার নিজ-অনুভূতি প্রকাশ
করেছেন এভাবেঃ বরিস বলছেন জেইমস ম্যাকগ্রাথ নিষ্পাপ, কিন্তু আমি তাকে নেকড়েদের হাতে
ছেড়ে দেবো।'
ম্যাকগ্রাথের পক্ষে মাঠে নামার
জন্যেও আহবান জানিয়ে চলেছেন সাধারণ টৌরীদের অনেকে।
এসব টৌরীদের দাবী
বর্ণবাদের ধুয়ো তুলে কনজারভেটিভ পার্টিকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
লন্ডনঃ
২৩ জুন,
২০০৮ |