|
কিউবা-অবরোধের
আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নের
কিউবার
উপর বলবৎ থাকা অবরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইউরৌপীয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)।
সোমবার লুক্সেমবার্গে
এ-ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সদস্য দেশগুলো।
এদিকে ইইউর সিদ্ধান্তের
ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য,
মার্কিনীদের নেতৃত্বেই
অর্ধ-শতাব্দীর বেশি সময় ধরে কিউবার বিরুদ্ধে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব।
সর্বশেষ
সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ইইউর প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানান,
বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া অবরোধ প্রত্যাহার সংক্রান্ত প্রস্তাবনাটি সব-জটিলতা কাটিয়ে
উঠতে সক্ষম হয়েছে ইইউর কৃষিমন্ত্রীদের রোববারের সভাতে।
উল্লেখ্য,
আগে থেকেই এ-ব্যাপারে
সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলেও প্রক্রিয়াগত কিছু জটিলতার কারণে ঘোষণাটি চূড়ান্ত হতে কিছুটা
বিলম্ব হয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, কিউবার উপর
থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার ঘোষণাটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়া হলেও,
বস্তুতঃ ২০০৫ সাল থেকেই
আলোচ্য অবরোধের ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ জারী করেছিলো ইইউ।
সংস্থাটি মনে করছে,
অবরোধ প্রত্যাহার করে
নিলে দ্বীপ-রাষ্ট্র কিউবাতে,
তাদের ভাষায়,
গণতন্ত্রের পথ সুগম
হচ্ছে।
কমিউনিস্ট কিউবাতে কোন গণতন্ত্র
আছে বলে মানতে চায় না পশ্চিমা বিশ্ব।
এদিকে,
ইইউ-এর সিদ্ধান্তে হতাশা
প্রকাশ করেছে মার্কিনীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল
সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র গর্ডন জনদ্রি জানান, অবরোধ প্রত্যাহার সংক্রান্ত
যে-কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার শর্ত হিসাবে কিউবাকে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির
প্রমাণ দিতে হবে।
উল্লেখ্য,
যুক্তরাষ্ট্র তার
পছন্দ-অপছন্দের অনেক দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের তথ্য-তত্ত্ব ব্যবহার
করে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রচার করে থাকে।
সে-সব প্রতিবেদনে
অপছন্দের দেশগুলোতে সব-সময় মানবাধিকারের গুরুতর অবনতিশীল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা
হয়।
মার্কিনীরা ছাড়াও কিউবা থেকে পালিয়ে যাওয়া কিউবানরাও ইইউর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে
নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূলতঃ
ফ্লোরিডাতে বাসরত এসব কিউবান অন্যান্য সময়ের মতো এবারও নিজ-দেশ বিরোধী ভূমিকায়
অবতীর্ণ হয়েছে।
এদের দাবী ইইউর সিদ্ধান্তের
কারণে কিউবাতে বিরোধী-মত দমন বেড়ে যাবে।
লন্ডনঃ ২৩ জুন,
২০০৮ |