|
দেশে-দেশে
সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিতে ব্রিটেইনের স্থান
বিশ্বে
শীর্ষে
বিশ্ব-জুড়ে
সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিতে বর্তমানে শীর্ষস্থানে আছে ব্রিটেইন।
২০০৭ সালে সৌদি আরবের
কাছে বিপুল অঙ্কের অস্ত্র বিক্রয়ের কন্ট্র্যাক্ট লাভের ভিতর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে
টপকে গেছে দেশটি।
উল্লেখ্য, গত বছর ব্রিটিশ
প্রতিষ্ঠানগুলো সব-মিলিয়ে দশ বিলিয়ন পাউন্ডের অস্ত্র-বিক্রির অর্ডার পেয়েছে।
তথ্যমতে,
ব্রিটিশ অস্ত্র-নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের কাছে ৭২টি ইউরৌফাইটার টাইফুন
এয়ারক্র্যাফট সরবরাহের জন্য সর্বমোট ৪.৪ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যমানের অর্ডার অর্জনে
সক্ষম হয়েছে গত বছর।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ
থেকে না হলেও,
মিডিয়াগুলো এ-ব্যাপারে বিভিন্ন
সূত্র থেকে নিশ্চিত হতে পেরেছে।
জানা গেছে, সরবরাহকৃত
সামগ্রীর রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রাংশের কথা ধরলে, দীর্ঘমেয়াদে সৌদীদের
সাথে চুক্তির অঙ্ক ২০ বিলিয়ন পাউন্ডে যেয়ে ঠেকতে পারে।
সৌদি আরব ছাড়াও গত বছর
ওমান এবং এমনকি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কাছ থেকেও ভালো অঙ্কের অর্ডার সংগ্রহ করতে
সক্ষম হয়েছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিএই এবং ভিটি গ্রুপের
মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সামরিক সরঞ্জামের অর্ডার লাভের ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে অনেক
সামনে আছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ব-ব্যাপী সামরিক সরঞ্জামের যোগান দেয়ার ক্ষেত্রে এহেন সাফল্যের পরিচয় দিতে
পারায় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ বাণিজ্য মন্ত্রী
ডিগবী জৌনস।
শনিবার তিনি বলেন, 'রপ্তানী
ক্ষেত্রে এ-ধরণের সাফল্য থেকে এটা নিশ্চিতভাবেই প্রমাণিত হয় যে, ব্রিটেইনে ডিফেন্স
ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে বৈশ্বিক মানের দিক থেকে প্রথম শ্রেণীর।'
উল্লেখ্য, এতোদিন পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে মার্কিনীরাই এগিয়ে থাকতো।
অনেকটা পিছেনে থেকে
ব্রিটেইন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় স্থানটির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো।
২০০৭ সালে সৌদিদের বরাতে
দৃশ্যপট বলতে গেলে পাল্টে গেছে অনেকটা হঠাৎ করেই।
গত পাঁচ বছরের চিত্র
বিশ্লেষণ করলে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রটির স্থানটি এখনো সর্বাগ্রেই থাকছে।
উল্লেখিত সময়-কালে
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেইন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অঙ্ক যথাক্রমে
৬৩, ৫৩, ৩৩ ও ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এছাড়াও জার্মানী ও
ইসরায়েল উভয়েই গত পাঁচ বছরে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রিতে সক্ষম
হয়েছে।
২০০৭
সালে ব্রিটেইনের বিস্ময়কর অর্ডার প্রাপ্তির মধ্যে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তা লক্ষ্য
করেছেন কোনো-কোনো বিশ্লেষক।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের
বারবিক কলেইজের অধ্যাপক রন স্মিথ এ-প্রসঙ্গে বলেন, 'অর্ডার পেলেই তা শেষ পর্যন্ত
সরবরাহ পর্যন্ত নাও পৌঁছুতে পারে অথবা অর্ডার বাতিলও হতে পারে।'
এছাড়াও মিডিয়াতে
প্রচারিত অঙ্কের ব্যাপারেও তিনি সন্দেহ ব্যক্ত করেন।
স্মিথের মতে, এসব
ক্ষেত্রে সরকার এবং কোম্পানীগুলো সুস্পষ্টভাবে তথ্য সরবরাহ করে না বিধায় জটিলতা
তৈরী হয়।
উল্লেখ্য, মানবাধিকার-লঙ্ঘন বা গণতন্ত্রহীনতার জন্য ব্রিটিশ সরকারের সমালোচনার
শিকার হয় এমন ২০টি দেশের মধ্যে ১৯টির কাছেই ২০০৬ সালে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রিতে
সমর্থ হয়েছে ব্রিটিশ কোম্পানীগুলো এবং তা সরকারের অনুমোদনক্রমেই।
ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট
আর্মস ট্রেইড নামের একটি সংগঠন শনিবারে এ-কারণে ব্রিটিশ সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে
।
লন্ডন-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি
জানিয়েছে, সরকার একদিকে জনগণের প্রদত্ত আয়কর থেকে সামরিক সরঞ্জামাদির ব্যবসাকারী
প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিনের পর দিন বিপুল অঙ্কের ভূর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।
আবার অর্ডারের অঙ্ক
দেখিয়ে বাহবা নেয়ারও চেষ্টা করে চলেছে সরকার।
ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট
আর্মস ট্রেইড জানিয়েছে, 'এসব কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে জনগণকে বোকা বানানোর কোনো
চেষ্টা শেষ পর্যন্ত কাজে আসবে না।'
লন্ডনঃ ২১
জুন, ২০০৮ |