London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

বাংলাদেশে ঢাবির সাথে গ্রামীণ ফৌনের চুক্তির বিরুদ্ধে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) গ্রামীণ ফৌনের হাতে তুলে দেয়ার চেষটা চলছে এদিকে এ-চুক্তি বাতিলের দাবীতে আন্দোলনে নেমেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনউল্লেখ্য, গ্রামীণ ফৌনের ৩৮ শতাংশের মালিক হচ্ছে ডঃ মুহাম্মদ মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকমআর বাকী ৬২ শতাংশ নরওয়ে কোম্পানী টেলিনরের

গত ১৬ জুন গ্রামীণ ফৌনের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষএর আগে ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট চুক্তির বিভিন্ন ধারার অনুমোদন দেয়।  ৩০ বছর মেয়াদী চুক্তির আওতায় গ্রামীণ ফৌন টিএসসিতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ পাবে সেখানে একটি বেইস স্টেশন ও টাচ পয়েন্ট স্থাপনের সুবিধাও পাবে প্রতিষ্ঠানটিএসবের বিনিময়ে জিপি কর্তৃপক্ষ টিএসসির উন্নয়নে ৭০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেবে

গ্রামীণ ফৌনের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।  জোটের কর্মীরা ক্যাম্পাসে মিছিল শেষে বেলা ১২টার দিকে টিএসসি ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করেগ্রামীণ ফোনের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তির একটি অনুলিপি ইউকেবেঙ্গলির হাতে এসেছেতাতে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার পর এর মেয়াদ থাকবে ২০৩৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্তচুক্তি অনুযায়ী, টিএসসির সামনের চত্বরে 'শান্তির পাখি' ভাস্কর্য তৈরী ও সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য ২০ লাখ টাকা দেবে গ্রামীণফৌন এ-দুটি স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও ১০ লাখ টাকা দিবে তারাএর বিনিময়ে 'শান্তির পাখি' ভাষ্কর্যের নিচে মার্বেল পাথরের বেদীতে ব্র্যান্ডিংয়ের সুবিধা পাবে গ্রামীণ ফৌন এছাড়া টিএসসির দুই ফটকে নিজস্ব নকশা অনুযায়ী আরও দু'টি ভাষ্কর্য করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি

টিএসসি ক্যাফেটেরিয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার জন্য ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে চুক্তিতে এর বিনিময়ে ক্যাফেটেরিয়ার দেয়াল, পিলার ও অন্য অংশে গ্রামীণফৌনকে আজীবন ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ দেবে টিএসসি কর্তৃপক্ষ চুক্তি অনুযায়ী, টিএসসির ছটি বার্ষিক অনুষ্ঠান (বসন্ত উৎসব, বৈশাখী উৎসব, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ইত্যাদি) আয়োজনে গ্রামীণ ফৌন প্রতিবছর টিএসসিকে ১০ লাখ টাকা দেবেওইসব অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ পাবে

এসব সুবিধার পাশাপাশি টিএসসির এলাকার পূর্ব দিকের অব্যবহৃত অংশে সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী বা অস্থায়ী গ্রাহক সেবাদানকারী টাচ পয়েন্ট ও বেইস স্টেইশন করতে পারবে গ্রামীণ ফৌন কোম্পানী।  নিজস্ব লগো সম্বলিত ওই দুটি স্থাপনার জন্য টিএসসিকে মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে ভাড়া দেবে তারা।  চুক্তির সর্বশেষ শর্তানুসারে, ১ জুলাইয়ের মধ্যে টিএসসি এলাকা থেকে গ্রামীণ ফৌনের বিজ্ঞাপন ছাড়া অন্য যে-কোনো বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলতে হবেএছাড়া, ভবিষ্যতে যে-কোন অনুষ্ঠানে স্পন্সর হিসেবে গ্রামীণ ফৌনকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য থাকবে টিএসসি কর্তৃপক্ষ

টিএসসির পরিচালক আলমগীর হোসেন শনিবার এ-প্রতিবদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, 'চুক্তিতে গ্রামীণ ফৌনকে কোনো বিশেষ অধিকার বা ক্ষমতা দেওয়া হয়নিটিএসসির দীর্ঘ ইতিহাসে কোনো প্রতিষ্ঠান এর উন্নয়নে এগিয়ে আসেনিগ্রামীণফৌন এগিয়ে আসায় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছেচুক্তির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কিছুই আমরা করব না।' বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের পরিপন্থী কিছু হলে যে-কোনো সময় এ-চুক্তি বাতিলের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। এ-ব্যাপারে উপ-উপাচার্য আফম ইউসুফ হায়দারের সঙ্গে টেলিফৌনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।  তবে কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'চুক্তি হলেই-যে সব শেষ হয়ে গেলো, এমন তো নয়যে-কোনো সময় তা বাতিলের সুযোগ আছে'  এদিকে, প্রগতিশীল ছাত্রজোট চুক্তিটি বাতিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেজোটের শরিক বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানবেন্দ্র দেব শনিবার এ- প্রতিবেদককে বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পুঁজি করে একটি কর্পোরেইট  প্রতিষ্ঠান বাণিজ্য করবে, এটা মেনে নেওয়া যায় নাচুক্তিটি বাতিল না করলে সামনে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।'

টিএসসি-কেন্দ্রিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি শমী সুহৃদ স্মরণ বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শের সঙ্গে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আদর্শ কখনোই মিলে না ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র তো শিক্ষার্থীদের জন্যইঅথচ এ-কেন্দ্র সম্পর্কে এতো বড়ো একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোনো অংশগ্রহণ ছিলো না।'

বস্তুতঃ কাদের স্বার্থে ও কাদের ইন্ধনে হঠাৎ করেই গ্রামীণ ফৌনের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে নামমাত্র মূল্যে টিএসসির মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানকে ছেড়ে দেয়া হলো, সে-ব্যাপারে এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নিমাত্র সত্তর লক্ষ টাকার বিনিময়ে টিএসসিকে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারটিকে সিন্ডিকেটের কোনো বিবেচনায় অনুমোদন প্রদান করেছে সে-ব্যাপারটিও ভালোভাবে ঘেঁটে দেখার অবকাশ আছে বলে অনেকে মনে করছেন

ঢাকা থেকে আবদুর রহিম হারমাছি

২১ জুন, ২০০৮

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.