|
তথ্য বিভ্রান্তিতে লন্ডন মেয়র
বরিস জনসনঃ ক্ষুব্ধ কেন লিভিংস্টৌন
দুই
হাজার বারো সালের অলিম্পিকের খয়-খরচার ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলে
পূর্বসূরী ও সরকারের পক্ষ থেকে সমালোচনার মুখে পড়েছেন লন্ডন মেয়র বরিস জনসন।
বৃহস্পতিবার এক
সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অলিম্পিকের জন্য কী পরিমাণ অর্থ খরচ হবে, সে-ব্যাপারে
সাবেক মেয়র কেন লিভিংস্টৌন তেমন কোনো কাগজ-পত্র রেখে যাননি।
পরে অবশ্য জানা যায় যে,
অলিম্পিকের ব্যয়-নির্বাহ সংক্রান্ত তথ্যাদি শুধু সরকারী পর্যায়ে নয়, এমনকি
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষজনের জন্যেও সুলভ করে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিবিসি রেডিও ফৌরের টুডে প্রৌগ্রামের সাথে আলাপের এক পর্যায়ে,
লন্ডন- অলিম্পিকের ব্যয়ের ব্যাপারে সরকার ও পূর্বসূরী কেন
লিভিংস্টৌনের মধ্যে স্বাক্ষরিত মেমৌরেন্ডাম
অফ আন্ডারস্টান্ডিং-এর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে জনসন জানান, তিনি এ-ধরণের কোনো
নথিপত্র দেখতে পাননি।
একাধিকবার এ-সংক্রান্ত
প্রশ্নের এক-পর্যায়ে জনসন বলেন, এমন কোনো কিছু আদতেই আছে কি-না, সে-ব্যাপারে আমার
মধ্যে সন্দেহ আছে।'
পূর্বসূরীর প্রচ্ছন্ন
সমালোচনা করে জনসন আরও জানান, অলিম্পিকের খরচের ব্যাপারে সরকারের সাথে মেয়র অফিসের
যে-ঐকমত্য হয়েছে, তা ভীষণভাবে অস্পষ্ট।
এদিকে
জনসনের সাক্ষাতকারটি শেষ হতে না হতেই সরকারের ডিপার্টমেন্ট ফর কালচার, মিডিয়া
এান্ড
স্পৌর্টের পক্ষ থেকে টুডে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়।
টুডেকে জানানো হয়, জনসন
যে-মেমৌর অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন, তা ওয়েবসাইটেই খুঁজে পাওয়া যায়।
এর কিছু সময় পরে টুডে
কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করে কেন লিভিংস্টৌনের সাথে।
উত্তরসূরীর সমালোচনা করে
লিভিংস্টৌন জানান, প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত থাকার ক্ষেত্রে
ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন জনসন।
লিভিংস্টৌন বলেন,
'এ-ধরণের কথাবার্তাকে আমার কাছে উদ্ভট মনে হচ্ছে।
[আলোচ্য] মেমৌটি হাউস অফ
কমন্সের লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত হয়েছে;
এমপি থাকা অবস্থায় এটি
বরিসের দেখার কথা।
এছাড়াও এর একটি করে কপি
আমি লন্ডন
এাসেম্বলির
প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে বিলির ব্যবস্থা করেছিলাম।
এ-উদ্যোগটির খবর
মিডিয়াতেও প্রচার পেয়েছিলো।'
লিভিংস্টৌন জানান,
আলোচ্য মেমৌটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেনো-না, মেমৌতে বলা আছে
যে, অলিম্পিক আয়োজনের খরচ বাজেট অতিক্রম করলে, তার জন্য লন্ডনবাসীদের উপরে বাড়তি
বোঝা চাপানো হবে না।
নতুন
মেয়র যেভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, সে-ব্যাপারে নিজের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন
সাবেক মেয়র।
ডেইলী টেলিগ্রাফের নিয়মিত
কলামিস্টের দায়িত্ব পুনর্বার গ্রহণের যে-সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জনসন,
তার সমালোচনাও করেছেন
লিভিংস্টৌন।
তিনি মনে করেন, এভাবে লন্ডনের
মতো নগরীর মেয়রের দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করা যায় না।
উল্লেখ্য,
কলাম লেখক হিসাবে
বিভিন্ন সময়ে বর্ণ-বিরোধী বক্তব্যের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন জনসন।
তবে নির্বাচনী
প্রচারাভিযানকালে, বর্ণ-বিরোধিতার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার তিনি।
কিন্তু চলতি সপ্তাহে
লন্ডনের অন্যতম বৃহৎ সঙ্গীত উৎসব রাইজ থেকে বর্ণবাদ-বিরোধী বক্তব্য সম্প্রচার
বন্ধের ঘোষণা দিয়ে সমালোচকদের আরেক দফা মুখ খোলার সুযোগ করে দিয়েছেন জনসন।
লন্ডনঃ ১৯
জুন, ২০০৮ |