|
ইকুয়াটৌরিয়াল গিনিতে অভ্যূত্থানে
যুক্ত
ছিলেন মার্গারেট থ্যাচারের পুত্র
২০০৪
সালে পশ্চিম আফ্রিকার ইকুয়াটৌরিয়াল গিনিতে অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার সাথে সরাসরি জড়িত
ছিলেন ব্রিটেইনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের পুত্র মার্ক থ্যাচার।
অভ্যূত্থান প্রচেষ্টায় জড়িত ভাড়াখাটা সৈনিক সাইমন ম্যান বুধবার ইকুয়াটৌরিয়াল গিনির
আদালতে জানিয়েছেন এ-তথ্য।
উল্লেখ্য, তেল-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রটিতে অভ্যূত্থানের ব্যাপারে থ্যাচারের জড়িত থাকার
ব্যাপারে এ-প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারীদের কারও কাছ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া
গেলো।
থ্যাচার-পুত্র ছাড়াও বেশ ক'টি প্রভাবশালী দেশ অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার সমর্থক ছিলো
বলে তথ্য দিয়েছেন ম্যান।
বুধবার আদালতে
দাঁড়িয়ে ম্যান বলেন, 'থ্যাচার [অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার] শুধু একজন বিনিয়োগকারীই
ছিলেন না, তিনি এ-কার্য সাধণে নিযুক্ত গ্রুপটির নিবেদিত সদস্য ছিলেন এবং গ্রুপের
ব্যবস্থাপনা টীমের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন।'
ইকুয়াটৌরিয়াল গিনির তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যে
সাড়ে তিন লক্ষ মার্কিন ডলার খরচ দিয়েছিলেন বলেও আদালতকে জানিয়েছে ম্যান।
ম্যান
জানিয়েছেন, তিনি ও থ্যাচারের পুত্র মিলে দক্ষিণ আফ্রিকাতে অবস্থানকালে ইকুয়াটৌরিয়াল
গিনিতে অভ্যূত্থানের ব্যাপারে পরিকল্পনায় লিপ্ত হয়েছিলেন।
ম্যান
বর্তমানে জেল খাটলেও, মার্গারেট থ্যাচারের পুত্র কিন্তু দক্ষিণ স্পেইনে কড়া
নিরাপত্তাধীন অবস্থায় স্বাধীন জীবন যাপন করছে।
২০০৫
সালে থ্যাচার স্বীকার করেছিলেন যে, আলোচ্য দেশটিতে এক হেলিকপ্টার ক্রয়ের জন্য তিনি
অর্থ প্রদান করেছিলেন।
থ্যাচার
আরও জানিয়েছিলেন, তার দেয়া অর্থ ভাড়াটিয়া সৈনিকরা ব্যবহার করলেও করতে পারে।
এ-স্বীকারোক্তির জন্য তখন দক্ষিণ আফ্রিকাতে থ্যাচারকে সাড়ে চার লক্ষ ডলার জরিমানা ও
চার বছরের স্থগিত কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছিলো।
এ-আদেশ
প্রাপ্তির পর-পর স্পেইন চলে গিয়েছিলেন থ্যাচার।
এছাড়াও
অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার ব্যাপারে তার সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে কোন বিস্তারিত তথ্য দানে
অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি।
ইকুয়েটৌরিয়াল গিনি কর্তৃপক্ষ মার্ক থ্যাচারকে ধরার জন্য আর্ন্তজাতিক হুলিয়া জারীর
প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
সাইমন ম্যান
আরও জানিয়েছেন, স্পেইন ও সাউথ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও অভ্যূত্থানের ব্যাপারে
সমর্থন পাওয়া গিয়েছিলো।
এ-প্রসঙ্গে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে শেষোক্ত রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট থাবো এমবেকির নাম
উল্লেখ করেন।
ম্যানের
বক্তব্য অনুসারে, অভ্যূত্থানের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা দখলের ঘটনা ঘটানোর একদিনের মাথায়
স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলো স্পেইন।
এছাড়াও
অভ্যূত্থানকারীদের সমর্থনে বিপুল সংখ্যায় সামরিক-পুলিশ পাঠানোর ব্যাপারেও ২০০৪
সালের জানুয়ারী মাসেই মত দিয়ে রেখেছিলো দেশটি।
ম্যান
আদালতে যেসব কথাবার্তা বলেছেন, সে-ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকার
করেছেন ইকুয়াটৌরিয়াল গিনিতে নিযুক্ত স্পেইনের রাষ্ট্রদূত খেবিয়ের সাংরো।
ম্যান আরও
জানিয়েছেন, ২০০৪ সালের শুরুর প্রথম-অর্ধে প্রেসিডেন্ট তিয়েদোরো ওবিয়াংয়ের সরকারকে
অভ্যূত্থান-প্রচেষ্টাটির সাথে ইকুয়াটৌরিয়াল গিনির আর্মী, পুলিশ ও এমনকি ক্যাবিনেটের
কতিপয় সদস্যও জড়িত ছিলেন।
সিআইএ ও
মার্কিন তেল-কোম্পানীগুলো জড়িত থাকার ব্যাপারে তথ্য দান-কালে ম্যান জানান,
যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব বুঝার জন্য অভূত্থান প্রচেষ্টায় জড়িতদের মধ্যে একজন ওয়াশিংটন
সফর করেছিলেন।
ম্যানের
ভাষ্য অনুসারে, উক্ত ব্যক্তি ফিরে এসে জানিয়েছিলেন ইকুয়োটৌরিয়াল গিনির রাজনৈতিক
পরিস্থিতি অত্যন্ত অসন্তোষজনক এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক।
সুচারুভাবে একটি পরিবর্তন সাধন গেলে ওয়াশিংটনের সমর্থন পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছিলেন
সফরকারীটি।
উল্লেখ্য,
বুধবার
ইকুয়াটৌরিয়াল গিনির রাজধানী মালাবোর আদালতে টানা সাড়ে চার ঘন্টা ধরে জেরা করা হয়
ম্যানকে।
আদালতের
সামনে বক্তব্য দান-কালে সাজার মেয়াদ মওকুফ করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার আদালতের পক্ষকে ম্যানকে অভ্যূত্থান প্রচেষ্টায় জড়িত থাকার দায়ে বত্রিশ
বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছিলো।
কৃতকর্মের ব্যাপারে মনস্তাপ জানিয়ে ম্যান আদালতকে বলেন, '২০০৩ ও ২০০৪ সালে আমি যা
করেছি, তার জন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত।
আমরা যা
করতে চেয়েছি তা ব্যর্থ হবার কারণে আমি অত্যন্ত সুখী।'
স্মরণ
করা যেতে পারে, অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার সাথে জড়িত ম্যান ও তার সাথের একদল ভাড়াখাটা
সৈনিককে জিম্বাবুয়ে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।
লন্ডনঃ ১৭ জুন ২০০৮ |