|
দুর্নীতি
কমেনিঃ ট্র্যান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ
সেনা-সমর্থিত
তত্বাবধায়ক সরকারের সময়েও বাংলাদেশে দুর্নীতি কমেনি।
বিগত
রাজনৈতিক সরকারগুলোর সময়ে দেশটিতে যেভাবে দুর্নীতি হতো,
এখনও
সেই দুর্নীতির ব্যাপকতা অব্যাহত আছে।
বাংলাদেশে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলছে বলে সরকার দাবী করলেও বিগত দু-সরকারের আমলের
মতো দুর্নীতি এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছে দুর্নীতি পর্যবেক্ষণ সংস্থা
ট্র্যান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি)।
২০০৭ সালের জুন
ও জুলাই, এ-দু'মাসে দেশের ৬২ জেলায় গ্রাম-শহর মিলিয়ে মোট পাঁচ হাজার খানায় জরীপ
চালিয়ে টিআইবি বুধবার এ-তথ্য প্রকাশ করেছে।
টিআইবি
২০০৬-এর জুলাই থেকে ২০০৭-এর জুন পর্যন্ত সময়ের দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করেছে।
টিআইবি
বলেছে,
এ-সময়ে
বিভিন্ন খাতে সেবা পেতে জনগণকে ৫ হাজার ৪শো
৪৩ কোটি
টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।
দুর্নীতির ব্যাপকতা সবচে বেশি ছিলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থায়।
তবে
টাকার অঙ্কে সবচে বেশি দুর্নীতি হয়েছে ভূমি প্রশাসনে।
এ-খাতে
ঘুষ গ্রহণের পরিমাণ ছিলো এক হাজার ৬০৬ কোটি টাকা।
সংস্থাটির
নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
বিগত
দু-সরকারের আমলে দুর্নীতির যে-ব্যাপকতা ছিলো, এখনও সে-ব্যাপকতা অব্যাহত রয়েছে।
এটি
আমাদের জন্য অত্যন্ত নৈরাশ্যজনক চিত্র।
১/১১-এর
পর দেশে দুর্নীতি বেড়েছে না-কি কমেছে?
এ-প্রশ্নের জবাবে টিআইবির ট্রাস্টী বৌর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ
বলেন,
এখানে
যে-চিত্র দেখানো হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, কোনো-কোনো খাতে কমেছে।
আবার
কোনো-কোনো খাতে বেড়েছে।
তবে আমি
ব্যক্তিগতভাবে মনে করি,
১/১১-এর
পর দেশে ছোট-খাটো দুর্নীতি বেড়েছে।
বুধবার ঢাকায়
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংস্থাটির ওই জরীপ-প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনটির সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষক মোঃ ওয়াহিদ আলম।
দুর্নীতির
যে-চিত্র পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায়,
আইন
প্রয়োগকারী বাহিনীর কাজ থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশ খানাকে
দুর্নীতির শিকার হতে হয়েছে।
এরমধ্যে
গ্রেফতার এড়াতে গড়ে প্রতি খানাকে ১০,৯২৭
টাকা ঘুষ দিতে হয়।
এ-ছাড়া
এফআইআর করতে ৩,৯৮৩
টাকা,
পুলিসী
তদন্ত বা ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেইট নিতে ২,৬০৫
টাকা,
চার্জশীটের জন্য ১,৭০৩
টাকা,
জিডি
করতে ৭৯৫ টাকা এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য সেবা-গ্রহণ করতে গড়ে প্রতি খানাকে ৫,১২০
টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।
এ-খাতে
এক বছরে মোট ঘুষের পরিমাণ ছিলো ৮৭৯ কোটি টাকা।
অন্যদিকে
স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে সেবা নিতে ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে।
এ-খাতে
সেবা প্রদানে গড়ে ঘুষ গ্রহণের পরিমাণ যথাক্রমে বাড়ীর প্লান পাস করতে ৫,০০৫
টাকা,
টিউবওয়েল স্থাপনে ৩,১২০
টাকা,
ভিজিডি/ভিজিএফ কার্ড বিতরণে ৮৪০ টাকা,
সার
সংগ্রহণের সার্টিফিকেইট নিতে ৮২৮ টাকা,
ট্রেইড
লাইসেন্সে ৫০৫ টাকা,
বয়স্ক
ভাতার ক্ষেত্রে ৩১০ টাকা,
জন্ম,
মৃত্যু
ও নাগরিকত্ব সনদ প্রদানে ৮৪ এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য সেবা নিতে গড়ে ১,১৭২
টাকা।
এ-খাতে
এক বছরে ঘুষ গ্রহণের পরিমাণ ১৮৭ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে বলা
হয়,
টাকার অঙ্কে
সবচে বেশি দুর্নীতি হয়েছে ভূমি প্রশাসনে।
এ-খাতে
এক বছরে ঘুষ গ্রহণের পরিমাণ এক হাজার ৬০৬ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে দেখানো হয়,
বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতির ক্ষেত্রে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ খানা সেবা গ্রহণে দুর্নীতির
শিকার হয়।
এ-খাতে
এক বছরে প্রদত্ত ঘুষের পরিমাণ ছিলো ৬৭১ কোটি টাকা।
জরীপে
দেখা যায়,
সেবাগ্রহীতাদের
স্বাস্থ্য-খাতে
১০৭ কোটি টাকা ঘুষ প্রদান করতে হয়েছে।
এ-খাতে
৪৪ দশমিক ১ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে।
এর
মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপজেলা
¯^v¯’¨
কেন্দ্রে ঘুষের
হার ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
এ-সময়ে
শিক্ষা খাতে ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়।
এ-খাতে
প্রদত্ত ঘুষের পরিমাণ ১১৭ কোটি টাকা।
উলেখিত
এক বছরে বিদ্যুত খাতে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং এনজিও খাতে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ খানা
দুনীর্তির শিকার হয়।
এছাড়া
অন্যান্য সেবা খাতে দুনীর্তির শিকার হয়েছে ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ খানা।
প্রতিবেদনে
সময়-ভেদে ঘুষ প্রদানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে,
২০০৬
সালের
RyjvB-ডিসেম্বর
সময়ে
শিক্ষাখাতে ঘুষ প্রদানের হার যেখানে ছিলো ১২ দশমিক ৫ শতাংশ তা ২০০৭ সালের
জানুয়ারী-জুলাই সময়ে বেড়ে হয় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
স্বাস্থ্য-খাতে
২০০৬
সালের
RyjvB-ডিসেম্বর
সময়ে
ঘুষের হার ছিলো ৩২
শতাংশ।
২০০৭ সালের জানুয়ারী-জুলাই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশে।
ভূমি
প্রশাসনে খাতে ২০০৬ সালের
RyjvB-ডিসেম্বরে
সময়ে
ঘুষ প্রদানের হার ছিলো ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
২০০৭
সালের জানুয়ারী-জুলাই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ১ শতাংশে।
স্থানীয়
সরকার খাতে ২০০৬ সালের
RyjvB-ডিসেম্বর
সময়ে
ঘুষ প্রদানের হার ছিলো ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ।
২০০৭
সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশে।
এছাড়া
এনজিও খাতে ২০০৬ সালের
RyjvB-ডিসেম্বরে
সময়ে
ঘুষ প্রদানের হার ছিলো ৩৩ দশমিক ৩।
২০০৭
সালের জানুয়ারী-জুলাই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশে।
প্রতিবেদনে
দেশে দুর্নীতি রোধে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দুর্নীতিকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত
করা,
জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে
mgš^q
রেখে সরকারি
কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি-সহ মৌলিক প্রশাসনিক সংস্কার করা,
জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা, সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলোর সিটিজেন চার্টার জনমুখী
ও কার্যকর করার জন্য সেবাগ্রহীতাসহ অন্যান্য পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং
জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য দুর্নীতি-বিরোধী প্রচারণা ও
আন্দোলন জোরদার করা।
ঢাকা থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
১৮ জুন ২২০০৮ |