|
হামাস-ইসরায়েল
অস্ত্র-বিরতি শুরুর আগেই স্থায়িত্বের
অনিশ্চিয়তা
গাজাতে
হামাসের সাথে বহুলালোচিত অস্ত্র-বিরতি শুরুর আগেই এর কার্যকারিতার ব্যাপারে
নেতিবাচক সুরে কথা বলতে শুরু করেছে ইসরায়েল।
বুধবার
দেশটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ছ'মাস মেয়াদী সমঝোতাটি কতদিন
স্থায়ী হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরে মিসরীয় দূতিয়ালীতে গাজায় শান্তি আনার ব্যাপারে উভয় পক্ষের
সম্মত হবার খবর বেশ ফলাওভাবে প্রচার হয়েছিলো মঙ্গলবার।
সেদিনও
অবশ্য তেল আবিবের পক্ষ থেকে আসা কথাবার্তাতে খানিকটা নির্লিপ্তভাব লক্ষ্য করা
গিয়েছিলো।
আর
বুধবার ইসরায়েলের সরকারের প্রধানের পক্ষ থেকে যে-ধরণের কথাবার্তা বলা হয়েছে, তাতে
অস্ত্র-বিরতির ভবিষ্যত কেমন হবে তা নিয়ে স্পষ্ট অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বুধবার
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট জানান বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকলা ছ'টা
থেকে শুরু হতে যাওয়া অস্ত্র-বিরতির পর্বটি হতে পারে ক্ষণস্থায়ী।
আর
অস্ত্র-বিরতি যদি ব্যর্থ হয়েই যায়, তাহলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইসরায়েলী বাহিনীর
প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে দিতেও ভুলে যাননি ওলমার্ট।
তিনি
বলেন, [হামাসের
সাথে] অস্ত্র-বিরতি সংক্রান্ত সমঝোতার ভঙ্গুরতা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন মোহ কাজ করছে
না।'
এ-প্রসঙ্গে ওলমার্টের দাবী, হামাস তার অবস্থানে কোনো ধরণের পরিবর্তন আনেনি।
তবে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর আশা, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সমঝোতাটি সফল হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েল হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসাবে মনে করে।
হামাসের
প্রতি হুমকি ব্যক্ত করে ওলমার্ট বলেন, 'যদি সন্ত্রাস চলতে থাকে, তাহলে সে-ভীতি
দূরীকরণের জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে।'
অবশ্য,
বৃহস্পতিবার থেকে অস্ত্র-বিরতি সংক্রান্ত সমঝোতাটি ঠিকঠাকভাবে কাজ করতে শুরু করলে,
গাজার উপর থেকে অবরোধ শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষ।
এখানে স্মরণ
করা পারে, হামাসের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বেশ ইতিবাচক কথাবার্তা বলা হলেও, ইসরায়েল
জানিয়েছে, আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে সে-অর্থে তেমন কোনো অস্ত্র-বিরতি চুক্তি হয়নি।
বরং তেল
আবিবের মতে, যা মঙ্গলবার যা হয়েছে, তা হলো গাজার ব্যাপারে ইসরায়েল ও হামাস, 'মিশরের
সাথে একটি বোঝাপড়ায় উপনীত হতে সক্ষম হয়েছে।'
এদিকে
হামাস জানিয়েছে, অস্ত্র-বিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা থেকে সরে আসার কোনো ছুঁতো ইসরায়েলের
হাতে তুলে দেয়া হবে না।
সংগঠনটির নেতা ইসমাইল হানিয়া জানিয়েছেন, অস্ত্র-বিরতি সংক্রান্ত সমঝোতাটি উভয়
পক্ষের স্বার্থই সংরক্ষণ করবে।
এদিকে ওয়াইট
হাউসের পক্ষ থেকেও হামাস-বিরোধী আরেক দফা কথাবার্তা বলা হয়েছে।
বুধবার
ন্যাশনাল সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র গর্ডন জনদ্রি বলেন, 'আমরা আশা করি নির্দোষ
ইসরায়েলীদের উদ্দেশ্য আর কোন রকেট ছুঁড়বে না হামাস।'
ফিলিস্তিনীদের উপরে ইসরায়েলী হামলার ব্যাপারে অবশ্য কোনো বক্তব্য দানে ব্যর্থ
হয়েছেন মুখপাত্রটি।
তবে
সর্বশেষ বুঝাপড়ার ফলে ইসরায়েলের সাথে মাহমুদ আব্বাসের আল ফাত্তাহ'র ফিলিস্তিন
সংক্রান্ত শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে বলেই মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সংবাদ-মাধ্যম
সূত্রে জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া অস্ত্র-বিরতির ব্যাপারে
সীমান্তের দু'পারের লোকজনের মধ্যেও তেমন কোনো আস্থার মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
বিশেষ-করে, অস্ত্র-বিরতি শুরু হবার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগেই দক্ষিণ ইসরায়েলে কয়েক ডজন
মর্টার ও রকেট নিক্ষেপ করেছে ফিলিস্তিনীরা।
অন্যদিকে, উত্তর গাজাতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলীরা।
লন্ডনঃ ১৮ জুন, ২০০৮
|