|
বাংলাদেশে সংলাপঃ স্থানীয় নির্বাচনের আগে সংসদ নির্বাচন চায়
সাম্যবাদী দল
বাংলাদেশে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য
সেনা-সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছে সাম্যবাদী দল (এম-এল)।
একইসঙ্গে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার;
দুর্নীতি-বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা;
দুর্নীতিবাজরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে;
দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা;
জাতীয়
নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা এবং
গ্রামের
দরিদ্রদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু-সহ মোট ২৯ দফা প্রস্তাব করেছেন দলটির নেতারা।
মঙ্গলবার
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে সাম্যবাদী দলের পক্ষ
থেকে এসব দাবী করা হয়েছে বলে বেঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ
বড়ুয়া জানিয়েছেন।
সংবাদ
সম্মেলনে সরকারের পক্ষে শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান সংলাপ ও
অন্যান্য বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
সংলাপে
সরকারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দীন আহমদ ও সামবাদী দলের পক্ষে
দিলীপ বড়ুয়া।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া সংলাপে আলোচিত বিষয় সম্পর্কে বলেন,
'সংলাপে আমরা ট্রেড ইউনিয়নের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া,
জরুরী
অবস্থা প্রত্যাহার,
দুর্নীতি-বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা,
দুর্নীতিবাজরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে,
দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা-সহ বেশ কিছু দাবী
জানিয়েছি।'
তিনি আরও বলেন,
স্থানীয়
সরকার নির্বাচনের আগে আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেওয়ার দাবী জানিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে
শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন,
'আমরা
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করছি।
আমাদের
কাজগুলোকে বিচ্ছিন্ন কোনো দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়,
সামগ্রিক দৃষ্টিতে দেখতে হবে।
প্রধান
উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে সাম্যবাদী দলের (এম-এল) নেতারা জাতীয় নির্বাচনের
সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা,
গ্রামের
দরিদ্রদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু-সহ ২৯ দফা প্রস্তাব করেছেন।'
ব্রীফিংয়ের এক
পর্যায়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জিল্লুর রহমানকে জিজ্ঞেস করা হয়
শেখ হাসিনার
মতো খালেদা জিয়াকেও মুক্তি দেয়া হচ্ছে কি-না এবং তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত
রহমান কোকোও মুক্তি পাবে কি-না। উত্তরে জিল্লুর রহমান বলেন, 'আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি
পরিষ্কার।
আমরা
দুটি বিষয় বিবেচনায় নিয়েছি,
এর একটি
হচ্ছে আইনী প্রক্রিয়া সমন্নুত রাখা এবং অন্যটি মানবিক দিক।
আমাদের
দৃষ্টিভঙ্গির কোন পরিবর্তন হয়নি,
আগে যা
ছিলো এখনও তা আছে।'
সংলাপে
আওয়ামীলীগের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামীলীগ তাদের প্রতিনিধিদের নাম
পাঠিয়েছে।
সংলাপের
একটি দীর্ঘ স্ক্যাডুয়েল আমাদের হাতে রয়েছে।
এখন
সুবিধামতো সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের জন্য দিন-ক্ষণ নির্ধারণ করে নেয়া হবে।'
সংলাপে
বিএনপির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি,
এখন
তাদের উত্তরের জন্য ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।
আমরা
সবাইকে নিয়ে এগুতে চাই।'
সাংবাদিকদের
সঙ্গে কথা বলার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যোগাযোগ উপদেষ্টা গোলাম কাদের, স্থানীয় সরকার
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল এবং সাম্যবাদী দলের পক্ষে লুৎফর
রহমান,
আবু
আহমেদ,
এাডভোকেইট
বীরেন সাহা ও হারুন চৌধুরী।
ঢাকা থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
১৭ জুন, ২০০৮ |