|
গাজাতে অস্ত্র-বিরতিতে সম্মত
ইসরায়েল-হামাসঃ
মধ্যস্থতা মিশরের
নিষেধাজ্ঞা-অবরোধের
শিকার গাজাতে সাময়িক অস্ত্র-বিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনী সংগঠন হামাস।
আগামী দুইদিনের মধ্যে এই
সমঝোতা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী মিশর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার মিশরের বিদেশ
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাসের পর মাস ধরে চেষ্টা চালানোর পর, পরস্পরের বিরুদ্ধে
সামরিক হামলা বন্ধের ব্যাপারে উভয় পক্ষকে রাজী করানো সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার
হামাস জানিয়েছে, মিশরের দূতিয়ালীতে ইসরায়েলের সাথে সামরিক অনাক্রমণের ব্যাপারে তারা
রাজী হয়েছে।
বৃহস্পতিবার থেকে সমঝোতা
কার্যকর হবার খবরটির সত্যতাও স্বীকার করেছে হামাস।
হামাসের অন্যতম শীর্ষ
নির্বাহী খলিল আল বতুত সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, সমঝোতার মেয়াদ হবে কমপক্ষে ছয়
মাস।
তবে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, তারা অপেক্ষা করা ও দেখার নীতি অবলম্বন করেছেন।
হামাসের ব্যাপারে
সন্দেহের ইঙ্গিত দিয়ে ইসরায়েল জানিয়েছে সমঝোতা কার্যকর হবার পরে পরিস্থিতি কোনদিকে
গড়ায় সেদিকে নজর রাখা হবে।
দেশটির
প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারকের পক্ষ থেকেও একই ধরণের কথাবার্তা বলা হয়েছে।
অস্ত্র-বিরতি সংক্রান্ত
বুঝাপড়াটি কতো দিন স্থায়ী হবে, সে-ব্যাপারে কোনো আগাম মন্তব্য করায় অস্বীকৃতি
জানিয়েছেন বারাক।
ইসরায়েল আরও জানিয়েছে মিশরের
মধ্যস্থতায় অস্ত্র-বিরতিতে সম্মতি দেয়া হলেও সেনাবাহিনীকে যথারীতি সতর্কাবস্থায়
রাখা হয়েছে।
জানা
গেছে,
উভয় পক্ষের মধ্যেকার সমঝোতার
ব্যাপারটি কার্যকর হলে,
দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ
হয়ে থাকা গাজার সীমান্ত খুলে দেবে ইসরায়েল।
এতে-করে মিশর সংলগ্ন
রাফা সীমান্ত উন্মুক্ত হয়ে যাবার সর্বাঙ্গীন সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে।
উল্লেখ্য,
রাফা ছাড়াও গাজার বাকী
সবগুলো সীমান্ত এলাকা ইসরায়েল সংলগ্ন।
মাসের পর মাস ধরে
ইসরায়েলের অবরোধের মধ্যে থাকা গাজার ফিলিস্তিনীদের মধ্যে জীবন-ধারণের জন্য নুন্যতম
প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রীর চূড়ান্ত অভাব বিরাজ করছে।
রাফা উন্মুক্ত হলে,
এ-সমস্যার কিছুটা সমাধান
ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্মরণ করা যেতে পারে,
গত বছর প্রতিদ্বন্দ্বী
আল ফাত্তাহকে বিতাড়িত করে গাজার উপরে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে হামাস।
মঙ্গলবারের তথ্যমতে,
অস্ত্র-বিরতি কার্যকর
হবার এক সপ্তাহের মাথায় রাফা খোলার ব্যাপারে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ,
হামাস,
ইউরৌপীয়ান ইউনিয়ান ও
মিশর কর্তৃপক্ষ বৈঠকে বসবে।
উল্লেখ্য,
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট
ও আল ফাত্তাহ প্রধান মাহমুদ আব্বাস জানিয়েছে, সীমান্ত সম্পর্কিত ব্যাপারে
ফিলিস্তিনীদের পক্ষে কথাবার্তা বলার এখতিয়ার [হামাস নয়] শুধুমাত্র তারই আছে।
হামাস গাজা দখল করে
নেয়ার আগে,
ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ,
ইসরায়েল ও ইউরৌপীয়ান
ইউনিয়নের মধ্যে রফার ভিত্তিতে মিশর সংলগ্ন রাফা সীমান্তটি খোলা রাখা হতো।
মঙ্গলবার
আরও জানা গেছে, রাফা খোলার ব্যাপারে আলোচনায় আল ফাত্তাহকে যুক্ত রাখায় হামাসের পক্ষ
থেকে সম্মতি আসার ফলশ্রুতিতে মাহমুদ আব্বাসের প্রেরিত একদল প্রতিনিধি রামাল্লা থেকে
গাজা গেছেন।
হামাসের হাতে গত বছর বিতাড়িত
হবার পরে ফাত্তাহ'র লোকজন এ-প্রথমবারের মতো গাজাতে ঢুকলেন।
তবে প্রতিনিধি দলটি
হামাস নেতৃত্বের সাথে দেখা করেছে কি-না, তা সর্বশেষ খবর পর্যন্ত জানা যায়নি।
এদিকে,
ইসরায়েল ও হামাসের
মধ্যেকার অস্ত্র-বিরতির ব্যাপারে কোনো ধরণের প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াইট হাউসের পক্ষ ঘোষণাটিকে
স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছেঃ কোনো ধরণের প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে সমঝোতার ব্যাপারে
আমরা পুরোপুরি জানতে চাই এবং ঐ-এলাকায় জনগণের প্রতিক্রিয়ার ধরণ বুঝতে চাই।
তবে ইসরায়েলের সাথে
সমঝোতা হবার কারণে হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার কোন
সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছে বুশ প্রশাসন।
লন্ডনঃ ১৭
জুন, ২০০৮
|