|
পাকিস্তানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হবে
পিপিপি থেকেঃ আশা
জারদারীর
ঘরে-বাইরে
টালমাটাল এক পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
প্রতিবেশী আফগানিস্তানের
সাথে উত্তেজনার সময়টিতে, সোমবার নতুন এক তথ্য পরিবেশন করেছেন পাকিস্তানের ক্ষমতাসীল
দল পিপিপি'র প্রধান ব্যক্তিত্ব আসিফ আলী জারদারী।
তিনি জানিয়েছেন, দেশের
পরবর্তী প্রেসিডেন্ট আসবেন তার দল থেকে।
এদিকে, প্রতিবেশী
আফগানিস্তানের সাথে দেশটির সম্পর্ক আরেক দফা অবনতির দিকে যাবার খবর পাওয়া গেছে
সোমবার।
সোমবার
লাহোরে কয়েক হাজার দলীয় সমর্থকের সামনে দেয়া ভাষণে গত ডিসেম্বরে আততায়ীর হাতে নিহত
প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভূট্টোর স্বামী ও পিপিপি প্রধান জারদারী বলেন, 'সেদিন আর দূরে
নয়, যখন আল্লাহ চাহেতো পিপিপি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বাছাই করে নেবে।'
জারদারী কথা শুনে লোকজন
তুমুল হর্ষধ্বনি করতে শুরু করেন বলে জানিয়েছে সংবাদ-মাধ্যম।
এছাড়াও পিপিপি-সমর্থকরা
এ-সময় বেনজিরের স্মরণে স্লৌগান দেয়।
উল্লেখ্য, পার্লামেন্টের
দ্বিতীয় বৃহত্তম দল সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরীফের পক্ষে মুশাররফের পদত্যাগ,
এমনকি অভিশংসনের ব্যাপারে টানা দাবী উত্থাপন করা হচ্ছে।
পক্ষান্তরে পিপিপি
এ-ব্যাপারে ধীরে-চলার নীতি অনুসরণ করছে।
মার্কিন প্রশাসনের
মুশাররফ-প্রীতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পিপিপি এ-ধরণের অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে মনে
করা হয়।
এছাড়াও, মুশাররফ-বিরোধী অবস্থান
নিলে ওয়াইট হাউসের কোপানলে পড়তে হয় কি-না, সে-ব্যাপারেও জারদারীর মধ্যে ভীতি কাজ
করছে বলে মনে করা হয়।
এসব দিক থেকে দেখলে,
জারদারীর সোমবারের ঘোষণাকে পিপিপি'র নতুন অবস্থানের ইঙ্গিত হিসাবেই দেখতে চাইছেন
কোনো-কোনো বিশ্লেষক।
উল্লেখ্য, দু'মাস আগে পিপিপি'র নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবার পর থেকে কিছুটা পিছ-পা
অবস্থায় আছেন মার্কিন সমর্থন-প্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ।
তবে শরীফের পক্ষ থেকে
অভিশংসন দাবী করা হলেও, পিপিপি'র পক্ষ থেকে তেমন কোনো দাবী না তোলায়, কিছুটা হলেও
স্বস্তির মধ্যে আছেন মুশাররফ।
পিপিপি অভিশংসনের উদ্যোগ
নেয়ার পরিবর্তে, মুশাররফকে বিতাড়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়াসী।
শুক্রবার, মুশাররফকে
ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবীতে গত শুক্রবার শরীফের দলের সহায়তায় আইনজীবীদের বড়ো ধরণের
বিক্ষোভ কর্মসূচির পর প্রথম মুখ খুললেন জারদারী।
তবে
পিপিপি থেকে নয়া পাক-প্রেসিডেন্ট আসার কথা বললেও, বিভিন্ন ইস্যুতে অস্পষ্ট
কথাবার্তা বলেছেন জারদারী।
যেমন, মুশাররফের হাতে
বরখাস্ত হওয়া বাহাত্তর বিচারককে স্বপদে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারটি নিয়ে সোমবার কোনো
বক্তব্য পেশ করায় ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
এছাড়াও,
গণতান্ত্রিক সংস্কার
বিষয়ক জনদাবী প্রসঙ্গেও তেমন কিছু বলতে পারেননি জারদারী।
কারও নাম-ধাম উল্লেখ করা
ছাড়াই জারদারী জানান, তার দল পাকিস্তানকে 'দখলদারদের নিয়ন্ত্রণ' থেকে মুক্ত করবে।
জারদারী বলেন, 'আমাদের
আগামী প্রজন্মের স্বার্থে আমরা প্রতিজ্ঞা করছি যে, পাকিস্তানকে আমরা একটি
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করবো।'
অভ্যন্তরীণ বিষয়াদিতে জারাদারীর সোমবারের কথাবার্তার বাইরে আফগানিস্তানের সাথে
পাকিস্তানের সাথে আরেক দফা খারাপ হবার খবর পাওয়া গেছে।
পাক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ
রাজা জিলানী জানিয়েছেন, তার দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অন্য কারও মাথা গলানোর
ব্যাপারটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।
উল্লেখ্য, তালেবানদের
খুঁজে বের করার জন্য পাক সীমানার ভিতরে সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন আফগান
প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তিনি বলেছিলেন যে, আফগান সীমাস্তের ভিতরে কোনো ধরণের
অনুপ্রবেশ এখন থেকে সহ্য করা হবে না।
গত সপ্তাহে পাক জঙ্গীদের
হাতে আফগান জনগণ ও বহুজাতিক বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির পাল্টা জবাবদান-কালে
পাকিস্তানে সেনা প্রেরণের এ-হুমকি দিয়েছিলেন কারজাই।
এ-প্রসঙ্গে জিলানী
সোমবার বলেন, 'এ-ধরণের কথাবার্তা দু'দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্কের
ক্ষেত্রে কোনোভাবেই সহায়ক হবে না।'
আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে
আসা জঙ্গী তৎপরতা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, এ-ব্যাপারে সব-ধরণের প্রচেষ্টা
চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী
অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানতম দুই মিত্র দেশের মধ্যেকার উত্তেজনা কোন্ দিকে মোড়
নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন পর্যবেক্ষকরা।
লন্ডনঃ ১৬
জুন, ২০০৮ |