|
বাংলাদেশে মাগুরছড়া কাণ্ডের
১১
বছরঃ
ক্ষতিপূরণের
সুরাহা হয়নি
বাংলাদেশে
মাগুড়ছড়া গ্যাস-ফীল্ডে
বিস্ফোরণের এগারো বছর পূর্ণ
হয়েছে ১৪ জুন। এতো বছরেও বিস্ফোরণের ক্ষতিপুরণ আদায়ের
কোনো
সুরাহা হয়নি। বছর ঘুরে জুন মাস এলেই মিডিয়ায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আলোচিত হয়। পরে তা
ধামাচাপা পড়ে যায়।
স্মরণ
করা যেতে পারে, সিলেটের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া রিজার্ভ ফরেস্টে অবস্থিত মাগুরছড়ায় ১৯৯৭
সালের ১৪ই জুন গভীর রাতে গ্যাস কূপে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে রেল, সড়কপথ, বন,
খাসিয়া সম্প্রদায়ের অনেকের ঘর-বাড়ী ও পানের পুঞ্জি-সহ এলাকার বৈদ্যুতিক লাইন ও
টেলিফৌন লাইনের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এছাড়া গ্যাসকূপের প্রায় ২৪৫.৮৬ বিসিএফ ঘনফুট
গ্যাস পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরিবেশ মন্ত্রণালয় পুরো হিসাব মিলিয়ে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ
৬০৯ কোটি টাকা নিরূপণ করে মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টালের কাছে দাবী জানায়।
বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয় ওই কোম্পানীর কাছে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি তুলে ধরে। কিন্তু
এ-টাকা অতিরিক্ত ও মনগড়া এ-অজুহাত তুলে অক্সিডেন্টাল প্রকৃত ক্ষয়-ক্ষতি ২৪ কোটি
টাকা বলে জানায়। এ-২৪ কোটি টাকা বনজ সম্পদ ও পরিবেশগত ক্ষতি বলে উল্লেখ করার পর
আবারও রহস্যজনকভাবে পুরোপুরি নীরব হয়ে
পড়ে। মাগুরছড়া
অগ্নিকান্ডের ফলে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের ১৫ কিলোমিটার (৩৩ কেভি) উচ্চ-চাপ
বৈদ্যুতিক লাইন পুরোপুরি পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে কুলাউড়া, বড়লেখা ও কমলগঞ্জ
উপজেলার ৫০টি চা-বাগানে দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সঙ্কট দেখা দেয়। অগ্নিকান্ডে
ক্ষতিগ্রস্ত ২২টি খুঁটি, ইন্সুলেটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি পাল্টিয়ে লাইন আবার
মেরামতের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে অক্সিডেন্টালের কাছে আবেদন জানানো হয়। অনেক
দর-কষাকষির দেড় বছর পর অক্সিডেন্টাল এ-পর্যায়ে
৪৭ লাখ টাকা দিতে রাজী
হয়। এতে বিদ্যুৎ বিভাগ লাইন মেরামত কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বানের
প্রস্তুতি নেয়।
অক্সিডেন্টালের জায়গায় ইউনোকলের আগমনের পরেও চলতে থাকে পূর্বাবস্থা। ইউনিকল দায়িত্ব
নেয়ার পর থেকেই ক্ষয়-ক্ষতি পূরণের বিষয়ে নানা
সময় নিতে শুরু করে।
তারা
এক সময় ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব
নিরূপণের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে
একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে হিসাব দেয়ার
দাবী
জানায়। জানা যায়, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ইউনিকলের
দাবী
মেনে নিয়ে নিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়টি প্রায় চুড়ান্ত করে নেয়। কিন্তু
নিরপেক্ষ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন নিয়ে দ্বিমতের সৃষ্টি হয়।
এ-অবস্থায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এক সময় চাপা পড়ে যায়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ
সমিতির দেয়া রিপৌর্ট থেকে জানা যায়, লাউয়াছড়া রিজার্ভ ফরেস্টের ৮৭ দশমিক ৫০ একর
এলাকা গ্যাসের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত
হয়। সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ একর
জমিতে ৪,৭৫০ ঘনফুট
গাছ-গাছালি, ৫৫,২০০টি পরিপক্ক বাঁশ এবং ১ লাখ
১৫ হাজার অপরিপক্ক বাঁশ
পুড়ে যায়। এ-ক্ষতির
পরিমাণ ৫ কোটি টাকা। এছাড়াও
২৬ একর জমির বহু
মূল্যবান গাছ সম্পূর্ণ ও
আংশিক পুড়ে যায়।
একইভাবে
৪১ দশমিক ৫০ একর জমির
২২,৮২৫ ঘনফুট গাছ-গাছালিরও আংশিক ক্ষতি ধরা হয়। বিস্ফোরণের পর গ্যাস-কূপ
সিল-গালা করে দিয়ে এলাকায় মাটি
ভরাট করে নতুন করে
ঘাস এবং পাহাড়ের আশপাশে কদম গাছ লাগানো হয়। কিন্তু তারপরও ধ্বংসস্তুপের অনেক চিহ্নই
মুছে ফেলা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন,
ক্ষতিপূরণ দিলেও
বিস্ফোরণের কারণে
পরিবেশগত যে-ক্ষতি হয়েছে,
তা
কোনোভাবেই
পূরণ করা সম্ভব নয়।
শাহাবুদ্দিন শুভ সিলেট থেকে
১৬ জুন, ২০০৮ |