|
নিজের মুক্তি ও দুই পুত্রের
বিদেশে চিকিৎসার দাবী খালেদা জিয়ার
কোনো
শর্তে নয়, মুক্তি নিয়ে দেশেই নিজের চিকিৎসা করাতে চান বাংলাদেশের
প্রাক্তন
প্রধানমন্ত্রী
ও
বিএনপির
চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
তবে
তার
কারাবন্দী
ও
অসুস্থ
দু'ছেলেকে চিকিৎসার জন্য
দ্রুত বিদেশে পাঠানোর দাবী জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার
দুপুরে সংসদ ভবনের বিশেষ আদালত-৩-এ
গ্যাটকো মামলায় উপস্থিত হয়ে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের সামনে উপরোক্ত অভিপ্রায় ব্যক্ত
করে খালেদা বলেন, 'কোনো শর্ত নয়, আমি দেশেই চিকিৎসা করাবো।
আমার দুই ছেলেকে বিদেশে
পাঠাতে হবে।
আইন সবার জন্য সমান হতে হবে।'
গ্যাটকো মামলায় সোমবার
সকাল পৌনে ১১টায় খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, খন্দকার
মোশাররফ হোসেন, এম শামসুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার ও মতিউর রহমান নিজামী-সহ ১৭ জনকে
আদালতে হাজির করা হয়।
সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে
বিচারক শাহেদ নুরউদ্দিন আদালতে আসার পর কার্যক্রম শুরু হয়।
এক ঘন্টার বেশি সময়
আদালত চলার পর আগামী ২৪ জুন পরবর্তী শুনানির
দিন ধার্য করা হয়।
খালেদা জিয়ার পক্ষে তার
আইনজীবী
এাডভোকেইট
আবদুর রেজ্জাক খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার বক্তব্য
রাখেন।
আদালত
শেষ হওয়ার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়া তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও কোকোর
অসুস্থতার জন্য সরকারকে দায়ী করে বলেন,
'এ সরকারই আমার দুই ছেলের এ-অবস্থা করেছে।
তাদের সুচিকিৎসা দেশে
সম্ভব নয়।
তাদের বিদেশে পাঠাতে হবে।
আমি সরকারের কাছে দাবী
জানাবো,
তাদের
দ্রুত বিদেশে পাঠান।'
দেশের বর্তমান দ্রব্যমূল্য-পরিস্থিতি
ও জীবনযাত্রার উচ্চ-ব্যয়ে
উদ্বেগ প্রকাশ করে
প্রাক্তন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশে দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছে।
এভাবে দেশ চলতে পারে না।
তাই আমরা কোনো সিলেকশন
নয়, অবিলম্বে নির্বাচন চাই।
এজন্য জরুরী অবস্থা
প্রত্যাহার করতে হবে।'
এরপর আদালতের আদেশ
নিয়ে
খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন-সহ আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ৪০ মিনিট কথা বলেন।
বেলা ১টা
২০ মিনিটে বেগম জিয়াকে
বিশেষ কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
খালেদা
জিয়ার আইনজীবীরা সুপ্রিম কৌর্টের আপীল বিভাগের 'শুনানি একমাস অপেক্ষমান থাকার
আদেশ আদালতে উপস্থাপন
করে বলেন, 'যেহেতু হাইকৌর্টে মামলাটি একমাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে আপীল বিভাগ
বলেছেন,
সেহেতু আদালতে এ-ব্যাপারে
মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকা প্রয়োজন।'
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী
এস গোলাম হাফিজ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করার বিরোধিতা করে বলেন, 'সুপ্রিম কৌর্টে
আদেশের কপি
আমরা পাইনি।
এ-অবস্থায় মামলাটির
অভিযোগ গঠনের শুনানি হতে বাধা নেই।'
আসামী পক্ষের আইনজীবীরা
এর বিরোধিতা করে আদালতে বলেন,
'আপীল
বিভাগের আদেশ অনুযায়ী এক মাস
দেরী
হলে এ-মামলা
চলে যাবে না।
অবশ্যই সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ
মানতে হবে।
রোববার আপীল বিভাগ গ্যাটকো
মামলার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের শুনানি এক মাস অপেক্ষমান রাখার আদেশ দেন।
খালেদা
জিয়ার পক্ষ থেকে তার
দুই পুত্রকে
বিদেশ পাঠানোর
আহবান আসার আগে রোববার তারেক
রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকেও সরকারের প্রতি একই আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য,
তারেক
রহমানকে চিকিৎসার জন্য
বিদেশ পাঠাতে তার
স্ত্রী-কন্যার পক্ষ থেকে আবেদন
করা হয়েছে।
রোববার
দুপুরে
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং
স্বরাষ্ট্র
সচিবের কাছে এ-আবেদন জমা দেয়া
হয়।
তারেকের আইনজীবী ব্যারিস্টার
নওশাদ জামির-সহ কয়েকজন আইনজীবী
স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে এসে উপদেষ্টা এবং
সচিবের সঙ্গে দেখা করে তারেকের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের পক্ষে আবেদন জমা দেন।
তারেক রহমানের মেয়ে
জায়মা রহমানও বাবার মুক্তির জন্য এ-আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।
সাক্ষাত
শেষে ব্যারিস্টার নওশাদ জামির সাংবাদিকদের বলেন, 'তারেক রহমানের বিদেশে উন্নত
চিকিৎসার জন্য তার স্ত্রী এবং মেয়ের পক্ষ থেকে
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং
স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে
আবেদন-পত্র
জমা দিয়েছি।
তার
স্বাস্থ্য পরীক্ষার
রিপৌর্টের ভিত্তিতে এ-আবেদন মঞ্জুর এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা সরকারের
কাছে অনুরোধ করেছি।'
তিনি বলেন, 'আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে বলেছি, দেশীয় চিকিৎসায়
তারেক রহমানের উন্নতি হচ্ছে না, তাই তাকে বিদেশে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন'।
এ-ব্যাপারে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে
বলে উপদেষ্টা এবং সচিব আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।'
কোকোর চিকিৎসার জন্য
আবেদন করা হয়েছে কি-না
জানতে চাওয়া হলে, নওশাদ
বলেন, 'আমরা তার বিষয়ে আবেদন করিনি।
তবে তার পরিবারের পক্ষ
থেকে সম্ভবতঃ আবেদন করা হয়েছে।'
গত বছরের
৭ মার্চ তারেক রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রৌডের বাসা থেকে আটক করা হয়।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও
চাঁদাবাজি-সহ
বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে।
তারেক রহমান বর্তমানে
বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার ঘুষ নেয়ার একটি
মামলায় অসুস্থতার জন্য হাজির করা হয়নি তাকে।
গত বছরের ২
সেপ্টেম্বর
রাত ১১টায় তেজগাঁও থানায়
দুর্নীতি দমন কমিশন গ্যাটকো মামলা দায়ের করার কয়েক
ঘণ্টা পর যৌথবাহিনী
খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।
গ্যাটকো মামলায় অভিযুক্ত
২৪ জনের মধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে কোকো-সহ ১৭ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন। এছাড়া
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম
সাইফুর রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-সহ সাত আসামী
দেশের বাইরে রয়েছেন।
মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ
মোঃ আজিজুল হক গত ২৮ মে মামলার নথিপত্র বিচারের জন্য বিশেষ আদালত-৩-এ
পাঠান।
দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ও
ঢাকার
কমলাপুরের পণ্যবাহী কন্টেইনার
ডিপো পরিচালনার দায়িত্ব গ্লৌবাল এগ্রৌ ট্রেইড কোম্পানীকে (গ্যাটকো) দেয়ার অভিযোগে
খালেদা জিয়া ও কোকো-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২
সেপ্টেম্বর ঢাকার
তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
মামলা দায়েরের সময়
খালেদা জিয়া ছাড়া সাবেক কোনও মন্ত্রীকে আসামী করা হয়নি।
তদন্ত শেষে গত ১৩ মে
ঢাকার মহানগর হাকিমের আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের
উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল হুদা।
এতে আগের ১৩ জনের সঙ্গে
জোট সরকারের ৯
মন্ত্রী-সহ মোট ২৫ জনকে আসামী করা হয়।
আসামীদের মধ্যে সাবেক
নৌমন্ত্রী আকবর হোসেন মারা যাওয়ায়, তাকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেন মামলার তদন্ত
কর্মকর্তা।
পরে আদালত প্রয়াত আকবর
হোসেনকে মামলা থেকে
অব্যাহতি দিলে আসামীর সংখ্যা ২৪-এ
দাঁড়ায়।
আবদুর রহিম
হারমাছি ঢাকা থেকে
১৬ জুন,
২০০৮ |