|
আফগানিস্তানে সেনা ও ইরানের
উপরে চাপ বাড়াবে ব্রিটেইনঃ খুশী বুশ
আফগানিস্তানে
সেনা সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেইন।
আর গর্ডন ব্রাউনের পক্ষ
থেকে আসা এ-ঘোষণাকে তুমুলভাবে অভিনন্দিত করেছেন লন্ডনে অবস্থানরত মার্কিন
প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ।
ব্রাউনের পক্ষ থেকে আসা
ইরান বিষয়ক ঘোষণাতেও বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বুশ।
উল্লেখ্য, ব্রাউন এমন
একদিনে আফগানিস্তানে সেনা সংখ্যা বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেন, যে-দিনটিতে সেদেশ থেকে পাঁচ
ব্রিটিশ সেনার মৃতদেহ ব্রিটেইনে এসে পৌঁছেছে।
সোমবার
লন্ডনে বিদেশ মন্ত্রণালয়ে বুশের সাথে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ-কালে
ব্রাউন জানান, ব্রিটেইনে 'জাতীয় স্বার্থেই' [আফগানিস্তানে] তালেবান-বিরোধী অভিযান
অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, 'তা না হলে
আফগানিস্তানই চলে আসবে আমাদের কাছে।'
এ-সময় আফগানিস্তানে
ব্রিটিশ সেনা-সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দেন ব্রাউন।
আফগানিস্তানে অবস্থান
সুদৃঢ় করার দাবী করে ব্রাউন বলেন, 'আঠারো মাস আগে তালেবান এবং তাদের বিদেশী বন্ধুরা
দক্ষিণ হেলমন্দে আমাদেরকে কোণঠাসা করে ফেলার দাবী করেছিলো।
এখন বেশির ভাগ মানুষই
একমত হবেন যে, পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।'
উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে
ব্রিটিশ সেনাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হেলমন্দে অবস্থান করছে।
ব্রাউনের এহেন অবস্থানের
ব্যাপারটি আফগানিস্তান ও ইরাকের জনগণ 'অনুধাবনে' সক্ষম হবে বলেও তথ্য দেন বুশ।
সোমবার
ডাউনিং স্ট্রীটে দু'ঘন্টার বৈঠক শেষে 'সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর' অবস্থান নেয়ার
জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বুশের মতে, কিছু লোক মনে
করেন সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি এখন আর নেই; কেউ-কেউ মনে করেন এ-ব্যাপারে উদ্বেগের কিছু
নেই; আর কারও-কারও মতে এ-ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হবার মতো কিছু ব্যাপার আছে।
তবে সন্ত্রাসবাদের
বিপদের ব্যাপারটি ব্রাউন পুরোপুরি বুঝতে পেরেছেন বলে দাবী করেছেন বুশ।
আফগানিস্তানে ব্রিটিশ
সেনা সংখ্যা বৃদ্ধির ঘোষণাটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
দু'নেতার
সোমবারের বৈঠকে আফগানিস্তান ছাড়াও ইরান, ইরাক, জিম্বাবুয়ে, আফ্রিকা ছাড়াও
বিশ্ব-অর্থনীতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়।
উভয়ের মধ্যে 'শীতল'
সম্পর্ক বিরাজ করার কথাও অস্বীকার করেছেন ফরেইন অফিসের সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেয়া
বুশ-ব্রাউন।
উল্লেখ্য, ইরাক থেকে সেনা
প্রত্যাহারের সময়-সীমাকে ঘিরে এ-দু'জনের মধ্যে 'অস্বস্তিকর' সম্পর্কের কথা শোনা
যাচ্ছে অনেক দিন থেকেই।
কিন্তু সোমবার বুশের
উপস্থিতিতে ব্রাউন ইরাক প্রসঙ্গে বলেন, 'এখনও অনেক কাজ করার বাকী আছে এবং এক্ষেত্রে
ব্রিটেইন দায়িত্ব পালন করে যাবে।'
বুশের পক্ষ থেকে
প্রশংসা-বাণী শোনানোর পাশাপাশি,
ব্রাউনের পক্ষ থেকেও
বুশের দরাজ গলায় প্রশংসা করা হয়েছে।
ব্রাউনের মতে, সারা
দুনিয়া থেকে 'সন্ত্রাসবাদের' মুলোৎপাটনের জন্য সুদৃঢ় অবস্থান গ্রহণে সমর্থ হয়েছেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরাকের ব্যাপারেও ব্রাউন
'বাস্তবোচিত' অবস্থান গ্রহণ করবেন বলেও তথ্য দেন বুশ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট
জানান, ব্রাউন ইরাকে যতো ব্রিটিশ সেনা রাখবেন বলে তিনি শুরুতে ভেবেছিলেন, বস্তুতঃ
তার চেয়ে বেশি সংখ্যক ব্রিটিশ সেনা ইরাকে অবস্থান করছেন।
ইরান
বিষয়ে বক্তব্যে ব্রাউন জানান, দেশটির বিরুদ্ধে আরও একদফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের
ব্যাপারে ইউরৌপীয়ান ইউনিয়ানের পক্ষ থেকে সহসাই পদক্ষেপ গৃহীত হতে যাচ্ছে।
এ-প্রসঙ্গে তিনি তথ্য
দেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরীর দিকে না যাবার নিশ্চয়তা দিতে পারলে, ইরানের পরমাণু
কর্মসুচির ব্যাপারে সমর্থন দিতে পারে পশ্চিমা বিশ্ব।
তবে একই সাথে তেহরানের
প্রতি হুমকি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, 'সংঘাতের রাস্তায় যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।'
উল্লেখ্য, ইরানের দাবী,
তার পরমাণু কর্মসুচি বেসামরিক উদ্দেশ্য পরিচালিত।
কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব,
বিশেষতঃ যুক্তরাষ্ট্র, এ-ব্যাপারে গভীর সন্দেহ পোষণ করে।
এদিক থেকে দেখলে
ব্রাউনের সোমবারের বক্তব্যকে খানিকটা ব্যতিক্রমধর্মী হিসাবে দেখা যেতে পারে বলেই
পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
কেনো-না, সর্বশেষ
বক্তব্যটির ভিতর দিয়ে ইরানের প্রতি পরোক্ষভাবে হলেও কিছুটা ছাড় দেয়ার প্রবণতা
লক্ষ্য করা গেছে।
সোমবার
পার্লামেন্টে দেয়া এক বিবৃতিতে ডিফেন্স সেক্রেট্যারী দেস ব্রাউনি জানান, কিছুদিনের
মধ্যে আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনা-সংখ্যা ৭ হাজার ৮০০ থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার ৩০ জন করা
হবে।
ব্রাউনি জানান, দেশটি থেকে
শুরুতে ব্রিটিশ বাহিনীর চারশো পদ ছেঁটে নেয়া হবে।
পরে আবার ছ'শো ত্রিশটি
পদে নতুন নিয়োগ দেয়া হবে।
এ-হিসাব-মতে, ২০০৯ সালের
বসন্ত নাগাদ আফগানিস্তানে ব্রিটিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় ২৩০ জন
বেড়ে যাবে।
কমন্স সভার এমপিদের সামনে
ভাষণদান-কালে ব্রাউনি জানান, আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনরত সেনা-সদস্যদের
নিরাপত্তা-সুবিধা বৃদ্ধির প্রয়োজন থেকেই সর্বশেষ এ-সিদ্ধাস্তটি গ্রহণ করা হয়েছে।
লন্ডনঃ ১৬
জুন, ২০০৮ |