|
প্রেসিডেন্ট হিসেবে জর্জ বুশের শেষ
ব্রিটেইন-সফরঃ
রাজপথে বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট থাকাবস্থায় ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নে তার শেষ সফরের অংশ হিসেবে জর্জ বুশ
রোববার ব্রিটেইনে পৌঁছেছেন। এ-সফরে প্রেসিডেন্ট বুশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের
সাথে ইরাকে ব্রিটিশ সৈন্য, বিশ্ব আর্থিক পরিস্থিতি, জ্বালানী তেল ও খাদ্যপণ্যের
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করবেন; তবে রাজপথে ব্যাপক যুদ্ধ-বিরোধী বিক্ষোভ তার সফরে
ইতোমধ্যে ছায়া ফেলতে শুরু করেছে।
রোববার বেলা দুটোর
ঠিক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান 'এয়ারফৌর্স ওয়ান' বাহিত হয়ে জর্জ বুশ সস্ত্রীক
লন্ডন-হিথরৌ আন্তর্জাতিক বিমান-বন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে পুনরায় প্রেসিডেন্টের
হেলিকপ্টার 'মেরিন ওয়ান' চড়ে বুশ দম্পতি উইন্ডসর ক্যাসেলে যান রাণী
এলিজাবেথের সাথে বৈকালিক
চায়ের আসরে সাক্ষাতে মিলিত হতে। এ-সময় সেখানে রাজপরিবারের আরও কয়েক জন সদস্য
ও ব্রিটেইন নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।
অবশ্য, এই চা-বৈঠককে অনানুষ্ঠানিক হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে কর্তৃপক্ষীয় সূত্রে।
উল্লেখ্য, গর্ডন
ব্রাউনের প্রধানমন্ত্রীত্বের আমলে জর্জ বুশের এটিই প্রথম সফর এবং একই
সাথে প্রেসিডেন্ট
হিসেবে সাথে শেষ সফরও বটে। ছ'দিন-ব্যাপী ইউরৌপীয়ান
ইউনিয়ন সফরের অংশ
হিসেবে প্রেসিডেন্ট বুশ সোমবার প্রধানমন্ত্রী ব্রাউনের সাথে
আনুষ্ঠনিক বৈঠকে মিলিত হবেন এবং দিনের শেষ
তিনি আয়ারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ড ত্যাগ করেবন। জানা যায়,
ব্রাউনের সাথে বৈঠকের পর পুরানো মিত্র
ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সাথেও বুশ মিলিত হবেন
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে আলোচনার জন্য। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়ার পর মূলতঃ বুশের
সুপারিশে টনি ব্লেয়ার মধ্যপ্রাচ্যে 'শান্তি'র অন্বেষণে বিশেষ দূতের দায়িত্ব লাভ
করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, ব্রাউনের সাথে
সোমবারের বৈঠকে বুশ মূলতঃ ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের ব্রিটিশ কর্মসূচি
বাতিল বা পরিবর্তনের জন্য চাপ প্রয়োগ করবেন। দৃশ্যতঃ
ব্রাউনের প্রতি এক প্রকার সতর্কতা ব্যক্ত করে জর্জ বুশ সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন, 'আমি
আস্থাশীল যে, আমার মতো তিনিও [ব্রাউন] আমাদের সেনাপতিদের কথা শুনবেন, যাতে
এ-মুহূর্তের অপ্রত্যাশিত [সেনা] প্রত্যাহারের
মাধ্যমে এ-পর্যন্ত কৃত কোরবানী বিফলে না যায়।'
খবরে প্রকাশ,
ব্রিটেইনে মাটি ছোঁয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট বুশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়
রাজধানী লন্ডনে। শুধু লন্ডনে নয়, প্রেসিডেন্টের
প্রথম দিনের সফর স্থান উইন্ডসরে
এবং সোমবারের গন্তব্য বেলফাস্টেও বিক্ষোভ হয়েছে। অবশ্য, বিক্ষোভকে মাথায় রেখে
মেট্রোপলিটান পুলিসও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। মেট্রোপলিটান পুলিসের পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে, বুশ-বিরোধী বিক্ষোভ সামাল দিতে ১,২০০ অফিসার নিয়োজিত করে
'তাৎপর্যপূর্ণ' অপারেশনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে কি-না
জিজ্ঞেস করা হলে পুলিস কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে;
কিন্তু বলেছে যে, প্রধান মন্ত্রীর
দপ্তর ডাউনিং স্ট্রীটের দিয়ে বিক্ষোভকারীদের যাত্রায় প্রতিবন্ধকতা দেয়া হবে।
মেট্রোপলিটান পুলিসের ডেপুটী
এাসিস্ট্যান্ট
কমিশনার ক্রিস অালিসন
সংবাদ-মাধ্যমকে বলেছেন, 'আমরা তাদের [স্টপ দ্য ওয়ারের] মার্চ নিষিদ্ধ করিনি। আমরা
তাদের সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছি এবং তাদেরকে বিকল্প রুট এবং পিকেট
করার জন্য বিকল্প স্থান অফার
করেছি।'
এদিকে কেন্দ্রীয়
লন্ডন ও উইন্ডসরে প্রেসিডেন্ট বুশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে যুদ্ধ-বিরোধী
জোট 'স্টপ দ্য ওয়ার'-এর সংগঠন-সদস্যরা। জোটের মুখপাত্র এন্ড্রু বার্গিন
সংবাদ-মাধ্যমে বলেন, 'আমরা মনে করি বুশ হচ্ছে একজন যুদ্ধাপরাধী।'
তিনি বলেন, 'বুশ ও ব্লেয়ার উভয়ই মিথ্যা ও জালিয়াতির
মাধ্যমে ইরাকে অবৈধ আক্রমণের জন্য দায়ী।' পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, সোমবারে
প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সাথে প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আনুষ্ঠানিক বৈঠক-কালে
কেন্দ্রীয় লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শিত হবে।
লন্ডনঃ
১৫ জুন, ২০০৮ |