|
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট
মুশাররফের ফাঁসী চায় বিরোধী নেতা শরিফ
গত
বছর জরুরী অবস্থা জারী এবং ষাটজন বিচারককে একযোগে বরখাস্ত করার দায়ে অবৈধ ক্ষমতা
দখলদার প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফকে ফাঁসীতে চড়ানো যায় বলে দাবী করেছেন
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরিফ।
শনিবার ইসলামাবাদে দেয়া
এক ভাষণে আলোড়ন তোলা এ-দাবীটি উত্থাপন করেছেন শরিফ।
উল্লেখ্য,
১৯৯৯ সালে শরিফকে হঠিয়ে
দিয়েই ক্ষমতা দখল করেছিলেন মুশাররফ।
স্মরণ
করা যেতে পারে, সুপ্রীম কৌর্টের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার
বৈধতা সমপর্কে রায় ঘোষণার প্রাক্কালে,
গত বছর ৩ নভেম্বর,
দেশব্যাপী জরুরী অবস্থা
জারী করে দিয়েছিলেন মুশাররফ।
এরপর থেকেই পাকিস্তানের
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মুশাররফের পদত্যাগ দাবী করছে।
১৮ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে
বিজয়ী হবার পর থেকে বিজয়ী পিপিপি অবশ্য এ-ব্যাপারে এক-ধরণের নীরবতা পালন করে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় সংখ্যা-গরিষ্ঠ
দল শরীফের মুসলিম লীগ অবশ্য মুশাররফের পদত্যাগের দাবীতে সোচ্ছার আছে।
শনিবার পাক রাজধানীতে
কমপক্ষে অর্ধ-লক্ষ লোকের উপস্থিতি-সমৃদ্ধ এক জনসভাতে ভাষণদান-কালে শরিফ বলেন, 'আমরা
বলেছি আপনি [মুশাররফ] আঠারো ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন
করুন এবং সম্মানের সাথে ক্ষমতা ছেড়ে দিন,
কিন্তু আপনি তা করছেন না।'
তিনি আরো বলেন, 'আপনি
জনরায়কে সম্মান দেখাচ্ছেন না, এখন আপনার জন্য জনগণ নতুন রায় প্রদান করছে।'
শরীফের ভাষণ চলাকালে
উপস্থিত জনতা 'মুশাররফের ফাঁসী চাই' ধ্বনিতে সভাস্থল মুখরিত করে তোলে।
মুশাররফের উদ্দেশ্যে
এ-সময় শরিফ বলেন, 'আপনি জনগণের কথা শুনুন এবং সম্মানের সাথে বিদায় নিন।'
প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে
সতর্কতা ব্যক্ত করে শরিফ বলেন, 'জনগণ শুধু আপনার বিদায় দেখতে চায় না;
জনগণ আপনাকে আপনার
কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ হিসাবে দেখতে চায়।' পাঁচ দিন আগে করাচিতে শুরু হওয়া
মুশাররফ-বিরোধী এক 'লং মার্চ'-এর শেষ পর্যায়ে ইসলামাবাদে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন
নাওয়াজ শরিফ।
উল্লেখ্য,
পার্লামেন্ট ভবনের মাত্র
তিনশো মিটার দূরে মুশাররফ-বিরোধী গণসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে,
শনিবারের সভাটিতে সমাজের
সর্বস্তরের মানুষজনের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ্য করার মতো।
এদের মধ্যে কেউ-কেউ
সংবাদ-মাধ্যমকে দেয়া প্রতিক্রিয়াতে জানান,
মুশাররফকে আইনের
মুখোমুখি করা হয়েছে এটাই তারা দেখতে চান।
এছাড়াও বরখাস্ত হওয়া
বিচারকদের স্বপদে ফিরিয়ে আনার জন্যেও তারা কড়া দাবী জানান।
ইসলামাবাদের সভাটিতে
সুপ্রীম কৌর্ট বার এসৌশিয়েশনের প্রেসিডেন্ট,
জামাতে ইসলামী দলের
নেতৃত্ব ও তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের প্রধান ইমরান খান যোগ দেন।
লন্ডনঃ
১৪ জুন,
২০০৮ |