|
বাংলাদেশে সরকারের সাথে সংলাপে
যাচ্ছে বড়ো দল আওয়ামী লীগ
সাবেক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার একদিন পর
সরকারের সঙ্গে সংলাপে যাওয়ার জন্য নয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নাম ঘোষণা করেছে তার
দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
শনিবার আওয়ামী লীগ
প্রধানের ধানমন্ডি কার্যালয়ে দলের কার্য-নির্বাহী সংসদের এক জরুরী বৈঠকে সদস্যদের
নাম চূড়ান্ত করা হয়।
বৈঠক শেষে দলের
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়াদ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান,
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি
জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে
সংলাপে যাবে।
প্রতিনিধি দলের অপর সদস্যরা হলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী,
আমির হোসেন আমু,
আব্দুর রাজ্জাক,
তোফায়েল আহমেদ,
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত,
মতিয়া চৌধুরী,
আতাউর রহমান খান কায়সার
ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
উল্লেখ্য,
আগামী ডিসেম্বরে দেশে
একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে
বসার উদ্যোগ নেয় সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকার।
বেশ কয়েকটি ছোটো দলের
সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপেও বসে সরকার।
কিন্তু শেখ হাসিনা ও
বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া আওয়ালীলীগ ও বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা দেয়।
শেখ হাসিনাকে মুক্তি
দেওয়ায় আওয়ামীলীগ সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এক
প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল জানান, আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুয়েক দিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে
সরকারকে প্রতিনিধিদের নাম জানিয়ে দেয়া হবে।
আশরাফুল জানান, শেখ
হাসিনাকে সাময়িক মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ায়
আওয়ামীলীগের সভায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সব গণতান্ত্রিক অসম্প্রদায়িক শক্তিকে
ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন,
শেখ হাসিনাকে মুক্তি
দিয়ে সরকার যে-যৌক্তিক পদক্ষেপ নিয়েছে,
তাকে যৌক্তিক পরিণতির
দিকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।
এজন্য একটি
স্বচ্ছ
নির্বাচন দরকার।
আর তার আগে অবশ্যই জরুরী
অবস্থা প্রত্যাহার করতে হবে।
এসব ছাড়াও বাজেটের
পরপরই আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করার কথা জানিয়ে আশরাফুল বলেন,
পর-পর দুবার সংসদের
বাইরে বাজেট দেওয়া উচিত হয়নি।
তিনি জানান,
বৈঠকে আগামী ২৩ জুন
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এছাড়া দেশব্যাপী
স্বাক্ষর সংগ্রহ
অভিযানের সময় আরো ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে।
সৈয়দ আশরাফুল বলেন,
৭ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত
স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান
চলার কথা ছিল।
কিন্তু,
যেদিন থেকে এ কর্মসূচি
শুরু হয়, সেদিন থেকেই গণগ্রেপ্তার শুরু হয়।
সেজন্য এ-কর্মসূচির
মেয়াদ আরো ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে।
গত ২৬ মে
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় শেখ
হাসিনাকে ছাড়া সংলাপে না যাওয়ার প্রস্তাব দেয় ৭২টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধিরা।
তৃণমূল নেতাদের মতামত
পর্যালোচনা করে ২৮ মে হাসিনাকে ছাড়া সংলাপে না-যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে আওয়ামী
লীগ।
গত ১১ জুন শেখ হাসিনা সাময়িক
মুক্তি পাওয়ার আগে পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এ-সিদ্ধান্তে অটল ছিল।
হাসিনা মুক্তি পাওয়ার
পরদিনই দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সংলাপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
গত বুধবার শেখ হাসিনা
মুক্তি পাওয়ার পর রাতে তার বাসভবনে সরকারের চার উপদেষ্টার সঙ্গে শেখ হাসিনা-সহ
আওয়ায়ীলীগ নেতাদের এক অনানুষ্ঠানিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
ঐ-সংলাপ চলা-কালে প্রধান
উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দীন আহমদ টেলিফৌনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
ঢাকা থেকে
ইউকেবেঙ্গলির প্রতিনিধি
১৪ জুন,
২০০৮ |