|
লিসবন ট্রীটী প্রত্যাখান
আয়ারল্যান্ডেরঃ সঙ্কটে ইউরৌপীয়ান ইউনিয়ন
বৃহস্পতিবারের
গণভৌটে লিসবন ট্রীটীর পক্ষে না বলে ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নকে (ইইউ) সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে
আয়ারল্যান্ড।
শুক্রবার রাত নাগাদ প্রকাশিত
ফলে দেখা যায়,
লিসবন ট্রীটীর বিপক্ষে প্রায়
চুয়ান্ন শতাংশ ভৌটার ভৌট দিয়েছেন।
সাতাশ সদস্য বিশিষ্ট
ইইউর জন্য আইরিশ নির্বাচনের ফলকে অত্যন্ত বড়ো এক আঘাত হিসাবেই বিবেচনা করা হচ্ছে
সর্বমহল থেকে।
এদিকে ইউরেপীয়ান কমিশনের
প্রেসিডেন্ট খোসে ম্যানুয়েল বারোস দাবী বলেছেন ইইউ 'এখনও পর্যন্ত জীবিত আছে।'
খবরে
প্রকাশ,
আয়ারল্যান্ডের প্রধান তিনটি
দলের পক্ষ থেকে ট্রিটির পক্ষে টানা প্রচারণা চালানো হলেও,
৫৩.৪ শতাংশ ভৌটার
বিপক্ষে ভৌট দিয়েছেন।
বাকী ৪৬.৬ শতাংশ ভৌট
পড়েছে ট্রীটীর বিপক্ষে।
আয়ারল্যান্ডের গণভৌটের
ফলাফল ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের সরকারগুলোকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে বলে মনে
হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
ইইউর কর্ম ও ক্ষমতার
পরিধি বিষয়ক ট্রীটী অফ ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নকে সংশোধন করে গত বছরের মধ্য-ডিসেম্বরে
লিসবন ট্রীটী পেশ করা হয়েছিলো।
আগামী বছরের পয়লা
জানুয়ারী থেকে এটি কার্যকর হবার কথা।
ইতোমধ্যে আঠারোটি সদস্য
দেশের পক্ষ থেকে লিসবন ট্রীটীকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
কিন্তু আয়ারল্যান্ডের
পক্ষ থেকে প্রত্যাখাত হবার ফলে এখন পুরো ব্যাপারটি ভিন্ন এক বাস্তবতা নিয়ে দৃশ্যমান
হচ্ছে।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে
আয়ারল্যান্ডকে গণভৌটে যেতে হয়েছে।
প্রাপ্ত হিসাবে দেখা
যাচ্ছে,
সর্বমোট ৮ লক্ষ ৬২ হাজার ৪১৫ জন
ভোটার ট্রীটীর বিপক্ষে ভৌট দিয়েছেন।
আর পক্ষে ভৌট দিয়েছেন ৭
লক্ষ ৫২ হাজার ৪৫১ জন ভৌটার।
অর্থাৎ,
সর্বমোট ১ লক্ষ ৯ হাজার
৯৬৪ ভৌটের ব্যবধানে লিসবন ট্রীটী অনুমোদন প্রস্তাবটি পরাজিত হয়েছে।
গণভৌটে
পরাজয়ের পরে লিসবন ট্রীটীর পক্ষাবলম্বনকারীরা পুরো বিষয়টি জনগণের সামনে ভালোভাবে
ব্যাখায় ব্যর্থতার জন্য সরকারের সমালোচনা করতে শুরু করেছেন।
বলা হচ্ছে,
২৮৭-পৃষ্ঠাব্যাপী জটিল
ভাষায় লিখিত ট্রীটীর ভেতরে কী-আছে-না-আছে,
সে-ব্যাপারে জনগণকে
অবহিত করায় ব্যর্থ হয়েছে সরকার-পক্ষ।
লক্ষ্য করার বিষয়,
বড়ো দলগুলোর মধ্যে
একমাত্র শিন ফেইনের পক্ষ থেকে লিসবন ট্রীটীর বিপক্ষে প্রচারণা চালানো হয়েছিলো।
দেখা যাচ্ছে,
ইইউর বিরুদ্ধে অবস্থান
গ্রহণকারী ছোটো-ছোটো গ্রুপ সংখাগরিষ্ঠ ভৌটারকে 'না' ভৌট-দানের ব্যাপারে
প্রভাবিতকরণে সমর্থ হয়েছে।
লিসবন ট্রীটীর বিরোধীরা
মনে করেন,
এটি অনুমোদিত হলে আয়ারল্যান্ডের
উপরে ইইউর প্রভাব আরও বেড়ে যাবে।
শিন ফেইন নেতা গ্যারী
এডামস ভৌটের রায় প্রসঙ্গে বলেন,
আমি মনে করি এটি একটি
অত্যন্ত ইতিবাচক ব্যাপার।
[এ-রায়ের মধ্য দিয়ে]
জনগণ বুঝিয়ে দিয়েছে যে,
তারা একটি সামাজিক ইউরৌপ
চায়।
তারা [জনগণ] ইউরৌপের কেনেদণ্ড
থাকতে নিরাপদ বোধ করে।
কিন্তু এক্ষেত্রে যথেষ্ঠ
পরিমাণে গণতান্ত্রিক ক্ষমতার উপস্থিতি থাকাটা আবশ্যক বলে মনে করছে জনগণ।"
উল্লেখ্য,
ইইউর ক্রমবর্ধমান
প্রভাব-বৃদ্ধির কারণে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মধ্যে যাচ্ছে বলে মনে করেন
ইউরোপের বহু মানুষ।
আয়ারল্যান্ডের গণভৌট
থেকেও নতুন করে এহেন মনোভাবের পক্ষে বড়ো ধরণের সমর্থন থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
সর্বশেষ বাস্তবতার
ব্যাপারে মন্তব্য-কালে ম্যানুয়েল বারোস জানিয়েছেন,
পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে,
সে-ব্যাপারে এখন ইউরৌপের
সরকারগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এছাড়াও,
এখনও যেসব দেশ লিসবন
ট্রীটী অনুমোদন করেনি,
সেগুলোর প্রতিও ট্রীটীকে
অনুমোদন করার জন্য আহবান জানিয়েছেন তিনি।
আয়ারল্যান্ডের গণভোট
নিয়ে সে-দেশের প্রধানমন্ত্রী ব্রায়ান কৌয়েনের সাথেও কথা বলেছেন বারোস।
আগামী সপ্তাহে ব্রাসেলসে
ইইউর সদর দফতরে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো আয়ারল্যান্ডের গণভৌট ও
পরবর্তী করণীয় প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য,
লিসবন ট্রীটী কার্যকর
হবার জন্য সবকটি সদস্য রাষ্ট্রে অনুমোদন ঘটা প্রয়োজন।
লন্ডনঃ ১৩ জুন,
২০০৮ |