|
পারিবারিক নির্যাতন রোধে
ব্রিটিশ শিশুদের স্কুলে শিক্ষাদানের প্রস্তাব
পরিবারের
অভ্যন্তরে সহিংসতা রোধের ব্যাপারে মরীয়া ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এবার এ-ব্যাপারে
শিশুদেরকে স্কুলে শিক্ষাদানের সক্রিয় চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন।
সর্ব-দলীয় হৌম
এাফেয়ার্স
সিলেক্ট কমিটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ-প্রস্তাব দেয়া হয়েছে শুক্রবার।
প্রতিবেদনে
ব্রিটেইন-জুড়ে পারিবারিক সহিংসতা দিনকে-দিন বেড়ে যাবার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা
হয়েছে।
উল্লেখ্য,
সরকারী হিসাবমতে,
বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে
গড়ে দুইজন নারী তাদের পার্টনার বা সাবেক পার্টনারের হাতে প্রাণ হারাচ্ছেন।
পরিস্থিতি এ-ধরণের ভয়াবহ
পর্যায়ে পৌঁছানোর
পরেও,
কোনো-কোনো স্কুলের পক্ষ থেকে
এ-ব্যাপারে শিশুদের শিক্ষাদানের ব্যাপারটি নিয়ে আপত্তির সমালোচনা করা হয়েছে সিলেক্ট
কমিটির পক্ষ থেকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়ঃ
প্রতিরোধ করা এবং পূর্ব থেকেই হস্তক্ষেপ করার ব্যাপারটি ঘরের ভেতরে সন্ত্রাস,
তথাকথিত 'অনার কিলিং'
(সম্মান রক্ষার্থে
হত্যা) এবং ফৌর্সড ম্যারেইজ সমস্যা ঠেকানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের মধ্যে
এ-ব্যাপারে শিক্ষা-বিস্তারের ব্যাপারটিকে অত্যন্ত জরুরী হিসাবে চিহ্নিত করেছে কমিটি।
প্রতিবেদনে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য জরুরী-ভিত্তিতে আবাসন
সুবিধার 'ভয়াবহ ঘাটতি' থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটির চেয়ারম্যান কিথ
ভাজ সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন, 'আমরা আমাদের অল্পবয়সীদের মাদক ও রোড সেইফটির ব্যাপারে
শিক্ষাদান করছি,
কিন্তু গৃহ-সন্ত্রাস,
সম্মানের নামে সহিংসতা
এবং ফৌর্সড ম্যারেইজের মতো ব্যাপারগুলোতে আমরা এখনও তেমন কিছু করছি না।'
প্রতিবেদন মতে,
ব্রিটেইনের এক-চতূর্থাংশ
নারী এবং অনেক পুরুষ তাদের জীবনে উপরোক্ত নির্যাতনের শিকার হবেন।
কমিটির পক্ষ থেকে
বিদ্যমান "অত্যন্ত ধ্বংসকারক ও
'অত্যন্ত
নিনদাকর" অপরাধগুলো প্রতিরোধের ব্যাপারে ব্যাপক জোর গুরুত্বদানের জন্য সরকারের
প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা
সম্পর্কে জন-সচেতনতা তৈরীর লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান চালানোর দিকে মনোযোগ
দানের জন্যও সরকারের আহবান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
ব্রিটেইনের শিশুদের জন্য নিরাপত্তা-দানকারী সংগঠন এনএসপিসিসির পক্ষ থেকেও,
হৌম
এাফেয়ার্স
সিলেক্ট কমিটির প্রতিবেদনের সাথে একাতণ্টতা প্রকাশ করা হয়েছে।
শিশুরা যাতে পরিবারের
ভেতরে নিপীড়ণমূলক সম্পর্কের পাঁকে আটকে না পড়ে,
সে-ব্যাপারে শিক্ষাদানের
জন্য স্কুলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে এনএসপিসিসি।
আলোচ্য বিষয়াদিতে
শিক্ষালাভকে করতে পারাটাকে শিশুদের প্রাথমিক-স্তরের মানবিধাকার হিসাবে আখ্যায়িত করে
সংগঠনটির এক বিবৃতিতে শুক্রবার বলা হয়, 'এ-শিক্ষা শিশুদের সামাজিক,
স্বাস্থ্যগত এবং
অর্থনীতি বিষয়ক শিক্ষণের অংশ হওয়া প্রয়োজন।'
পারিবারিক নির্যাতনের পরিণতিতে রাষ্ট্রকে যে-পরিমাণে আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়তে
হচ্ছে,
তাও স্তম্ভিত হয়ে যাবার মতো।
প্রতিবেদনে প্রকাশ,
২০০৫-২০০৬ সালে
পারিবারিক নির্যাতন সংক্রান্ত অপরাধের জন্য ব্রিটিশ সরকারকে খরচ করতে হয়েছে ২৫.৩
বিলিয়ন পাউন্ড।
তবে পুলিশের কাছে রিপৌর্ট না
হওয়া অপরাধগুলোর কথা ধরলে এ-ক্ষেত্রটিতে সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে আর্থিক ক্ষতির
পরিমাণ আরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রিটেইনে প্রতি বছর
বিভিন্ন পারিবারিক নির্যাতনে প্রান হারানো ব্যক্তির সংখ্যা সরকারী হিসাবের তুলনায়
প্রকৃত-পক্ষে অনেক বেশি হতে পারে বলে সনেদহ পোষণ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
লন্ডনঃ ১৪
জুন, ২০০৮ |