|
কল্পনা চাকমার অপহরণ দিবস পালিতঃ তদন্তের জোর দাবী
কল্পনা
চাকমা অপহরণেরণ এক যুগ পূর্তি হয়েছে বুধবার।
দিনটি উপলক্ষ্যে
হিল উইমেন্স ফেডারেশন
সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সকালে প্রতিবাদ মিছিলের
মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।
এরপর কল্পনা অপহরণের
তদন্ত দাবী নিয়ে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দুই ঘন্টা ব্যাপী সংহতি
সমাবেশে দেশের বাম সংগঠনগুলো,
বুদ্ধিজীবী,
সামাজিক-সাংস্কৃতিক
সংগঠনগুলো সংহতি জানান।
বিকেল
৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গবেষক মেঘনা
গুহঠাকুরতা,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক আকমল হোসেন,
আবুল কাসেম ফজলুল হক,
জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আনু মোহম্মদ,
জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মানস চৌধুরী ও সাঈদ ফেরদৌস,
নৃবিজ্ঞান গবেষক সায়দিয়া
গুলরুখ,
ইউপিডিএফ নেত্রী সমারি চাকমা
প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দানকারীদের
পক্ষ থেকে কলপনা চাকমার অপহরণের তদন্ত শুরু করার জোর দাবী জানানো হয়।
অনেক বকতা অবশ্য
উল্লেখ্য করেন যে,
বিদ্যমান কাঠামোতে কোনোভাবেই
কলপনার অপহরণ সংক্রান্ততদন্ত সমপন্ন করা সম্ভব নয়।
বকতাদের পক্ষ থেকে মনে
করিয়ে দেয়া হয় যে তদন্ত শুরু করার দাবীর এক যুগ পার হয়ে গেলেও তদন্ত শুরু করানো
সম্ভব হয়নি।
তদন্ত না শুরু হবার কারণ নিয়েও
একটি তদন্ত শুরু হতে পারে বলে মন্তব্য করেন কোনো-কোনো
বক্তা।
স্মরণ
করা যেতে পারে,
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম
অঞ্চলের সুপরিচিত মানবাধিকার কর্মী কল্পনা চাকমাকে,
১৯৯৬ সালের ১২ জুন তার
বান্দারবানের লালিঘোনা গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে অপহরণ করা হয়।
সেনাবাহিনীরা সদস্যরা এই
অপহরণ কর্ম ঘটায় বলে অভিযোগ আছে।
অপহরণের ঘটনার
প্রত্যক্ষদর্শী কলপনার মা ও ভাই জানিয়েছিলেন অপহরণকারীরা ছিলো মুখোশধারী সেনা-সদস্য।
জনৈক লেফটেন্ট্যান্ট
ফেরদৌসের বিয়ের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ার কারণে কল্পনাকে অপহরণ করা হয় বলেও বিভিন্ন
সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হয়।
সেনা কর্তৃপক্ষ অবশ্য
এসব অভিযোগকে সব-সময় ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়াও অনেক সময় এ-তথ্যও
প্রচার করা হয় যে, কল্পনা চাকমা গোপনে ভারতে চলে গেছে।
উল্লেখ্য,
পার্বত্য অঞ্চলে জুম্ম
জনগনের উপরে সেনাবাহিনীর নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সব-সময় সোচ্চার ছিলেন কল্পনা।
ঢাকা থকে
ইউকেবেঙ্গলি রিপৌর্টার
১২ জুন
২০০৮ |