London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

আমেরকিরা উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ত্যাগ

মুক্তি পাওয়ার আঠারো ঘন্টার মাথায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র গেছেনবিদেশ যাত্রার আগ মুহূর্তে হাসিনা দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানবিদেশযাত্রায় তার সফর-সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিশেষ সহকারী ডঃ হাসান মাহমুদ ও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকী

হাসিনাকে বিদায় জানিয়ে বিমান বন্দর থেকে বের হওয়ার সময় জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে গেছেনতিনি বলেন, 'নির্বাচন নিয়ে এ-মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।' ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা তার মুক্তির দাবী জানানোর জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেনতিনি যেনো সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে পারেন, স-েজন্য সবার 'দোয়া' চেয়েছেনজিল্লুর রহমান আরও জানান, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেনপাশাপাশি তার অনুপস্থিতিতে যেভাবে সংগঠনের কাজ চলছে, সেভাবেই তা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেনএক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, 'শেখ হাসিনা চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাচ্ছেনসুস্থ হয়ে অচিরেই দেশে ফিরে আসবেন' সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি

সৈয়দ আশরাফ জানান, দলীয় নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনাকে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে চিকিৎসার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার অনুরোধ করেছেনতিনি বলেন, 'যদি কোনো দরকার হয়, তবে শেখ হাসিনা টেলিফোনে আমাদের জানাবেন' এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, 'কোন শর্তের মাধ্যমে শেখ হাসিনা মুক্ত হননিআমার কাছে কাগজ আছেদরকার হলে আপনারা দেখে যেতে পারেন।' আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি দবী করে বলেন,'আমাদের কারো সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়নি।' ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন,'আমরা চাই নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হোকসবার আগে জাতীয় নির্বাচন হোক দেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচন অংশ নেবে' কথা শেষ হলে সাংবাদিকরা জানতে চান শেখ হাসিনা কী বলেছেন; তখন তিনি বলেন,'আমি এতক্ষণ যা বললাম এগুলো ওনার কথা এবং আওয়ামী লীগের কথা'

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন শেখ হাসিনাতার বিদেশ যাওয়া উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মিরপুর রোড থেকে বিমান বন্দর সড়ক পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়সুধাসদন থেকে রাস্তার দু'পাশে ছিলো পুলিশ ও কয়েকটি জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেনএ-সময় বিমান বন্দর এলাকায় তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা নেওয়া হয়যাত্রী ছাড়া কাউকে বিমান বন্দরে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশসাংবাদিকরা বিমান বন্দরের বাইরে অপেক্ষা করেন। 

দলীয় প্রধানকে বিদায় জানানোর জন্য সকাল ছ'টা থেকে আওয়ামী লীগ নেতারা বিমান-বন্দরে আসতে থাকেন বিমান-বন্দরে উপস্থিত ছিলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর  রহমান, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবের হোসেন চৌধুরী, আবদুল মান্নান প্রমুখআওয়ামী লীগের হাজার খানিক নেতা-কর্মী সকালে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান-বন্দরের সামনে জড়ো হলেও পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয়। 

সকাল প্রায় পৌনে সাতটায় কলাপাতা রংয়ের জর্জেট শাড়ী পরে সুধা সদনের বাস ভবন থেকে নিজ গাড়ীতে চড়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিমান-বন্দরের পথে রওয়ানা দেনকঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সাংবাদিকদের গাড়ী-সহ প্রায় ৩০ টির বেশি গাড়ী নিয়ে নিজ ভবন ত্যাগ করেন তিনিমানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে মহাখালী ফ্লাইওভার পার হয়ে সকাল সাতটা ১০ মিনিটের দিকে জিয়া আর্ন্তজাতিক বিমান-বন্দরে পৌঁছান হাসিনাঅভিবাসনের প্রয়োজনীয় কাজ শেষে সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিএ-১৪৪ বিমানে করে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন এদিকে সুধা সদনের সামনেও ভোর থেকে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতা-কর্মী সুধা সদনের সামনে জড়ো হয়ে জেলের তালা ভেঙেছি, শেখ হাসিনাকে এনেছি' বলে স্লৌগান দিতে থাকে।  সুধা-সদন থেকে বের হওয়ার আগে হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, 'নেত্রী প্যারোলে মুক্তি পাননিনেত্রী নিঃশর্ত মুক্তি পেয়েছেন মিডিয়ায় প্রকাশিত প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়তিনি আট সপ্তাহের জন্য চিকিৎসার জন্য বাইরে যাচ্ছেন'

উলেলখ্য, বুধবার দুপুরে সরকার এক নির্বাহী আদেশে শেখ হাসিনাকে আট সপ্তাহের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয়।  গত বছরের ১৬ জুলাই  শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়

ঢাকা থেকে ইউকেবেঙ্গলি রিপৌর্টার

১২ জুন ২০০৮

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.