|
বিয়াল্লিশ দিনের আটকাদেশ পাস
পার্লামেন্টেঃ মুখরক্ষা ব্রাউনের
কোনো
ধরণের অভিযোগ গঠন করা ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে একটানা বিয়াল্লিশ দিন পর্যন্ত আটক রাখার
বহুল বিতর্কিত বিলটি বুধবার রাতে কোনো রকমে পাস হয়েছে হাউস অফ পার্লামেন্টে থেকে।
এর মধ্য দিয়ে এবারের মতো
প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মুখরক্ষা হলেও,
তার বিরুদ্ধে ছোটো দলের
সাথে গোপন বুঝাপড়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে বিভিন্ন পক্ষ থেকে।
বুধবার
রাতে পার্লামেন্টে বিনা অভিযোগে বিয়াল্লিশ দিন পর্যন্ত আটক রাখার বিধান সংক্রান্ত
বিলের উপরে ভৌট ছিলো গর্ডন ব্রাউনের জন্য যেকোনো বিচারেই অতি গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনীতির টালমাটাল
অবস্থা,
একের পর এক নির্বাচনে দলের
ধরাশায়ী হয়ে যাওয়া আর জনপ্রিয়তার দিক থেকে বলতে গেলে তলানীতে চলে আসার মুহূর্তটিতে,
বুধবারের ভৌটে পরাজয় হতে
পারতো ব্রাউনের জন্য চরম (বা শেষ) আঘাত।
আটকাদেশ আটাশ থেকে
বাড়িয়ে বিয়াল্লিশ দিন করা সংক্রান্ত বিলটি পার্লামেন্টের ভৌটে পরাজিত হলে
ব্রাউনকেট-যে এবার দলনেতার পদে টিকে থাকার ব্যাপারে চ্যালেইঞ্জের মধ্যে পড়তো হতো,
সে-ব্যাপারে কারও মধ্যেই
কোনো সন্দেহ ছিলো।
প্রধান দুই বিরোধী দল,
অর্থাৎ কনজারভেটিভ ও
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ছাড়াও ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিরা বেশ কিছু
ব্যাকবেঞ্চার এমপি যেভাবে বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন,
তাতে করে ব্রাউনের পরাজয়
অবশ্যাম্ভাবী বলেই মনে হচ্ছিলো।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত
উত্তর আয়ারল্যান্ড ভিত্তিক ক্ষুদ্র দল ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইপি)
নয়জন এমপির ভৌটের বদৌলতে আটকাদেশ বৃদ্ধির বিলটি গৃহীত হয়ে যায় পার্লামেন্ট।
হিসাব অনুসারে,
প্রস্তাবের পক্ষে ৩১৫ জন
এবং বিপক্ষে ৩০৬ জন এমপি ভৌট দেন।
ক্ষমতাসীন দলের ৩৬ জন
এমপিও প্রস্তাবের বিপক্ষে ভৌট দেন।
আন উইডকম্ব নামের একজন
টৌরী এমপি ছাড়া বাকীসব টৌরী ও লিবডেমরা আটকাদেশ বৃদ্ধির বিপক্ষে ভৌট দেন।
দেখা যাচ্ছে যে,
ডিইপির ৯ জন এমপি
প্রস্তাবের বিপক্ষে ভৌট দিলে পক্ষে-বিপক্ষে ভৌটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতো।
বিরোধীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,
শেষ মুহুর্তের গোপন কোনো
সমঝোতার ভিত্তিতে ডিইপি এর এমপিদের ভৌটগুলো বাগিয়ে নিয়েছেন ব্রাউন।
উত্তর আয়ারল্যান্ডে
অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বাড়িত ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান ও
রাষ্ট্রীয় তহবিলের পরিবর্তে উত্তর আয়ারল্যান্স সরকারের হাতে জলকর গ্রহণের সুুবিধা
হস্তান্তরের বিনিময়ে ডিইপির ভৌট অর্জিত হয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছে।
কিন্তু ব্রাউন-শিবির
থেকে এ-ধরণের কোনো আঁতাতের কথা প্রত্যাখান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ডাউনিং
স্ট্রীটে মাসিক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্যদান-কালে বিনা অভিযোগে আটক রাখার মেয়াদ
বৃদ্ধির পক্ষে ব্রাউন বলেন,
"আমি হাউস অফ কমন্সে এসে
বলতে একথা বলতে চাইনা যে একটি সন্ত্রাসবাদী ঘটনা ঘটে গেছে কিন্তু [এ-ব্যাপারে]
আমাদের যথার্থ প্রস্তুতি নেই,
কেনো-না আমরা যথাযথ আইনী
ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছি।"
উল্লেখ্য,
ব্রাউন সরকারের দাবী
হচ্ছে,
যতোদিন গড়াচ্ছে ততোই,
তাদের ভাষায়,
সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর
কর্ম-পরিধি বিস্তৃত ও জটিলতর হচ্ছে।
বিশেষ করে কম্পিউটার ও
অনলাইন প্রযুক্তির ব্যবহারে "সন্ত্রাসবাদীদের" দক্ষতার কারণে বর্তমানের আটাশ দিনের
আটকাদেশের ভিতরে অভিযোগ গঠন করাটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবী করেছে বিয়াল্লিশ দিনের
সমর্থকরা।
ডিইপি এর
পক্ষ থেকেও সরকারী দলের কাছ থেকে সুুবিধা নেয়ার গুজব প্রত্যাখান করা হয়েছে।
তবে হঠাৎ করে ব্রিটিশ
রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা দলটি জানিয়েছে,
নিজেদের অবস্থানের
গুরুত্ব সম্পর্কে তারা সচেতন।
দলের এমপি গ্রেগোরী
ক্যাম্পবেল বৃহস্পতিবার বলেন,
"সামনের দিনগুলোতে
[আটকাদেশ বৃদ্ধি সংক্রান্ত নতুন] কোনো ভোটাভূটিতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবো।
আমি মনে করি না যে,
এ-ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ
করার মতো কেউ আছেন।"
কোনো
রকমে হাউস অফ কমন্সে প্রথম দফায় পার হয়ে গেলেও,
উচ্চকক্ষ হাউস অফ লর্ডস
থেকে বিলটি কোনোভাবেই সম্মতি আদায় করতে পারবে বা বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।
লর্ডস সভায় প্রত্যাখাত
হলে মতামত গ্রহণের জন্য বিলটিকে আবারো কমন্স সভায় পাঠানো হবে।
দ্বিতীয় দফার ভৌটে
ক্ষমতাসীন দলের আরও কিছু এমপি প্রস্তাবের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ,
লেবার দলের কমপক্ষে ২৫
জন এমপি শেষ মুহূর্তে মন পরিবর্তন করে প্রস্তাবের পক্ষে ভৌট দিয়েছেন,
কিন্তু লর্ড সভা থেকে
বিলটি ফিরে আসলে এরা শেষ পর্যন্ত বিয়াল্লিশ দিনের আটকাদেশের প্রস্তাবের বিপক্ষে
দাঁড়িয়ে যেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
লন্ডনঃ
১২ জুন,
২০০৮ |