|
পাকসেনা হত্যাঃ যুক্তরাষ্ট্রের
বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে ইসলামাবাদ
বুধবার
মার্কিন বাহিনীর হাতে আফগান সীমান্তে এগারোজন সেনা-সদস্যের প্রানহানীর ঘটনাকে ঘিরে
দীর্ঘদিনের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মুখ
খুলেছে পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার এক সরকারী
বিবৃতিতে মার্কিনীদের হামলাকে 'কাপুরুষোচিত' হিসাবে আখ্যায়িত করেছে ইসলামাবাদ।
উল্লেখ্য, বুধবার
পাক-আফগান সীমান্তে 'জঙ্গীদের' সাথে সংঘাত চলাকালে মার্কিন বিমান হামলায় পাক সেনারা
প্রাণ হারিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার পাক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
বুধবার আফগান বাহিনীর
একদল সদস্য পাকিস্তান সীমান্তের ভেতরে ঢুকে গোরা প্রাই চেকপৌস্ট দখল করে নেয়ার
চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পাক কর্তৃপক্ষের
দাবীমতে, এ-সময় মার্কিন বাহিনী আফগানদের সমর্থনে এগিয়ে এসে স্থল ও বিমান হামলা
চালায়।
খবরে প্রকাশ, এ-সময় পাক
তালেবানের সদস্যরা এসে মার্কিনীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দেয়।
মার্কিন হামলার ঘটনায়
পাকসেনা ছাড়াও পনেরোজনের মত পাকিস্তানী তালেবান সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা
গেছে।
ইসলামাবাদ মনে করেছে,
সম্পূর্ণ বিনা-উস্কানীতে
মার্কিন বাহিনী যে-ঘটনা ঘটিয়েছে, তা দুই মিত্র দেশের মধ্যে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত
করেছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের
ব্যাপারেও ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের প্রতি দাবী জানানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, '[মার্কিন হামলায় পাক সেনা
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়] দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে মূলে আঘাত পড়েছে।'
এছাড়া 'সন্ত্রাসবাদ
বিরোধী লড়াইয়ে' পাক সেনাদের আত্মত্যাগের ব্যাপারটিও মার্কিন বিমান হামলার ঘটনায়
অবমাননার মধ্যে পড়েছে বলে মনে করছে পাকিস্তান।
পিপিপি নেতৃত্বাধীন
সরকারের পক্ষ থেকেও মার্কিন হামলায় সেনাহানীর তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ
রাজা জিলানী বলেছেন, 'সার্বভৌমত্ব ও দেশের সম্মান রক্ষার জন্য আমরা একটি অবস্থান
গ্রহণ করবো।'
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে
দেয়া বিবৃতিতে বিমান হামলায় কড়া নিন্দা করা ছাড়াও এ-ধরণের ঘটনার পরিনতি সম্পর্কে
দ্বিতীয়বারের মত ভাবনা-চিন্তা করার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানানো
হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের দিনের শেষভাগে
মার্কিন রাষ্ট্রদূত
এান
পিটারসনকে ডেকে নিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে পাক কর্তৃপক্ষ।
পারভেজ মুশাররফ কোনো
মন্তব্য করেছেন কি-না, তা জানা যায়নি।
এদিকে,
মার্কিনীরা জানিয়েছে 'জঙ্গীবাদীদের' দমনের লক্ষ্য থেকে পাক-আফগান সীমান্তে বিমান ও
আর্টিলারী হামলাটি চালানো হয়েছিলো।
মার্কিনীদের দাবীমতে,
ভুলক্রমেই পাক সেনারা হামলার শিকার হয়েছে।
তবে তারা দাবী করেছে
সীমান্তবর্তী গোরা প্রাই নামক স্থানে প্যারামিলিটারী আউটপৌস্টে একদল 'জঙ্গীর'
'লুকিয়ে' থাকার খবর পেয়ে হামলা চালানো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো এবং হামলা চালানোর
খবরটি পাক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিলো।
কিন্তু 'বহুজাতিক'
বাহিনী কর্তৃক আফগানিস্তান থেকে পাক সীমান্তে প্রবেশের কথা অস্বীকার করা হয়েছে
বিবৃতিতে।
মার্কিনীদের বক্তব্যের সাথে অবশ্য পাক কর্তৃপক্ষের দাবীতে গরমিল লক্ষ্য করা গেছে।
কেনো-না, হামলার খবর আগে
থেকে জানার খবরটি অস্বীকার করেছেন পাকিস্তান।
বুধবারের ঘটনাকে কেন্দ্র
করে পারভেজ মুশাররফের প্রশাসনের সাথে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক কোনদিকে যায়,
সেদিকে এখন নজর রাখা হচ্ছে।
২০০১ সালে তথাকথিত
'সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে' যোগ দেয়ার পরে মার্কিনীদের কার্যকলাপে আরও কয়েকবার
বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লেও, এবারের ঘটনাটিকে পূর্বের যে-কোনো সময়ের তুলনায়
পরিস্থিতির বিচারে মুশাররফের জন্য অধিক বিব্রতকর হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, তালেবানদের
কীভাবে দমন করা যায়, তা নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামিদ কারজাইয়ের আফগান সরকারের
সাথেও সম্পর্ক নিম্মগামী হচ্ছে মার্কিনীদের।
লন্ডনঃ ১১ জুন, ২০০৮ |