|
রাজপ্রাসাদ ছাড়ার ঘোষণা
জ্ঞানেন্দ্রেরঃ হত্যাকাণ্ডের দায় অস্বীকার
অবশেষে
কাঠমান্ডুর নারায়নহিতি রাজপ্রাসাদ ত্যাগের ঘোষণা এসেছে নেপালের শেষ রাজা
জ্ঞানেন্দ্রের পক্ষ থেকে।
গুজব ছিলো শেষমেশ কোনো
একটা গোলযোগ পাকানোর চেষ্টা করলেও করতে পারেন পতিত রাজা।
তবে বৃহস্পতিবার
এতোদিনের বাসস্থান ত্যাগ করার প্রাক্কালে জ্ঞানেন্দ্র জানিয়েছেন, জনরায়ের প্রতি
শ্রদ্ধা দেখিয়ে তিনি চলে যাচ্ছেন।
এছাড়া ২০০১ সালের
প্রাসাদ হত্যাকাণ্ডের সাথে কোনো ধরণের সংশ্লিষ্টতার কথাও জোর গলার অস্বীকার করেছেন
জ্ঞানেন্দ্র।
স্মরণ করা যেতে পারে,
দু'সপ্তাহ আগে
রাজতন্ত্রের বিদায় ঘটিয়ে প্রজাতন্ত্রে উত্তরণ ঘটেছে নেপালের।
এছাড়াও দেশটি
রাষ্ট্রধর্ম বিধানের অবসান ঘটিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসাবে গ্রহণ
করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জ্ঞানেন্দ্র জানান,
রাজতন্ত্রের বিলোপ
ঘটানোর ব্যাপারে অধুনা নির্বাচিত সাংবিধানিক পরিষদের গৃহীত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে
তিনি শ্রদ্ধাশীল।
উল্লেখ্য,
মাওবাদীদের সাথে নেপালী
কংগ্রেসের পূর্ব-রফা মোতাবেক রাজতন্ত্রের অবসান হয়েছে নেপাল।
জানা গেছে,
রাজাপ্রাসাদ ত্যাগ করার
পরে কাঠমান্ডুর উপকন্ঠে রাজ-পরিবারের ব্যবহৃত একটি গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদে বাস করতে
শুরু করবেন জ্ঞানেন্দ্র ও তার পরিবার।
তবে রাজাদের ব্যবহৃত
সবকটি প্রাসাদকে রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিয়ে যাবার ব্যাপারে জনগণের পক্ষ থেকে সরকারের
উপরে চাপ আছে।
জ্ঞানেন্দ্র সাংবাদিক সম্মেলনে
জানিয়েছেন,
ক্ষমতা ত্যাগের নিদর্শন-স্বরূপ
তিনি হীরক-খচিত মুকুট,
ময়ুর-পালক ও চমরি গাইয়ের
কেশ সহযোগে নির্মিত রাজদন্ডটি সাংবিধানিক পরিষদের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে চলে যাবার ঘোষণা দিলেও,
সামনের দিনগুলোতে
নেপালের রাজনীতিতে জড়ানোর ব্যাপারে পরোক্ষ ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন জ্ঞানেন্দ্র।
এছাড়াও বিদেশে চলে যাবেন
না বলেও জানান দিয়েছেন জ্ঞানেন্দ্র।
তিনি বলেছেন, 'আমি
জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়েছি ও সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেছি।
আমি দেশেই অবস্থান করবো
এবং শান্তি-প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবো।'
সাংবিধানিক পরিষদের
নির্বাচনে মাওবাদীদের জয়লাভের পর থেকেই শোনা যেতে থাকে যে, দেশত্যাগী হবেন
জ্ঞানেন্দ্র।
পর্যবেক্ষকদের মতে,
বৃহস্পতিবারের ঘোষণাটির মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রে উত্তরণের সর্বশেষ ধাপটি সম্পন্ন হলো
নেপালে।
বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে ২০০১ সালের প্রাসাদ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কোনো ধরণের যুক্ত
থাকার কথা অস্বীকার করেছেন জ্ঞানেন্দ্র।
উল্লেখ্য,
সে-সময় রাজপ্রাসাদে এক
রহস্যময় হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন রাজা বীরেন্দ্র ও তার পরিবারের সকল সদস্য প্রান
হারিয়েছিলেন।
বলা হয়েছিলো, মদ্যপ অবস্থায়
বীরেন্দ্রের ছেলে এ-হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছিলেন।
বীরেন্দ্র ও তার
বংশধরদের মৃত্যুজনিত কারণে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন তার ভাই জ্ঞানেন্দ্র।
কোনো প্রমাণ পাওয়া না
গেলেও বীরেন্দ্র হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জ্ঞানেন্দ্রের যুক্ত থাকার ব্যাপারে এমনকি
সাধারণ নেপালীদের মধ্যেও সব-সময় সনেদহ বিরাজ করছে।
আর এ-কারণেই ভগবান
বিষ্ণুর প্রতিনিধি হিসাবে বিবেচিত রাজার পদটির ব্যাপারে বিতৃষ্ণা দেখা দিয়েছিলো
অনেক নেপালীর মনে।
জ্ঞানেন্দ্র বৃহস্পতিবার
দাবী করেন যে, প্রাসাদ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তার হাত নেই।
তিনি বলেন, 'আমাদের
বিরুদ্ধে [হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ] যে অভিযোগ ছোঁড়া হয়েছে তা অমানবিক।'
বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকা
নিয়ে নেপাল-জুড়ে তাকে নিয়ে যে-সব কথাবার্তা চলছে, সে-ব্যাপারেও মুখ খুলেছেন
জ্ঞানেন্দ্র।
তিনি বলেন, 'আমার যাবতীয় সম্পদ
নেপালেই আছে।
আমার যাবতীয় সম্পদ জাতীয়করণ করা
হয়েছে।
গত সাত বছরে আমি কোনো অর্থ বা
সম্পদ অর্জন করিনি।'
তবে নেপাল থেকে বিভিন্ন
সময়ে প্রকাশিত খবরাখবরে প্রকাশ, পর্যটন, চা ও তামাক ব্যবসায়ে বিপুল বিনিয়োগের
বদৌলতে বৈশ্বিক পর্যায়ের অতি-ধনীদের কাতারে ফেলা যায় জ্ঞানেন্দ্রকে।
লন্ডনঃ ১১
জুন, ২০০৮ |