|
শেখ হাসিনা সাময়িক মুক্তি পেয়েছেনঃ বৃহস্পতিবার বিদেশ যাচ্ছেন
এগারো
মাস বন্দী রাখার
পরে বুধবার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ
প্রধান শেখ হাসিনাকে আট সপ্তাহের জন্য সাময়িক মুক্তি দিয়েছে সেনা নিয়নিত্রত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
বুধবার দুপুর
পৌনে দুইটার দিকে মুক্তি
পাবার পর থেকে শেখ হাসিনা বর্তমানে ঢাকায় নিজ-বাসভবন সুধা
সদনে অবস্থান করছেন।
গত বছরের ১৬ জুলাই
হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে,
চিকিৎসার লক্ষ্যে আগামী
বৃহস্পতিবার
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে পারেন তিনি।
কারাগার
থেকে বেরিয়ে হাসিনা সাংবাদিকদের সাথে কোনো
কথা বলেননি।
অপেক্ষমান বিপুল সংখ্যক
সংবাদ-মাধ্যম কর্মীদের
সামনে তিনি শুধু বলেন,
'আমি ভালো আছি।'
সংসদ ভবনের বিশেষ
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সুধাসদনে যাবার পথে,
ধানমন্ডি বত্রিশ
নম্বরে তার পৈতৃক বাড়ী ও বর্তমানের বঙ্গবন্ধু যাদুঘরে কিছু সময়ের
জন্য অবস্থান করেন হাসিনা।
কারাগার থেকে বের হয়ে
হাসিনা ঢাকা মেট্রো ঘ-০২-৩৩৪২
b¤^‡ii
একটি কালো রঙের গাড়িতে বত্রিশ
নম্বরে প্রবেশ করেন।
পাঁচটি কালো রঙের গাড়ির
বহর তাকে নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে সেখানে পৌঁছায়।
মানিক মিয়া এভিনিউ
পৌঁছার পর নেতা-কর্মীরা হাসিনার গাড়ি ঘিরে ধরে।
এ-সময় গাড়ির বহরটি খুব
ধীরে এগুতে থাকে।
নেতা-কর্মীরা গাড়ির বহরের পাশে
হেঁটে যেতে-যেতে
স্লৌগান
দিতে থাকে।
সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগার থেকে
বত্রিশ নাম্বার পর্যন্ত
সামান্য রাস্তাটুকু পাড়ি দিতে শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়ী
বহরটি বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়।
বত্রিশ
নম্বরে শেখ
মুজিবর রহমানের
প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ
করেন হাসিনা।
সাদার ওপরে নীল ছাপার
টাঙ্গাইলের শাড়ি পড়া হাসিনা এরপর তার
ছোটবেলার ঘরে কিছু সময়
কাটান।
বত্রিশ
নম্বর থেকে গাড়ি বহরটি বের হওয়ার পর আবারও নেতা-কর্মীদের ভিড়ের
মুখে পড়ে।
শেখ হাসিনাকে এক-নজর দেখার জন্য
বৃষ্টি উপেক্ষা করে অপেক্ষমান হাজার-হাজার মানুষ ও নেতা-কর্মী রাস্তায় নেমে আসে।
ভিড় সামলে গাড়ি বহরটি
খুব ধীরে সুধা সদনের দিকে অগ্রসর হয়।
ভিড়ের কারণে সুধা সদনের
ভেতরে ঢুকতে তার প্রায় ২০ মিনিট লেগে যায়।
পৌনে তিনটায় শেখ হাসিনা
এগারো মাস পরে বাড়ীতে
প্রবেশ করেন।
সুধা সদনে পৌঁছানোর একটু
পর দোতলার বারান্দায় উঠে অপেক্ষমান সমর্থক ও জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন হাসিনা।
তাকে দেখে নেতা-কর্মীরা
'শেখ হাসিনা' 'শেখ হাসিনা' স্লৌগানে
চারদিক কাঁপিয়ে তোলে।
এ-সময় আবেগাপ্লুত
হয়ে শাড়ির আঁচলে মুখ ঢাকেন
হাসিনা।
এক পর্যায়ে চশমা খুলে তিনি
চোখ-মুখ মুছতে থাকেন।
এছাড়াও সমবেত জনতার
উদ্দেশ্যে সাহসের স্মারক-স্বরূপ
মুষ্টিবদ্ধ হাত উত্তোলন করেন শেখ হাসিনা।
দলীয়
সূত্রে জানা গেছে,
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবার আগে সুধা সদনেই থাকবেন এবং
তিনি টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন না।
উল্লেখ্য,
হাসিনাকে মুক্ত করে
দেয়ার কিছু আগে পূর্ব-সিদ্ধান্ত
অনুসারে
স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ
থেকে যাবতীয় কাগজপত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন
করা হয়।
উল্লেখ্য,
দল-প্রধানকে
স্বাগত জানাতে আওয়ামী লীগের শত-শত নেতা-কর্মী সকাল থেকেই সুধা সদন
ও বিশেষ কারাগারের আশেপাশে সমবেত হন।
এ-কারণে
সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
সুদা সদনের সামনে ব্যাপক
সংখ্যক পুলিশ,
রাব
ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়।
কারা মহাপরিদর্শক জাকির
হাসান সোয়া ১২টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন,
'শেখ হাসিনার সাময়িক মুক্তির আদেশ আমার হাতে পৌঁছেছে।
তাকে দু'মাসের
জন্য মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আজই তাকে মুক্তি দেওয়া
হবে।'
তিনি আরও
বলেন, 'আজ (বুধবার ) প্যারোলে মুক্তির পর
সম্ভবতঃ তিনি বৃহস্পতিবার বিদেশ যাবেন।
মেডিক্যাল
বৌর্ডের পরামর্শ অনুযায়ীই শেখ হাসিনাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে
বলে জানান তিনি।
মুক্তির শর্ত অনুযায়ী
শেখ হাসিনার মুক্তির আদেশ সরকার যেকোনো
সময়ে বাতিল করতে পারবে।
আদেশে
বলা হয়, ফৌজদারী
কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ৪০১ (৪এ) ধারার ক্ষমতাবলে ১১ জুন থেকে ৬ আগস্ট
পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
মেডিক্যাল বোর্ডের
সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন ধরেই শেখ হাসিনাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে
পাঠানোর উদ্যোগ চলছিলো।
এজন্য আইনজীবীদের
আবেদনের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে কয়েকটি মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে তার অব্যাহতির
ব্যবস্থা করা হয়।
শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক
সম্প্রতি বলেছেন,
অবিলম্বে কানের চিকিৎসা না করা হলে তিনি চিরতরে বধির হয়ে যেতে
পারেন।
মেডিক্যাল
বৌর্ড হাসিনাকে আগের
জায়গায় চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।
২১ আগস্টের গ্রেনেইড
হামলায় প্রচণ্ড শব্দে শেখ হাসিনার কানের মারাত্মক ক্ষতি হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে
চিকিৎসা নেন।
আবদুর
রহিম হারমাছি ঢাকা থেকে
১১ জুন,
২০০৮ |