|
হেডস্কার্ফ বিতর্কঃ সাংবিধানিক
আদালতের বিরুদ্ধে তুর্কী প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ববিদ্যালয়ে
হেডস্কার্ফ পরিধান নিষিদ্ধ করায় দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের বিরুদ্ধে তীব্র
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেজেপ তায়েপ এরদোগান।
তিনি জানিয়েছেন, এ-ধরণের
রায় প্রদানের মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টের আইন প্রণয়ন ক্ষমতার উপরে হস্তক্ষেপ করার
মাধ্যমে এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছে সাংবিধানিক আদালত।
উল্লেখ্য, গত পাঁচ
তারিখে সাংবিধানিক আদালতের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট কর্তৃক পাস হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে
হেডস্কার্ফ পরিধানের অনুমতিকে নিষিদ্ধ করে রায় দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার
প্রথমবারের মতো গত সপ্তাহের রায়টি ব্যাপারে মত প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে
এরডোগান দাবী করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে হেডস্কার্ফ পরিধানের আইনের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে
সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছে।
পার্লামেন্টে দেয়া
বক্তব্যে তিনি বলেন, 'এটা সকল পক্ষের, বিশেষতঃ সাংবিধানিক আদালত এবং বিচার বিভাগের,
দায়িত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করা।'
তুরস্কের সেক্যুলারপন্থী
প্রধান বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, 'এ-মানুষগুলো [বিরোধী দল] দেশের
স্থিতিশীলতা নষ্ট করা ও মনোবল ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করছে।'
উল্লেখ্য, সাংবিধানিক
আদালতের রায়কে তুরস্কের সকল সেক্যুলার দল ও মহলের পক্ষ থেকে তুমুলভাবে অভিনন্দিত
করা হয়েছিলো।
আদালতের
উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তুর্কী প্রধানমন্ত্রী বলেন, কী কারণে হেডস্কার্ফ
সংক্রান্ত আইনটিকে পুনঃনিরীক্ষা করা হয়েছে, তা সর্বোচ্চ আদালতকে অবশ্যই
সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে জানাতে হবে।
আদালতের রায়কে অবৈধ
হিসাবে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'আইনের শাসন লঙ্ঘনের যে-কোনো প্রচেষ্টার ফলে জাতীয়
সংহতি বিনষ্ট হবে।'
তুর্কী প্রধানমন্ত্রী
জানান, ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ, সাংবিধানিক নীতিমালা এবং আইনের শাসণ রক্ষা করার
ব্যাপারগুলো সকল পক্ষকে নিবিড়ভাবে অনুসরণ করতে হবে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয়ে হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধ করার পরে সাংবিধানিক
আদালতের পক্ষ থেকে ক্ষমতাসীন একেপি-সহ একাত্তর জন ধর্মবাদী রাজনীতিকের রাজনীতি
নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ গৃহীত হবার আশঙ্কা থেকেই মঙ্গলবার কড়া কথাবার্তা-সহ মাঠে
নেমেছেন।
উল্লেখ্য, একাত্তর জনের মধ্যে
এরডোগান ছাড়াও প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুলের নামও অর্ন্তভূক্ত আছে।
লন্ডনঃ ১০
জুন, ২০০৮
তুরস্কের সাংবিধানিক আদালতের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধকরণ
সংক্রান্ত বিস্তারিত খবরের জন্য ইউকেবেঙ্গলির ৫ জুনের প্রতিবেদন
পড়ুনঃ
8 |