London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

ন্যাশনাল চ্যালেইঞ্জ ঘোষিতঃ উন্নয়ন না দেখালে ৬৩৮ স্কুল বন্ধ

আগামী ২০১১ সালের মধ্যে ব্রিটেইনে যে-সমস্ত সেকেন্ডারী স্কুল শিক্ষার্থীদের ফলাফলে সরকারী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না, সে-সমস্ত স্কুল বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। ব্যর্থ স্কুলগুলোকে  তুলে দাঁড় করাবার জন্য পূর্ব-ঘোষিত তহবিলকে দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকদের প্রধান দু'টি ট্রেইড ইউনিয়ন - নাট ও ন্যাসউইট -  সরকারের এ-পরিকল্পনাকে কঠোর সমালোচনা করে প্রত্যাখান করেছে।

লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছুতে ব্যর্থ হওয়া স্কুলগুলোর ব্যাপারে ডিপার্টমেন্ট ফর চিল্ড্রেন, স্কুলস ান্ড ফ্যামিলিস (শিশু, স্কুল ও পরিবার মন্ত্রণালয়) মঙ্গলবার 'ন্যাশনাল চ্যালেইঞ্জ' শীর্ষক একটি স্কীম ঘোষণার মাধ্যমে এক বিস্তারিত পরিকল্পনা হাজির করেছে।  যে-স্কুলগুলোতে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী জিসিইসি পরীক্ষায় ইংলিশ ও গণিত-সহ ৫টি বিষয়ে এ-স্টার থেকে সি-গ্রেইড পাচ্ছে না, সে-স্কুলগুলোকে সরকার ব্যর্থ স্কুল হিসেবে চিহ্নিত করে  'চ্যালেইঞ্জ স্কুল' তালিকার অন্তর্ভূক্ত করেছে। সরকারী হিসেব মতে, সারা দেশে ৬৩৮টির মতো চ্যালেইঞ্জ স্কুল রয়েছে। বলা হচ্ছে, চিহ্নিত এ-স্কুলগুলো যদি ২০১১ সালের মধ্যে উন্নতি না দেখাতে পারে, তাহলে হয় এগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হবে অথবা একাডেমী বা ট্রাস্ট - স্কুলে রূপান্তরিত করা হবে।

চ্যালেইঞ্জ স্কুলগুলোকে উদ্ধার করার জন্য স্কুল মন্ত্রণালয় লৌক্যাল অথোরিটীগুলোকে মূল ভূমিকা পালন করার জন্য বলেছে।  স্কুল মন্ত্রী এডওয়ার্ড বল জানিয়েছেন, পূর্বের বরাদ্দ দ্বিগুণ বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মোট ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ডের তহবিল দেয়া হবে [চ্যালেইঞ্জ] স্কুল গুলোকে সফল করে তোলার জন্য। ২০১১ সালের মধ্যে স্কুলগুলোর ফলাফল উন্নত করার বিস্তারিত পরিকল্পনা লৌক্যাল অথোরিটীগুলোকে এ-সামার টার্মের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কাছে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে স্কুল মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চ্যালেইঞ্জ স্কুলগুলোতে ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে ফলাফল উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা কী এবং লক্ষ্য পূরণের ব্যর্থ হবার ঝুঁকির মাত্রা তাদের কতোটুকু - উচ্চ, মাঝারি অথবা নিম্ন - তারও এসেসমেন্ট লৌক্যাল অথোরিটীর  পরিকল্পনায়অন্তর্ভূক্ত থাকতে হবে।

স্কুল সেক্রেট্যারী এড বল চ্যালেইঞ্জিং স্কুলসমূহের গভর্নিং বডীগুলোকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন যাতে তারা যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব মিটিং করে নিজ-নিজ স্কুলের হেডটিচার ও অপরাপর শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে। এড বল সতর্কতা ব্যক্ত করে বলেছেন, 'যদি দেখা যায়, কোনো স্কুল এ বছরের ক্রিসমাসের মধ্যে কোনো উন্নতি দেখাচ্ছে না, তাহলে সরকারের পক্ষ থকে সেখানে হস্তক্ষেপ করা হবে। তিনি বলেন, 'অটাম টার্মের মধ্য যদি আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, কোনো স্কুলের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন রয়েছে কিন্তু তা সামাল দেবার মতো কঠোর কোনো তৎপরতা সেখানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, তাহলে পরবর্তী শিক্ষা বছরের জন্য আমাদের ক্ষমতা প্রয়োগের কথা ভাবতে হবে'। তিনি আরও বলেন, 'যদি এমন কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে থাকে, যারা সমস্যা সম্পর্কে জ্ঞাত এবং তা সামাল দেবার মতো তহবিল পাওয়ার পরও কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না, তাহলে আমরা তাদের উপর হস্তক্ষেপ করবো [স্কুল সমূহে] হস্তক্ষেপ করতে।'

এদিকে, বিরোধী দল কনসার্ভেটিভ পার্টির শ্যাডৌ স্কুল সেক্রেট্যারী মাইকেল গৌভ সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছেন, 'সর্বশেষ উদ্যোগ এ-কথাই প্রমাণ করে যে, স্কুলগুলোর দূর্বলতা কীভাবে সামাল দিতে হবে তা সরকার জানতোই না।' তিনি বলেন, 'উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে এমন স্কুলের সংখ্যা কেবল ৬০০ই নয়, এ-রকম শতো-শতো স্কুল আছে, যেখানের অর্ধেরও কম সংখ্যক শিক্ষার্থী ভালো গ্রেইডের ৫টি জিসিএসই পাচ্ছে; এর ফলে জাতি হিসেবে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।

শিক্ষকদের ট্রেইড ইউনিয়ন নাসুইট-এর সেক্রট্যারী ক্রিস কীটস স্কুলের 'ব্যর্থতা ও বন্ধকরণ'-এর উপর সরকারী আলোকপাতের বিষয়টিকে প্রত্যাখান করে বলেন, 'ন্যাশনাল চ্যালেইঞ্জ-এর অংশ হিসেবে যে-স্কুলগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো মোটেও ব্যর্থ স্কুল নয়। মূলতঃ কতিপয় সাবজেক্টে  চাপিয়ে-দেওয় কিছু সংখ্যাবাচক টার্গেটে পৌঁছুতে এ-স্কুলগুলো নানা কারণে সক্ষম হয়নি কিন্তু আরও সহযোগিতা পেলে এ-স্কুলগুলো সে-লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে।'

শিক্ষকদের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম সংস্থা ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ টিচার্স-এর াক্টিং সেক্রেট্যারী ক্রিস্টিন ব্লাওয়ার সরকারের একাডেমী ও ট্রাস্ট স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনাকে চ্যালেইঞ্জ করেছেন। ব্লাওয়ার বলেন, 'একাডেমী ও ট্রাস্ট স্কুল সমস্যা সমাধানের পথ নয়। তিনি সরকারী নীতিতে দ্বিচারতা উল্লেখ করে বলেন, 'এড বলের বক্তব্যানুসারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি সহয়াতা যোগানোর চাবি হয়, তাহলে এগুলোকে [একাডেমী ও ট্রাস্টস্কুল] লৌক্যাল অথোরিটীর স্কুলসমূহ থেকে পৃথকীকরণের কী অর্থ থাকতে পারে?

লন্ডনঃ ১০ জুন, ২০০৮

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.