|
ব্রিটেইনে তিন মিলিয়ন ও শিশু
আড়াই মিলিয়ন পেনশনভোগী দরিদ্র
সরকারী
হিসাবেই ব্রিটেইনে প্রায় তিন মিলিয়ন শিশু ও আড়াই মিলিয়ন পেনশনভোগী মানুষ দারিদ্র
সীমার নিচে বাস করছেন।
মঙ্গলবার ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক
এন্ড পেনশনস কর্তৃক
প্রকাশিত তথ্যটিকে শিশু ও বয়ষক দারিদ্র নিরসনে পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির
অধিকারী দেশটির জন্য বড়ো
ধরণের এক ব্যর্থতা হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকার পক্ষ অবশ্য
জানিয়েছে, সমস্যা নিরসনের ব্যাপারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সরকারী
সূত্র-মতে, ২০০৬-২০০৭ সালের হিসাবে ব্রিটেইনে দারিদ্রবস্থার শিকার হয়ে থাকা শিশুর
সংখ্যা ২.৯ মিলিয়ন, যা ২০০৫-২০০৬ সালের তুলনায় ১ লক্ষ বেশি।
লেবারদের পক্ষ থেকে আসা
ঘোষণা অনুসারে ২০১০ সাল নাগাদ ব্রিটেইন শিশু-দারিদ্রের হার ১৯৯৯ সালের তুলনায়
অর্ধেক হয়ে যাবার কথা।
এছাড়াও তখন জানানো
হয়েছিলো, ২০২০ সালের মধ্যে ব্রিটেইন থেকে শিশু দারিদ্র নির্মূল করা হবে।
কিন্তু সর্বশেষ হিসাবে
দেখা যাচ্ছে, সরকার লক্ষ্যমাত্র অর্জনের ধারে-কাছেও নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে
ব্রিটেইনে দরিদ্র অবস্থায় নিপতিত শিশুর সংখ্যা ছিলো ৩.৪ মিলিয়ন।
এদিকে,
পেনশনভোগী লোকদের অবস্থাও দিনকে দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে ব্রিটেইনে।
২০০৬-২০০৭ সালের
হিসাব-মতে, ব্রিটেইনে পেনশনভোগীদের মধ্যে দারিদ্রের শিকার লোকের সংখ্যা ২.৫ মিলিয়ন,
যা ২০০৫-২০০৬ সালের তুলনায় ৩ লক্ষ বেশি।
এ-হিসাবে দেখলে প্রতিদিন
গড়ে ৮২২ জন পেনশনভোগী ব্রিটেইনে দারিদ্র-সীমার নিচে চলে যাচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
পেনশনভোগীদের মধ্যে দারিদ্র বৃদ্ধির এ-ঘটনা ১৯৯৮ সালের পরে প্রথম।
পেনশনভোগীদের মধ্যে
দারিদ্র বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনো-কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে আগেই আশঙ্কা ব্যক্ত করা
হয়েছিলো।
তবে পরিস্থিতি এতখানি অবনতি
হবার ব্যাপারটি কারও পক্ষেই ধারণা করা সম্ভব হয়নি।
কিছুদিন আগে ইন্সটিটিউট
অফ ফিসক্যাল স্টাডীজের (আইএফএস) পক্ষ থেকে পেনশনভোগী দরিদ্রের সংখ্যা ১ লক্ষ হতে
পারে বলে তথ্য দেয়া হয়েছিলো।
ব্রিটেইনের গড় আয়ের সাথে
সঙ্গতি রেখে পেনশন ক্রেডিট গ্যারান্টি বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও পেনশনভোগীদের মধ্যে
দারিদ্র বৃদ্ধির ঘটনায় আইএফএস-এর পক্ষ থেকে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে মঙ্গলবার।
বারোমাসের মধ্যে
পেনশনভোগীদের মধ্যে দরিদ্রের সংখ্যা ৩ লক্ষ বেড়ে যাবার ঘটনায় সরকারের 'চরম লজ্জা'
পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছে পেনশনভোগীদের জন্য সহায়তা প্রদানকারী চ্যারিটি হেলপ
দ্য এইজেড।
বিশ্লেষকদের মতে, পেনশনভোগীদেরকে নির্দিষ্ট আয়ের উপরে বেঁচে থাকতে হয় বিধায় তাদের
পক্ষে দারিদ্রবস্থা থেকে উত্তরণ লাভ বাস্তব অর্থে অসম্ভব।
পরিস্থিতি এমন যে,
পেনশনভোগীদেরকে নিত্য-প্রয়োজনীয় অনেক উপকরণ বাদ দিয়েই জীবন চালাতে হয়।
পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন,
রেন্ট ও মর্গেজের উচ্চমূল্যের কথা ধরলে, শিশু ও পেনশনভোগীদের মধ্যে দরিদ্রের সংখ্যা
সরকারী হিসাবের চেয়ে আরো বেশি।
এন্টি-পৌভার্টী
ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকে ব্রিটেইনে শিশু ও পেনশনভোগীদের মধ্যে দারিদ্র বৃদ্ধিকে
'লজ্জাকর' হিসাবে আখ্যায়িত করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য ৩ বিলিয়ন পাউন্ড বাড়তি
বরাদ্দের দাবী জানানো হয়েছে।
পেনশনভোগীদের দারিদ্রের ব্যাপারে যেসব সমালোচনা করা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য
তা সরাসরি মেনে নেয়া হয়নি।
কর্তৃপক্ষের মতে,
পেনশনভোগীদের দুর্গতি কমাবার লক্ষ্য থেকেই ২০০৮ সালের বাজেটে শীতকালীন বিশেষ
ব্যবস্থা হিসাবে ৫৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।
পেনশন মিনিস্টার মাইক
ও'ব্রায়ান পেনশনারদের দারিদ্রবস্থা প্রসঙ্গে বলেন, 'খাদ্যদ্রব্য ও জ্ব্বালানীর
মূল্যবৃদ্ধির কারণে পেনশনাররা চ্যালেইঞ্জের মধ্যে পড়েছেন।'
ব্রায়ান জানিয়েছেন
পেনশনারদের জন্য সস্তায় জ্ব্বালানী দেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জ্ব্বালানী
কোম্পানীগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও পেনশনারদের জন্য
আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এমপ্লয়মেন্ট
এান্ড
ওয়েলফেয়ার রিফর্ম স্টিফেন টিমস, ওয়ার্ক
এান্ড
পেনশন সেক্রেট্যারী জেইমস পার্নেল উভয়েই জানিয়েছেন শিশু ও পেনশনারদের দারিদ্র
নিরসনের ব্যাপারে সরকারী সার্বিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
লন্ডনঃ ১০ জুন, ২০০৮ |