|
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরৌপের পক্ষ
থেকে ইরানকে নতুন হুঁশিয়ারি
পরমাণু
কর্মসূচি স্থগিতের ব্যাপারে রাজী না হলে নতুন করে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবার
ব্যাপারে ইরানকে আবারো সতর্ক করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরৌপ।
স্লৌভেনিয়ার
ব্রদো প্রি ক্রানজুতে ইউএস-ইউরৌপীয়ান ইউনিয়ন সামিট থেকে মঙ্গলবার এই হুমকিটি জারী
করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরান সবসময় জানিয়েছে,
তার পরমাণু কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
কিন্তু পাশ্চাত্য বিশ্ব
ইরানের কথাবার্তায় কর্ণপাতে নারাজ।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার
মিত্ররা মনে করে পরমাণু কর্মসূচির উন্নতি ঘটিয়ে বোমা বানানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছে
ইরান।
মঙ্গলবার
সম্মেলনে-স্থলে আয়োজিত এক যৌথ সাংবাদিক-সম্মেলনে বক্তব্য দান-কালে জর্জ বুশ বলেন,
'পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধ ইরান বিশ্ব শান্তির জন্য ভয়াবহ এক হুমকি হিসাবে আবির্ভূত হবে।
এখন সময় এসেছে ইরানকে
থামিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে সকলে মিলে কাজ করার।'
ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র
করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউরৌপের মতভেদ থাকা সংক্রান্ত খবরাদিকে গুজব হিসাবে উড়িয়ে
দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইরানের ব্যাপারে কড়া
ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষপাতি মার্কিন প্রশাসন।
পক্ষান্তরে, ইউরেনিয়াম
সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ত্যাগ করার বিনিময়ে ইরানকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুযোগ-সুবিধা
প্রদানে ইউরৌপ রাজী আছে বলে মনে করা হয়।
কিন্তু মঙ্গলবার
দু'পক্ষের মধ্যেকার ইরান বিষয়ক চিন্তার ভিন্নতা প্রত্যাখান করে বুশ ঘোষণা করেন,
'আমরা একই পৃষ্ঠাতে অবস্থান করছি।'
ইসরায়েলের ব্যাপারে
ইরানী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদেনিজাদের হুমকির প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বুশ
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনার প্রতিবেশিদের মধ্যে একজন নেতা যখন আপনাকে ধ্বংস
করার ঘোষণা দেয়, তখন আপনিতো নার্ভাস হয়ে পড়বেন।'
উল্লেখ্য,
মাহমুদেনাজেদের পক্ষ থেকে অনেকবারই ইসরায়েলকে ধ্বংস করার হুমকি দেয়া হয়েছে।
কয়েকদিন আগে ইসরায়েলের
পক্ষ থেকে ইরানের হামলা চালানোর ব্যাপারে যে-কড়া হুমকিটি দেয়া হয়েছে,
সে-ব্যাপারটিকেও সহানুভূতির সাথে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ
থেকে 'প্রয়োজন পড়লে' ইরানে হামলা চালানোর অতীত হুমকির ব্যাপারে অবশ্য মঙ্গলবার কোন
উক্তি করেননি বুশ।
তবে তিনি জানান, ইরানের
ব্যাপারে 'কড়া কূটনীতি' অনুসরণের সময় এসেছে এখন।
বুশ অবশ্য স্বীকার করেন,
তার মেয়াদ-কালে ইরান বিষয়ক ইস্যুটির সমাধান নাও ঘটতে পারে।
এদিকে,
ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের জন্য নতুন কিছু সুযোগ-সুবিধার
প্রস্তাব নিয়ে তেহরান সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংস্থার ফরেইন পলিসী চীফ জেভিয়ার
সোলানা।
বুশের ভাষণ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র
ও ইইউ'র পক্ষ থেকে ইরান বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে মঙ্গলবার।
বিবৃতিতে বলা হয়, পরমাণু
কর্মসূচি থেকে সরে না আসলে 'নতুন পদক্ষেপের' মুখোমুখি হবার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে
তেহরান কর্তৃপক্ষকে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
ইউরেনিয়াম পরিশোধন কর্মসূচিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে ইরানকে।
শুধু তাই নয়,
এ-ব্যাপারটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবার ব্যাপারে ইন্টারন্যাশনাল
এাটোমিক
এনার্জী এজেন্সীর হাতে পুরো ক্ষমতা দিতে হবে।
এসব ব্যাপারে সাড়া না
পাওয়া গেলে আর্ন্তজাতিক ব্যাঙ্কিং সিস্টেমগুলোতে ইরানের তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে।
লন্ডনঃ ১০ জুন, ২০০৮ |