|
মুশাররফ-বিরোধী নতুন কর্মসূচির
সূচনা পাকিস্তানে
কিছুদিন বিরতির পরে নতুন করে
অবৈধ শাসক পারভেজ মুশাররফ বিরোধী বিক্ষোভের সূচনা হয়েছে পাকিস্তানে।
নয়া-কর্মসূচির অংশ
হিসাবে সোমবার পাকিসত্মানের প্রধান-প্রধান শহরগুলোতে হাজার-হাজার মুশাররফ-বিরোধী জনতা, আইনজীবী
ও বিচারকেরা
রাস্তায়
নেমেছেন।
বিক্ষোভকারীরা গত বছর
বরখাস্ত হয়ে যাওয়া বিচারকদের পুনঃনিয়োগ চাইছেন।
বিচারক পুনঃনিয়োগের
দাবীকে শুধু মুশাররফ নয় বরং পিপিপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রতিও এক ধরণের
চ্যালেইঞ্জ হিসাবে ধরে নেয়া হচ্ছে।
খবরে প্রকাশ, মুশাররফ-বিরোধী নতুন
পদক্ষেপে অংশ হিসাবে দিনের প্রধান কর্মসূচিটি পালিত হয়েছে দেশের প্রধান নগরী
করাচিতে।
জানা গেছে, করাচিতে সরকার বিরোধীরা
একটি বিক্ষোভ
র্যালীর সূচনা ঘটিয়েছে।
র্যালীতে
উপস্থিত জনতা 'মুশাররফ বিদায় হও' ধ্বনিতে সরব হয় বলে জানা গেছে।
সরকার বিরোধীদের
র্যালীটি আগামী বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এসে সমাপ্ত হবে।
তবে এর আগে
এ-র্যালী পাকিস্তান-জুড়ে
অনেকগুলো শহরে যাবে।
ধারণা করা হচ্ছে, ইসলামাবাদ থেকে
মুশাররফের প্রতি পদত্যাগের পুনঃদাবী জানানো হবে।
স্মরণ করা যেতে পারে, বিচারকদের নিয়োগের
বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আড়াই মাসে আগে গঠিত কোয়ালিশন সরকার থেকে গত মাসে বেরিয়ে গেছে
নাওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগ।
সোমবার করাচির বাইরে
মুলতান, কোয়েটার মত শহরগুলোতে
মুশাররফ-বিরোধী কড়া বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবার খবর পাওয়া গেছে।
সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে সোমবারের
র্যালীতে বিপুল সংখ্যক জনতার সাথে অন্যান্যের মধ্যে
হাজির ছিলেন মুশাররফের হাতে বরখাস্ত
হওয়া সিন্ধু প্রদেশের হাইকৌর্টের প্রধান বিচারক সাবিউদ্দীন আহমেদ।
র্যালীতে দেয়া ভাষণে সাবিউদ্দীন বলেন,
'আজ এক ঐতিহাসিক দিন।
আজ দেশ ও সংবিধানকে
রক্ষা করা প্রয়োজনে আইনজীবী ও বিচারকরা [আরও একবার] রাস্তায় নেমে এসেছেন।'
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে,
করাচির র্যালীটি উপলক্ষ্যে সরকার-পক্ষ নিরাপত্তা
বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যকে রাস্তায় নামিয়েছে।
তবে কোথাও থেকে কোনো
ধরণের শান্তি-ভঙ্গের খবর পাওয়া যায়নি।
ইসলামাবাদের কর্মসূচিতে
যোগদানের জন্য প্রধান-প্রধান শহরগুলো ছাড়া ছোটো-খাটো সকল স্থান থেকেই লোকজন জড়ো
হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রোববার মুসলিম লীগের
পক্ষ থেকে দশ-দফা অভিযোগ উত্থাপন-পূর্বক মুশাররফের পদত্যাগের দাবী জানানো হয়েছে
নতুন করে।
দলটি জানিয়েছে,
প্রেসিডেন্ট সরে
যেতে না চাইলে তাকে অভিশংসিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
মুশাররফের বিরুদ্ধে
মানবাধিকার লঙ্ঘন,
গণতন্ত্রকে কোণঠাসা করা-সহ দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে দলটি।
এছাড়াও মুশাররফ
সেনাবাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে এক অঘোষিত লড়াইয়ে
নামিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে
দলটি।
শরীফের দল মুশাররফকে যতো
তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়।
দলটি পার্লামেন্ট
নির্বাচনে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থান অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা
অর্জনকারী দল পিপিপি অবশ্য এক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করা হয়েছে।
ধারণা করা হয়, মুশাররফের প্রতি মার্কিন
আশীর্বাদ অব্যাহত থাকার কারণেই দোলাচলের মধ্যে আছে পিপিপি।
তবে আগামী বৃহস্পতিবার
মুশাররফ-বিরোধীদের ইসলামাবাদের কর্মসূচির পরে দলটি নুতন কোনো অবস্থান গ্রহণ করে
কি-না,
সেদিকে পর্যবেক্ষকরা এখন থেকে নজর রাখতে
শুরু
করেছেন।
লন্ডনঃ ৯ জুন, ২০০৮
আর্কাইভ8 |