|
লেবার নেত্রীর বাড়ীর
ছাদে উঠে প্রতিবাদঃ ফাদার্স ফর জাস্টিসের একজন গ্রেফতার
ক্ষমতাসীন
লেবার দলের ডেপুটী লীডার হ্যারিয়েট হারম্যানের দক্ষিণ-লন্ডনস্থ বাড়ীর ছাদে উঠে
রোববার সারা রাত ধরে ক্যাম্প করে নেত্রীকে শেষ পর্যন্ত বাড়ীর বা'র করতে বাধ্য করার
কারণে সোমবার একব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিস।
সংবাদ-মাধ্যমে
জানা যায়, গ্রেফতার-হওয়া লোকটি জাস্টিস ফর ফাদার্স গ্রুপের একজন সদস্য। উল্লেখ্য,
জাস্টিস ফর ফাদার্স হচ্ছে সন্তানের মা'র সাথে বিচ্ছিন্ন-হওয়া বাবাদের একটি সংগঠন
যারা তাদের ছেলে-মেয়েদের অধিক সান্নিধ্য ও পিতৃত্বের অধিকতর অধিকার প্রতিষ্ঠার
দাবীতে আন্দোলন করে আসছে। জানা যায়, সোমবার পুলিসে-ধরে নিয়ে যাওয়া প্রতিবাদী
বাবাটি তার সন্তানের কাছে অধিকতর প্রবেশাধিকার দাবী করে গত সপ্তাহান্তে হ্যারিয়েট
হারম্যানের বাড়ীর ছাদে উঠে বসেছিলো।
স্কটল্যান্ড
ইয়ার্ডের একজন মুখপাত্র জানায়, হারম্যানের বাড়ীর ছাদে মূলতঃ প্রতিবাদী দু'ব্যক্তি
চড়ে বসেছিলো। এর মধ্যে যে-জন নিচে নেমেছে, পুলিস তাকে গ্রেফতার করেছে, কিন্তু
অপর-জন এখনও ছাদেই আছে। গ্রেফতার-হওয়া ব্যক্তির নাম উল্লেখ থেকে বিরত থাকলেও তার
বয়স ৪৯ বলে জানিয়েছে পুলিস।
জাস্টিস ফর
ফাদার্সের সদস্যরা তাক-লাগানো-সব অভিনব কৌশল অবলম্বন করে সরকারের কাছে তাদের দাবী
জানিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে তারা গত ২০০৬ সালে পার্লামেন্টের কমন্স-সভার ডিবেইটিং
চ্যাম্বারে গিয়ে পাপরল্ রঙের ময়দা ভর্তি কন্ডম ছুঁড়ে মেরেছিলো তৎকালীন
প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের উপর।
জাস্টিস ফর
ফাদার্সের সর্বশেষ প্রতিবাদটি মোকাবেলায় পুলিস-দল রোববার থেকে হ্যারিয়েট হারম্যানের
হারন্স হিলের বাড়ীটিকে ঘিরে রাখে। পুলিস জানায় প্রতিবাদীদের কাছে এক সপ্তা'র জন্য
পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় ছিলো। কার্টুন সুপারহিরোর পোষাক-পরা প্রতিবাদীরা হারম্যানের
বাড়ীর ছাদে উঠে 'একজন পিতা জীবনের জন্য, শুধু গর্ভে আনার জন্য নয়' লেখা একটি
ব্যানার প্রদর্শন করতে থাকে। তারা দাবী জানায় যে, তারা নেত্রীর সাথে দেখা করতে চায়।
অবশ্য যদিও হারম্যান-সূত্রে জানানো হয় যে, এ-উদ্দেশ্যে কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেনি
প্রতিবাদীরা।
উপায়ান্ত না
পেয়ে শেষ-পর্যন্ত হারম্যানেরা বাড়ী ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন। বাড়ী
ছাড়ার আগে লেবার নেত্রী বলেন, 'আমি মনে করি এ-প্রতিবাদের কারণে আমার বাড়ীর
সামনে পুলিস বসিয়ে রাখাটা ন্যায়সঙ্গত নয়, পুলিসের করার মতো গুরুত্বপূর্ণ আরও অনেক
কাজ রয়েছে।' তিনি বলেন, 'আমি আরও মনে করি প্রতিবেশীদের জন্যও এটি ন্যায়সঙ্গত নয়,
সুতরাং আমরা বেরিয়ে যাচ্ছি।'
লন্ডনঃ ৯ জুন, ২০০৮
আর্কাইভ8 |