|
উপদেশ না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র
আমাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারেঃ কিউবা
হাভানা
মনে করে অন্যান্য দেশের প্রতি 'উপদেশ বাণী' না ছড়িয়ে অনেকগুলো ইস্যুতে কিউবার কাছ
শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
মানব পাচার সংক্রান্ত
২০০৮ সালের মার্কিন প্রতিবেদনে কিউবাকে অভিযুক্ত করার প্রতিবাদ-কালে উপরোক্ত
মন্তব্য করা হয়েছে দেশটির বিদেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
উল্লেখ্য, গত চার তারিখ
প্রকাশিত মার্কিন স্টেইট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদনে নারী ও শিশু পাচার রোধের
কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য অন্যান্য দেশের সাথে কিউবার নামটিও অন্তর্ভূক্ত করা
হয়েছে।
সোমবার
মার্কিন প্রতিবেদনটির ব্যাপারে মন্তব্য-কালে কিউবার বিদেশ মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের
বিরুদ্ধে পরিচালিত অপরাধমূলক ব্লকেইড, আগ্রাসন ও শত্রু তামূলক
নীতিগুলোকে বৈধতাদানের দূরভিসন্ধি থেকেই মার্কিনীরা সর্বশেষ পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের
ক্ষেত্রে কিউবার বাস্তবতা অগ্রাহ্য করা ও বিকৃত করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
মার্কিনীদের প্রতিবেদনে
দাবী করা হয়, যৌন-ব্যবসাতে ব্যবহারের জন্য নারী-শিশু পাচার রোধে ব্যবস্থা নেয়ায়
যথেষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে কিউবা।
এবার নিয়ে টানা ছ'বার
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ-ধরণের অভিযোগ করা হলো।
এছাড়া প্রতিবেদনে
কিউবাকে 'সেক্স ট্যুরিজম'-এর একটি স্থান হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
কিউবার
বিদেশ মন্ত্রালয়ের পক্ষ থেকে মার্কিন পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে জানানো হয়, কিউবার
বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত সামাজিক ও নৈতিক অর্জনগুলোকে কালিমা-লিপ্ত করা অপচেষ্টা
চালানো হয়েছে মার্কিন প্রতিবেদনে।
বিশেষ করে, নারী ও শিশুদের ব্যাপারে
কিউবার অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে সোমবারের প্রতিবাদটিতে।
মার্কিনীরা কিউবার
বিকাশমান ও পরিচ্ছন্ন পর্যটন শিল্প ধ্বংসের অপপ্রয়াসে লিপ্ত বলে মনে করছে কিউবা।
হাভানা মনে করে, ১৯৫৯
সালের বিপ্লব হবার পর থেকে জনগণের কল্যাণ-সাধন প্রক্রিয়াকে অভূর্তপূর্ব এক পর্যায়ে
নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে এবং এ-ক্ষেত্রে অর্ধ-দশক ব্যাপী মার্কিন-বিরোধিতা নিস্ফল
হয়েছে।
প্রতিবাদে জানানো হয়েছে যে-সব
কারণে সেক্সুয়াল ট্যুরিজম বা এ-ধরণের সামাজিক ব্যাধিগুলো বেড়ে ওঠে সেসব কারণগুলো
বিপ্লবের মধ্য দিয়ে কিউবার মাটি থেকে চিরতরে নির্মূল হয়ে গেছে।
মার্কিন
অভিযোগ প্রত্যাখান করে কিউবা জানিয়েছে [অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো] দেশের পর্যটন
শিল্পকেও যে-কোনো ধরণের সামাজিক ব্যাধির হাত থেকে মুক্ত রাখার জন্য যথাযথ নীতিমালা
অনুসরণ করা হয়।
এসব নীতিমালা লঙ্ঘনকারীদের
অতি-কঠোর শাস্তির বিধানের কথাও উল্লেখ করেছে কিউবা কর্তৃপক্ষ।
স্টেইট ডিপার্টমেন্টের
পক্ষ থেকে যে-সব কথা বলা হয়েছে, সে-সব কথা বলার মতো নৈতিক অবস্থান মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র নেই বলেই মনে করছে কিউবা।
এ-ধরণের কথাবার্তার
পেছনে কিউবার অর্থনৈতিক বা সামাজিক অগ্রগতির স্তব্ধ করার মানসিকতা ক্রিয়াশীল বলে
জানানো হয়েছে।
মার্কিন
প্রতিবেদনে যেসব করণীয় নির্দেশ করা হয়েছে, সেগুলোর প্রত্যাখান করে কিউবা জানিয়েছে,
অন্যদের প্রতি উপদেশ সরবরাহ না করে প্রস্টিটিউশান, যৌন শোষণ, বল-পূর্বক শ্রম আদায়, মানব পাচারের মত
অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো মোকাবেলার দিকে নজর দেয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের।
কিউবাতে শিশু, নারী ও
বৃদ্ধি-সহ সকল জনগণের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা দেয়া আছে, তা থেকে যুক্তরাষ্ট্র
বহু-আলোকবর্ষ দূরে আছে বলে দাবী করেছে হাভানা।
লন্ডনঃ ৯
জুন, ২০০৮
আর্কাইভ8 |