জন্মভূমি ইরান আক্রমণ করতে চায় ইসরায়েলী নেতা মোফাজ
ঘুষ-কেলেঙ্কারীতে
জেরবার ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী এহুদ
ওলমার্টের সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীদের একজন ও বর্তমান ক্যাবিনেটের পরিবহন
মন্ত্রী শাউল মোফাজ শুক্রবার সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, পারমাণবিক সমৃদ্ধিকরণ
বন্ধ না করলে ইসরায়েল ইরান আক্রমণ করবে। এক সপ্তাহ-ব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরান
বিষয়ে নিবিড় আলোচনার মোফাজের এ-হুমকিকে অত্যন্ত তাৎপর্য্যপূর্ণ বলে মনে করছেন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
ইসরায়েলের প্রভাবশালী হিব্রু দৈনিক ঈদিয়ত আহারনত-এর সাথে শুক্রবারে এক সাক্ষাতকার
মোফাজ বলেন, 'ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরী উদ্দেশ্যে তার কর্মসূচি অব্যাহত রাখে,
তাহলে আমরা [ইরানকে] আক্রমণ করবো।' ইরান বিষয়ে জাতিসংঘের এ-পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপ
সম্পর্কে মোফাজ বলেন, ''জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাসমূহ অকার্যকর।'
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর এক সময়কার চীফ অফ স্টাফ এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এই
মোফাজ জন্মেছিলেন ইরানে। আর সে-কারণে ইরানের প্রতি তার শত্রু ভাবাপন্নতায় একটি
বিশেষ মাত্রা যুক্ত রয়েছে বলে মনে করা হয়। ইসরায়েলের অস্তিত্ব অস্বীকারকারী এবং
ইহুদী রাষ্ট্রটি নিশ্চিহ্নকরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ ইরানের প্রসেডেন্ট আহমেদানিজাদ
সম্পর্কে শুক্রবার শাউল মোফাজ মন্তব্য করে বলেন, 'ইসরায়ল নিশ্চিহ্ন হবার আগে তাকে
[আহমেদানিজাদকে] নিশ্চিহ্ন করা হবে।' মোফাজ ইসরায়েল সিকিউরিটি কাউন্সিলের
শাউল মোফাজ শুধু-যে ইসরায়েলর সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তা-ই নয়, তিনি
বর্তমানেও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের একজন সদস্য এবং সিক্রেট প্ল্যানিংয়ের একজন
প্রিভী। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইসরায়েলের যে নিয়মিত যে-কৌশলিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়,
মোফাজ সেখানে ইসরায়েলী পক্ষের নেতৃত্ব দেন। এ-রকম অবস্থান থেকে ইরানের প্রতি
মোফাজের আনুষ্ঠানিক এ-হুমকিকে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। শুক্রবারের ঘোষণায় তিনি
জানিয়েছেন, ইরানের উপর যে-কোনো আক্রমণ ওয়াশিংটনের সাথে সমন্বিত করেই পরিচালনা করা
হবে। উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য ইসরায়েল এখন একাই যথেষ্ট
নয় বলে ধারণা করা হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী বারাক ওবামা গত সপ্তায় ইসরায়েলের
প্রতি তার সম্পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে বলেছেন যে, ইরান আক্রমণের বিষয়টি টেবলি
রয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক দাবীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে ইরান যদি তার পারমাণবিক
সমৃদ্ধিকরণ কর্মসূচি পরিত্যাগ করে, তাহলে দেশটিকে 'মীনিংফুল কনসেশন' দেয়া হবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা এহুদ
বারাক বলেছেন, ইরান যাতে কোনোক্রমেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করতে পারে, তা
নিশ্চিত করার জন্য ইসরায়ের সম্ভাব্য সর্বপ্রকারের চেষ্টা করতে হবে। প্রসঙ্গতঃ
ইরানের সুসংরক্ষিত ও সুবিশাল পারমাণবিক স্থাপনা মার্কিন সহায়তা ছাড়া একা ইসরায়েল
পক্ষে ধ্বংস করা সম্ভব নয় বলে সমর-বিশারদরা মনের করেন। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে ইসরায়েল
ইরাকের অভ্যন্তরে আক্রমণ চালিয়ে দেশটির প্রতিষ্ঠিত পারমাণবিক রি-এক্টরটি
ধ্বংস করে দেয়। একইভাবে গত বছর সেপ্টেম্বরে সিরিয়ার অভ্যন্তরেও বিমান আক্রমণ
চালিয়ে আমেরিকার অভিযোগ-করা উত্তর-কোরীয় সহায়তায় নির্মিত পারমাণবিক রিএক্টরটি ধ্বংস
করে দেয় স্বয়ং পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইসরায়েল।
সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, ইউরৌপীয় পররাষ্ট্র-বিষয়ক প্রধান জেভিয়ার সোলানীর শীঘ্রই
ব্রিটেইন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানীর উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিকদের নিয়ে একটি
মিশনের নেতৃত্ব দিবেন পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে রাজী করানোর জন্য ইরানের প্রতি
একটি 'ইনসেনটিভ' প্রস্তাব করা হবে। কিন্তু জানা গেছে, ইরান ইতোমধ্যে এ-প্রস্তাব
অগ্রীম-প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান শুরু থেকে বলে আসছে যে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি
শক্তি উৎপাদনে নিযুক্ত - অস্ত্র উৎপাদনে নয়। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল
এ-কথা মানতে রাজী নয়।
লন্ডনঃ ৬ জুন, ২০০৮
আর্কাইভ8
|
|
|
|
|