|
হেডস্কার্ফ বিরোধী রায় তুরস্কের
সাংবিধানিক আদালতে
বিশ্ববিদ্যালয়
অঙ্গনে হেডস্কার্ফ পরিধানের অনুমতি দিয়ে আইনসভাতে পাস হওয়া একটি আইন বাতিল করে
দিয়েছে তুরস্কের সাংবিধানিক আদালত।
বৃহস্পতিবার প্রদত্ত
রায়ে আদালতের পক্ষ থেকে আইনটিকে তুরস্কের সেক্যুলার আদর্শের বিরোধী হিসাবে আখ্যা
দেয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, হেডস্কার্ফ বিরোধী রায়টির পথ ধরে রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে ধর্মকে
যুক্ত করার দায়ে ক্ষমতাসীন জাস্টিস
এান্ড
ডিভোলাপমেন্ট পার্টির (একেপি) রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হতে পারে ভবিষ্যতে।
এদিকে একেপি মনে করছে,
রায় প্রদানের মধ্য দিয়ে এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছে আদালত।
স্মরণ
করা যেতে পারে, গত ফেব্রুয়ারী মাসে দেশ-ব্যাপী তুমুল বিরোধিতা অগ্রাহ্য করেই
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হেডস্কার্ফ পরিধানের অনুমতি দিয়ে পার্লামেন্টে একটি আইন পাস
করে ক্ষমতাসীন একেপি।
দলটি তখন জানায়, ১৯৮০
সালে হেডস্কার্ফ-বিরোধী আইন পাস করার মাধ্যমে ব্যক্তির বিবেকের স্বাধীনতা ও
শিক্ষালাভের অধিকারের উপরে হস্তক্ষেপ করা হয়েছিলো।
ফেব্রুয়ারীতে পাস হওয়া
একেপির আইনটির বিরুদ্ধে বিনা-বিলম্বে সাংবিধানিক আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলো তুরস্কের
প্রধান বিরোধী দল।
রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে
ধর্মকে দূরে রাখার যে-নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়, তুরস্কে তা সমুন্নত রাখার দাবী
জানিয়েছিলো দলটি।
তুরস্কে সেক্যুলার শিবির থেকেও
তখন চুরাশি বছর ধরে অনুসৃত আর্দশ থেকে সরে আসার জন্য একেপির তীব্র সমালোচনা করে
আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিলো।
সংবাদ
মাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, হেডস্কার্ফ সংক্রান্ত আইনটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য
তুর্কী সাংবিধানিক আদালত।
দীর্ঘ সাত ঘন্টা-ব্যাপী
অধিবেশন শেষে এগারো সদস্য বিশিষ্ট আদালতের পক্ষ থেকে আলোচ্য আইনটি রদ করার জন্য
সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়।
আদালতের পক্ষ থেকে
সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়ঃ [হেডস্কার্ফ সংক্রান্ত ] আইনটিকে অবাঞ্ছিত হিসাবে
বিবেচনা করা হয়েছে, কেনো-না এ-আইনটি দেশের সংবিধান-বিরোধী।
আদালতের পক্ষ থেকে মনে
করিয়ে দেয়া হয় যে, তুরস্ক সাংবিধানিকভাবে একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র এবং এই আদর্শ
অপরিবর্তনীয়।
সাংবিধানিক আদালতের এগারোজন
বিচারকের মধ্যে নয়জন সেক্যুলার ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন।
নিয়ম মোতাবেক সাতজন
বিচারক একমত হলেই সাংবিধানিক আদালতে যে-কোনো দিকে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বৃহস্পতিবারের রায়ের মধ্য দিয়ে একেপি রাজনীতি নিষিদ্ধ করার
দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে সেক্যুলার তুরস্ক।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে
ধর্মকে মিশ্রিত করার দায়ে একেপি ও এর একাত্তর জন রাজনীতিকের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার
হবে কি-না, সে ব্যাপারে কিছুদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে আদালতে।
একাত্তর রাজনীতিকের
মধ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল ও প্রধানমন্ত্রী রেজেপ তায়ীপ এরদোগানের
নাম দুটিও আছে।
তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ
ব্যবস্থাকে নস্যাৎ করতে চাওয়ার অভিযোগ আছে একেপি ও একাত্তর রাজনীতিকের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবারের রায়টিতে
সন্তোষ প্রকাশ করে তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব হুসামেত্তিন জিনদোরুক
সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, 'এটি একটি ঐতিহাসিক রায়।
তুরস্ক-যে একটি
সেক্যুলার রাষ্ট্র তা, এ-রায়ের মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'মনে
হচ্ছে সামনে একেপির জন্য কঠিন দিন আছে।'
বিরোধী
দল ও সেক্যুলার শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানানো হলেও ক্ষমতাসীন একেপির পক্ষ
থেকে সাংবিধানিক আদালতের রায়টির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
একেপির মতে গণতন্ত্র ও
পার্লামেন্টের আইন প্রনয়ন ক্ষমতার উপরে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বৃহস্পতিবারের রায়ের
মধ্য দিয়ে।
এছাড়াও সংবিধান পরিবর্তনের
ব্যাপারেও আইনসভার হাতে যে-এখতিয়ার আছে, তাও এখন সাংবিধানিক আদালতের সম্মতির উপরে
নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে আক্ষেপ করেছে দলটি।
উল্লেখ্য, একেপি সব-সময়
দাবী করে যে, তারা রাষ্ট্রক্ষেত্রে বলবৎ সেক্যুলার আদর্শের পরিপন্থী নয়।
তবে তুর্কী সেক্যুলার
শিবির থেকে একেপি সেক্যুলার আদর্শের ঘোরতর বিপক্ষ শক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
রায়ের
সূত্র ধরে দেশটিতে কিছুটা অস্থির পরিস্থিতি তৈরীর হবার আলামত টের পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, রায় ঘোষণার
পর-পর তুরস্কের শেয়ার বাজার নিম্মমুখী হয়েছে এবং তুর্কী মুদ্রা লিরার দামও কিছুটা
কমে গেছে।
বৃহস্পতিবার সাংবিধানিক আদালতের পক্ষ থেকে যে-রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তার পক্ষে
তুরস্কের সর্বোচ্চ নির্বাহী আদালত কাউন্সিল অফ কৌর্টের পক্ষ থেকেও সমর্থন পাওয়া
গেছে।
সেক্যুলারপন্থীদের আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হেডস্কার্ফ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা
তুলে না নেয়া হলে সর্বক্ষেত্রেই হেডস্কার্ফ পরিধানের ব্যাপারে নারীদের উপরে সামাজিক
চাপ বৃদ্ধির সমূহ আশঙ্কা আছে।
এছাড়াও বিদ্যালয় ও
সরকারী অফিসে হেডস্কার্ফ পরিধানের ব্যাপারে যে-নিষেধাজ্ঞা চালু আছে, তা উঠিয়ে নেয়ার
ব্যাপারে একেপি চেষ্টা চালাতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়।
লন্ডনঃ ৫
জুন, ২০০৮
আর্কাইভ8 |