|
নেপাল নিয়ে বিশেষ সাক্ষাৎকারে
পুষ্পক কুমার দাহাল
রাজতন্ত্র
থেকে প্রজাতন্ত্র পরিচয়, রাষ্ট্রধর্ম ব্যবস্থার
বিলোপ ঘটিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতায় উত্তরণ।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর
এক নতুনত্ব আর বিস্ময়ের জন্ম দিয়েই চলেছে হিমালয় দুহিতা।
এ-পরিবর্তনগুলোর
ক্ষেত্রে কম্যুনিস্ট পার্টি অফ নেপালের (মাওবাদী) ভূমিকাই-যে প্রধানতম, তা ইতোমধ্যে
সর্বজনবিদিত।
আর সঙ্গত কারণেই দীর্ঘ গেরিলা
জীবন শেষে কিছু দিন আগে প্রকাশ্যে আসা মাওবাদী নেতা পুষ্পক কুমার দাহাল ওরফে
প্রচণ্ডের উপরে পড়ে আছে সর্ব মহলের দৃষ্টি।
গত মাসের সাংবিধানিক
পরিষদের নির্বাচনে মাওবাদীরা জয়ী হবার ফলশ্রুতিতে এখন নেপালের প্রথম নির্বাচিত
প্রধানমন্ত্রী হবার পথে আছেন পুষ্পক কুমার।
নেপালের সর্বশেষ
পরিস্থিতি থেকে শুরু করে রাজতন্ত্রের বিলোপ-সহ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের মতো
স্পর্শকাতর বিষয়াদি নিয়ে জার্মানীর দার স্পাইজেল পত্রিকার সাথে কথা বলেছেন তিনি।
এছাড়াও ব্যক্তিগত জীবন
নিয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন মাওবাদী নেতা।
পাঠকদের আগ্রহের কথা মনে
রেখে সাক্ষাতকারটির উল্লেখযোগ্য অংশগুলো এখানে প্রকাশ করা হলো।
- সম্পাদক।
প্রজাতন্ত্রে উত্তরণের ব্যাপারে মন্তব্য-কালে প্রচণ্ড জানান, রাজতন্ত্রের অবসানে
নেপালীরা অসুখী নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, গত
মাসে মাওবাদীদের নির্বাচনী বিজয়ের পর থেকেই নেপাল-জুড়ে চলছে আননদ-উল্লাস।
প্রজাতন্ত্র ঘোষণাকে
নেপালীরা সাদরে বরণ করেছে বলে উল্লেখ করেন মাওবাদী নেতা।
গত ২৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে
প্রজাতন্ত্র ঘোষণার আগের দিন রাজধানী কাঠমান্ডুতে সাতটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে
বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে উড়িয়ে দিয়েছেন পুষ্পক।
দার
স্পাইগেলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, হিন্দু-রাষ্ট্র থেকে নেপালকে আনুষ্ঠানিকভাবে
ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে রূপান্তর করার কারণে হিন্দু উগ্রবাদীরা নাখোশ।
নেপালের বণিক
সম্প্রদায়ের কোনো-কোনো প্রভাবশালী সদস্যের পক্ষ থেকেও রাজা জ্ঞানেন্দ্রের ব্যাপারে
গৃহীত সিদ্ধান্তে নেতিবাচক মনোভাব প্রদর্শনের কথা জানানো হয় পুষ্পককে।
এছাড়াও লক্ষ-লক্ষ
হিন্দু-যে রাজাকে তাদের ভগবান বিষ্ণুর অবতার মনে করেন, সে-ব্যাপারটিও জানায় দার
স্পাইগেল।
জার্মান পত্রিকার এসব
পর্যবেক্ষণের জবাবে পুষ্পক কুমার জানান, এসব হচ্ছে বাস্তবতা সংক্রান্ত অতি-কথন।
তার মতে নেপালে হিন্দু
উগ্রবাদীদের সংখ্যা নিতান্ত হাতেগোনা।
রাজা জ্ঞানেন্দ্রকে
নেপালীরা বিষ্ণুর অবতার হিসাবে মান্য করার যে-কথা বলা হচ্ছে, তার সাথে দ্বিমত পোষণ
করেন পুষ্পক কুমার।
এ-প্রসঙ্গে তিনি ২০০১
সালের প্রাসাদ হত্যাকান্ডের ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দেন।
পুষ্পক বলেন, তখন থেকে নেপালীরা
জ্ঞানেন্দ্রকে অবতার নয় হত্যাকারী হিসাবে মনে করে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে রহস্যময় এক
হত্যাকান্ডের প্রাণ হারিয়েছিলেন তৎকালীন রাজা বীরেন্দ্র ও তার পুরো পরিবার।
কোনো প্রমাণ থাকলেও মনে
করা হয়, ভাই ও ভাইয়ের পরিবারের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে জ্ঞানেন্দ্রর হাত আছে।
পুষ্পক আরও উল্লেখ করেন
যে, রাজার পদ থেকে বিতাড়িত হলেও একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে সকল অধিকার ভোগ করতে
পারেন জ্ঞানেন্দ্র।
এমনকি জ্ঞানেন্দ্র চাইলে
নতুন রাজনৈতিক গঠন করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন মাওবাদী নেতা।
আর্ন্তজাতিক মহলের পক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বীকৃতি পাওয়া
সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের তালিকায় 'সন্ত্রাসবাদী' সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত
থাকার প্রসঙ্গে পুষ্পক কুমার বলেন, 'গত সপ্তায় কয়েকজন
মার্কিন কর্মকর্তার সাথে আমার কথাবার্তা হয়েছে।
তারা আমাকে জানিয়েছেন,
আমাদের [মাওবাদী ] নামটি তালিকা থেকে সহসাই বাদ দেয়া হবে এবং ওয়াশিংটন আমাদের সাথে
সহযোগিতার করার জন্য প্রস্তুত আছে।'
ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে পুষ্পক কুমার বলেন,
'আমি নেপালের জনগণ এবং সামন্ততন্ত্র থেকে তাদের মুক্তিতে সুখী।
এটা তাদের [জনগণের]
ঐতিহাসিক বিজয়।
ব্যক্তিগত দিক থেকে দেখলে এটা
অবশ্য বেশি জটিল।
একজন বিদ্রোহী হিসাবে, স্ত্রী
ও তিন সন্তানকে আমি সামান্যই সময় দিতে পারতাম।
এখন, আমার সাংঘাতিকভাবে মনে
হচ্ছে, আমার পারিবারিক জীবন আরও জটিলতার দিকে যাচ্ছে।
কিন্তু আমি মনে করি,
এ-মূল্য আমাকে দিতেই হবে।'
লন্ডনঃ ৩
জুন, ২০০৮
আর্কাইভ8 |