London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

বাংলাদেশে 'নো ভিসা' সীলের জন্য আবারও ফী আরোপ গোপনে

'নো ভিসা রিকোয়ার্ড সীল' দেবার জন্য আবারও বিনা নোটিসেই বহুল বিতর্কিত ৩২ পাউন্ড ফী আরোপ করেছে বর্তমান সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকার। গত এক দশকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশীদের দু-দফা আন্দোলন আর বহু দেন-দরবারের ফলে এ-ফী বাতিল করেছিলো সরকার। অথচ জনগণকে আগাম কোনো ঘোষণা না দিয়েই হঠাৎ করে ৩০ মে থেকে নো ভিসা রিকোয়ার্ড সীল নতুন পাসপৌর্টে ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩২ পাউন্ড আদায় করা শুরু করেছে বাংলাদেশের লন্ডন দূতাবাস।

এরফলে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন নো ভিসা রিকোয়ার্ড সীল নিতে যাওয়া অনেকেই। পূর্ব-লন্ডনের বাসিন্দা ইউকেবেঙলির পাঠক মোস্তাব আলী এদেরই একজন। ৩০ মে তিনি বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসৌসিয়েশনে যান তার নতুন পাসপোর্টে নো ভিসা রিকোয়ার্ড সীল ট্রান্সফার করতে। এখানে দূতাবাসের নিয়মিত কনস্যুলার সার্জারী পরিচালিত হয়। তার কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ৩২ পাউন্ড চাইলে মোস্তাব আলী অবাক ও ক্ষুব্ধ হন। কারণ, সকলের মতো তিনিও জানেন এ-কাজের জন্য ফী বছরখানেক আগেই তুলে দেয়া হয়েছে। এ-সময় দূতাবাস কর্মকর্তা নতুনভাবে ফী আরোপের সরকারী সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, 'আজ থেকে এ-বিধান কার্যকর হয়েছে।' এদিকে, দু-দু'বার বাতিল করা একটি নিয়ম নীরবে আবার চালু করার বিষয়টি কমিউনিটিতে ব্যাপক অসন্তোষ আর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মোস্তাব আলী ইউকেবেঙলির কাছে তার ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেছেন, 'এটি সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত।' তিনি প্রশ্ন করেন, 'কোনো ধরণের আগাম নোটি ছাড়া সরকার এ-ধরণের সিদ্ধান্ত কীভাবে হঠাৎ কার্যকর করে?' তিনি আরও বলেন, 'আগে থেকে জানা না-থাকায় আমি দূতাবাসের কর্মকর্তার ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়ি।' তিনি বলেন, 'এজন্য কাজ শেষে বেরিয়ে আমি ব্রিকলেইন থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে ফোন করে ফী আরোপের সত্যতা যাচাই করি।' ইউকেবেঙ্গলির পক্ষ থেকে এ-ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার সেকশন থেকে জানানো হয়, সরকারী আদেশ পেলে সাথে সাথেই তা কার্যকর করতে হয়। নতুন নিয়মটি কেনো মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণকে জানানো হলো না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা ফ্যাক্সযোগে এবং পৌষ্টে ২৮ মে এ আদেশ পেয়েছি আর ২৯ তারিখে দূতাবাসের ওয়েবসাইটে এ-ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি।'

কিন্তু ইউকেবেঙলীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখা বিগত ১৯ আগষ্ট ২০০৭ তারিখে জারীকৃত এক সার্কুলারে নো ভিসা রিকোয়ার্ড সীল নতুন পাসপোর্টে ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ৩২ পাউন্ড ফী আরোপের নতুন নির্দেশনা দেয়। মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখার উপ-সচিব শেখ আব্দুর রউফ স্বাক্ষরিত এ-সার্কুলার অবিলম্বে কার্যকর করার আদেশ দিয়ে এতে বলা হয়, 'পাসপোর্টের মেয়াদ যতোদিন থাকবে নো ভিসা রিকোয়ার্ড ফর ট্র্যাভেল টু বাংলাদেশ সুবিধা ততোদিন বহাল থাকবে এবং পাসপোর্ট বাতিল হলে উক্ত সুবিধাও বাতিল বলে গণ্য হবে।' এতে আরও বলা হয়, বিদ্যমান নো ভিসা রিকোয়ার্ড ফর ট্র্যাভেল টু বাংলাদেশ সীল নতুন পাসপোর্টে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মাথাপিছু ৫০ মার্কিন ডলার অথবা সম-পরিমান অর্থ ফী বাবদ প্রদান করতে হবে। একই সার্কুলারে নো ভিসা রিকোয়ার্ড ফর ট্র্যাভেল টু বাংলাদেশ সংক্রান্ত জারীকৃত আগের সকল সার্কুলার বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

দেখা যাচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে ঢাকা থেকে লন্ডনে একটি সরকারী আদেশ আসতে দীর্ঘ নয় মাসেরও বেশী সময় লেগেছে। আর এর ফলে ভোগান্তি বা বিড়ম্বনা যা-ই হোক, হয়েছে জনগণের। প্রশ্ন উঠেছে, দু'বার বাতিল করা ফীর বিষয়টি কোন্‌ বিবেচনায় সরকার আবার আরোপ করলো? স্রেফ আর্থিক কারণে তা করে থাকলে 'অবিলম্বের' আদেশ আর কার্যকরের মাঝে-যে নয় মাসের ফাঁক, তা কো আমলা পুষিয়ে দেবেন? ৫০ মার্কিন ডলারের সম-পরিমাণ অর্থ কি ৩২ পাউন্ড? সমগ্র বিষয়টিই প্রবাসীদের সাথে সরকারের একধরনের তামাশা কিনা এমন প্রশ্নও করছেন অনেকেই।

লন্ডনঃ ৩ জুন, ২০০৮                                                                                     আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.