|
বাংলাদেশে সংলাপঃ নির্বাচনের পর
জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার চেয়েছেন কামাল হোসেন
নির্বাচনের পর বাংলাদেশে 'সমমনা দলগুলোর'
একটি জাতীয় ঐকমত্যের
সরকার গঠন করা উচিত বলে মনে করেন গণফোরাম সভাপতি ডঃ কামাল হোসেন।
সোমবার
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ববধায়ক সরকারের সঙ্গে সংলাপে ডঃ কামাল এ-মত প্রকাশের পাশাপাশি
জরুরী আইন পর্যায়ক্রমে শিথিল করে নির্বাচনের বেশ আগে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জন্য
সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন।
সোমবার
প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দীন আহমদের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংলাপ শেষে এক যৌথ প্রেস
ব্রিফিংয়ে ডঃ কামাল হোসেন এসব কথা জানান।
উল্লেখ্য,
ডঃ কামাল শুরু থেকেই
বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।
সংলাপে গণফোরামের পক্ষ
থেকে লিখিত কিছু দাবী দাওয়া পেশ করা হয়েছে জানিয়ে ডঃ কামাল সাংবাদিকদের বলেন,
সৎ এবং যোগ্য প্রার্থীরা
যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা আমরা বলেছি।
একইসঙ্গে সন্ত্রাসী ও
কালো টাকা মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছি প্রধান উপদেষ্টাকে।
তিনি আরও বলেন,'নির্বাচন
কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে
কাজ করতে পারে, সে-বিষয়টি আমরা
প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি।'
প্রধান উপদেষ্টা নিশ্চিত
করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন
স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
ডিসেম্বরের
তৃতীয় সপ্তায় প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে-কথা বলেছেন, তাকে জাতীয় প্রতিশ্রুতি হিসেবে অভিহিত করা যায়
বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংলাপে
গণফোরামের উত্থাপিত লিখিত দাবীর মধ্যে
উল্লেখযোগ্য হলো, সংবিধান রিভিউ কমিশন গঠন করা।
গত তিন দশকের অভিজ্ঞতার
আলোকে সংবিধান সংশোধনের যে-সমস্ত পরামর্শ আলোচনায় উঠে এসেছে, সেগুলো বিবেচনার জন্য
পরবর্তী সংসদে একটি সংবিধান রিভিউ কমিশন গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ
থেকে।
যুদ্ধাপরাধের শাস্তি বিধানে
যথাযথঃ ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করারও দাবী জানানো হয়েছে।
গণফোরামের অন্যান্য প্রস্তাবগুলো হলো,
সংঘাত ও সংঘর্ষের
রাজনীতি পরিহার নিশ্চিত করা,
রাজনৈতিক সংস্কারের
মাধ্যমে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য জাতীয় ঐক্যমত্য গড়ে তোলা,
দলীয় সশস্ত্র ক্যাডার
বাহিনী বিলুপ্ত করা,
দলের আয় ব্যয়ের অডিট করে হিসাব
নিকাশ প্রকাশ করা এবং দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা,
কালোটাকা-মুক্ত নির্বাচন,
জঙ্গীবাদ বিলুপ্ত এবং
প্রশাসন দলীয়করণ মুক্তকরণ।
১৯৯০ সালে রাজনৈতিক
দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য হয়েছিলো এবং সুষ্পষ্টভাবে সুফল বয়ে এনেছিলো বলে গণফোরাম
সংলাপে জানিয়েছে ।
ডঃ কামাল
হোসেনের বক্তব্যের পর-পরই বাণিজ্য উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,
'রাজনৈতিক
দলগুলোর পাশাপাশি গোষ্ঠী ভিত্তিক সংলাপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ-সিদ্ধান্তের অংশ
হিসেবে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সংলাপ।
এছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়ে
আলোচনা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।'
হোসেন জিল্লুর আরও বলেন,
'গণফোরামের
সঙ্গে খুবই খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।'
জিল্লুর জানান,
তাদের (গণফোরামের)
বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া
হবে।
গণফোরামের সভাপতির নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়।
সরকারের পক্ষে প্রধান
উপদেষ্টা ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন একাধিক উপদেষ্টা।
সোমবার সকাল ১০টায়
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গণফোরামের সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়।
গত ২২ মে ওয়ার্কার্স
পার্টির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের আনুষ্ঠানিক সংলাপ
শুরু হয়।
এ-পর্যন্ত বিকল্পধারা বাংলাদেশ,
জাসদ (ইনু),
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট
পার্টি (সিপিবি) ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও ইসলামী শাসনতন্ত্র
আন্দোলনের সঙ্গে সংলাপ শেষ হয়েছে।
সরকারের
পাঁচ উপদেষ্টা গত ৭ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন দলের সঙ্গে প্রাক-সংলাপে
বসেন।
২২ দিনে তারা বিএনপির দু-অংশ ও
আওয়ামী লীগ-সহ ২৪টি রাজনৈতিক দল এবং তিনটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রথম
বৈঠকটি হয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে।
২৮ এপ্রিল বিএনপির
দেলোয়ারপন্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রাক-সংলাপ শেষ হয়।
এ-মাসের প্রথম সপ্তাহে
উপদেষ্টারা সুপারিশ আকারে প্রাক-সংলাপের প্রতিবেদন উপদেষ্টা পরিষদকে দেন।
ইউকেবেঙ্গলি রিপোর্টার ঢাকা থেকে
২ জুন,
২০০৮
আর্কাইভ8
|