|
ধর্মনিরপেক্ষ নেপাল অসহ্য
বিজেপির কাছেঃ মাওবাদীদের সাফল্যেও ক্ষোভ
পৃথিবীর
একমাত্র হিন্দুরাষ্ট্র থেকে গত সপ্তাহে নেপালের ধর্মনিরপক্ষ ব্যবস্থায় উত্তরণের
ব্যাপারটি মেনেই নিতে পারছে
না ভারতের হিন্দুত্ববাদী
দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
এছাড়াও সাম্প্রতিক
নির্বাচনে নেপালের মাওবাদীদের বিজয়ের ব্যাপারেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষোদগার করেছে দলটি।
সোমবার প্রকাশিত সাত
পৃষ্ঠা-ব্যাপী বিদেশ-নীতি সংক্রান্ত প্রস্তাবনায় নেপাল বিষয়ে সর্বশেষ দৃষ্টিভঙ্গী
প্রকাশ করেছে বিজেপি।
বিজেপি
মনে করছে, নেপালের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়াটা একটি
'নেতিবাচক
পরিবর্তন'।
উল্লেখ্য,
মাত্র গত সপ্তায় দুশো
চল্লিশ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে
দেশটি।
এছাড়াও রাষ্ট্রধর্মের ব্যাপারটি
ত্যাগ করে ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করেছে নেপাল।
মাওবাদীদের সাথে নেপালী
কংগ্রেস-সহ অন্যান্য দলের বুঝাপড়ার ভিত্তিতে বলতে গেলে সর্বসম্মতিক্রমে এসব
সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে নব-নির্বাচিত সাংবিধানিক পরিষদে।
কিন্তু বিজেপির পক্ষ
থেকে একে অত্যন্ত নেতিবাচক একটি ঘটনা হিসাবে চিত্রিত করা চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোমবার এ-প্রসঙ্গে
ভাষ্যদান-কালে দলটির প্রেসিডেন্ট রাজনাথ সিংহ জানান, নেপালে ধর্মনিরপেক্ষতা কায়েমের
ঘটনায় তিনি নিদারুনভাবে দুঃখিত।
নিজেকে একজন ভারতীয় ও
সনাতন ধর্মের অনুসারী পরিচয় দিয়ে রাজনাথ দাবী করেন, সনাতন ধর্মের চেয়ে অধিক
ধর্মনিরপেক্ষ আর কিছু হতে পারে না।
নেপালের
ধর্মনিরপেক্ষতা গ্রহণের ব্যাপারটি একেবারেই পছন্দ করতে না পারলেও,
রাজতন্ত্র বিলোপ হয়ে
যাবার ব্যাপারটি গলাধঃকরণে সক্ষম হয়েছে।
বিজেপি জানিয়েছে, নেপাল
থেকে হিন্দু রাজতন্ত্রের বিলোপের ব্যাপারটি জনগণের সম্মতিক্রমেই হয়েছে।
রাজতন্ত্র বিলোপের
ব্যাপারটি কোনোভাবে মেনে নিতে সক্ষম হলেও, যাদের জন্য ঘটনাটি ঘটেছে, তাদেরকে কোনো
ধরণের কৃতিত্ব দিতে রাজী নয় বিজেপি।
দলটি জানিয়েছে, সম্প্রতি
অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাওবাদীদের কোনো ধরণের ম্যান্ডেট দেয়নি নেপালের জনগণ।
উল্লেখ্য,
এপ্রিল মাসের দশ তারিখে
অনুষ্ঠিত সাংবিধানিক পরিষদের ঐতিহাসিক নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করেছে
মাওবাদীরা।
কিন্তু বিজেপির দাবী হচ্ছে,
[আসনের হিসাবে হলেও] ভৌটের হিসাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভৌটারের অনুমোদন পায়নি মাওবাদীরা।
বিজেপি আরও জানিয়েছে,
যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের অনুমোদন পায়নি, সেহেতু মাওবাদীদের উচিত দলের
কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে রাশ টেনে ধরা।
যুগের পর
যুগ ধরে সংসদীয় রাজনীতিতে আসন-ভিত্তিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনীতিতে অভ্যস্ত বিজেপি,
নেপালের মাওবাদীদের
ক্ষেত্রে কী কারণে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো মোট ভৌটের হিসাবে খুঁজছে, তা অবশ্য
দলটির বিদেশ নীতি বিষয়ক প্রস্তাবনা থেকে আদৌ স্পষ্ট হয়নি।
এ-প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক
সময়ে ভারতের কর্নাটক রাজ্যে জনগণের ম্যান্ডেট পাবার ব্যাপারে বিজেপির দাবীর
ন্যায্যতা বিষয়ে সংবাদ-মাধ্যমের পক্ষ থেকে বিজেপি প্রেসিডেন্ট রাজনাথ সিংহকে প্রশ্ন
করা হয় সোমবার।
উল্লেখ্য,
কর্নাটকের রাজ্যসভার
নির্বাচনে ৩৩ শতাংশের সামান্য কিছু বেশি ভোট পেয়েছে দলটি,
যা ভারতীয় কংগ্রেস
পার্টির তুলনায় ১ শতাংশ কম।
কিন্তু বিজেপির দাবী
হচ্ছে, তারাই কর্নাটকের জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে।
সোমবার সাংবাদিকদের পক্ষ
থেকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে রাজনাথ বলেন,
আমি [ভারত নয়] নেপাল
বিষয়ে কথা বলছি।
নেপালের
মাওবাদীদের নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতায় স্পষ্টতঃ হতাশ-ক্ষুব্ধ বিজেপি সোমবার আরও
জানিয়েছে, মাওবাদীরা ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে ভৌট পেয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী
বা প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসাবে মাওবাদীরা যে-দাবী
করছেন,
তাও সঙ্গত নয় বলে মনে করছে দলটি।
লন্ডনঃ ২
জুন, ২০০৮
আর্কাইভ8 |