|
লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে এলকৌহল নিষিদ্ধতার বিরুদ্ধে
তান্ডব
লন্ডন
আন্ডারগ্রাউন্ডে এলকৌহল পানের উপর লন্ডনের নবনির্বাচিত মেয়র বরিস জনসনের আরোপিত
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবার পূর্ব-রাতটি শেষ হয়েছে নজির-বিহীন সুসংগঠিত
উশৃঙ্খল-প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। আন্ডার গ্রাউন্ডে উশৃঙ্খল আচরণ থেকে শুরু করে
পুলিসের গায়ে হাত তোলা পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে পুলিস শনিবার রাতে ১৭ জনকে গ্রেফতার
করেছে।
১ জুন থেকে
আন্ডারগ্রাউন্ডে এলকৌহল পান নিষিদ্ধ হচ্ছে বলে মূলতঃ শেষবারের মতো শখ মিটিয়ে পান
করা এবং পানের স্বাধীনতা খর্ব করার প্রতিবাদ - এই দুটি উদ্দেশ্যে এলকৌহল-প্রিয়রা ৩১
মে শনিবার ইভিনিংটা বেছে নেয়। ক'দিন যাবত ইন্টারনেটে ও মৌবাইল ফৌন মাধ্যমে যোগাযোগ
করে আয়োজন করা হয় আন্ডারগ্রাউন্ডে ড্রিংকিং পার্টির। দু-হাজারের মতো ড্রিংকার এতে
অংশগ্রহণ করে বলে সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়।
আন্ডারগ্রাউন্ডে
ড্রিংকিং পার্টির ড্রিংকারেরা বোতল-হাতে মেয়রের বিরুদ্ধে স্লৌগান দিয়ে এবং
আন্ডারগ্রাউন্ডের ট্রেইনের কমার্টমেন্টগুলোর বিজ্ঞাপন-বৌর্ড খুলে ও ছিঁড়ে তান্ডব
চালায়। কোনো-কোনো ক্ষেত্রে তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে কর্তব্যরতদের উপর আক্রমণও করে বসে।
লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড সূত্রে জানা যায়, ড্রিংকারদের আক্রমণে চারজন ট্রেইন-ড্রাইভার
এবং অপর তিনজন কর্মচারী আহত হয়েছে। আরটিএম রেইল ইউনিয়নের নেতা বব ক্রাউ
সংবাদ-মাধ্যমকে জানান, তিনি বরিস জনসনকে এ-মর্মে সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, এলকৌহলের
উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে তা শেষ পর্যন্ত স্টাফের বিরুদ্ধে সহিংসতায় পর্যবসিত হবে।
ক্রাউ বলেন, 'গতরাতে [শনিবার দিবাগত] যারা আক্রান্ত ও নিগৃহীত হয়েছেন, জনসনের উচিত
ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।' তিনি জনসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এক
মূহুর্তের জন্যও না-ভেবে কেবল চমক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রচরণা-প্রদর্শনের জন্য
এ-সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য,
শনিবার রাতে পরিস্থিতির অবনতি হলে লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্টেইশন - লিভারপুল
স্ট্রীট ও বেইকার স্ট্রীট - বন্ধ করে দেয়া হয় এবং কয়েকটি ট্রেইন বাতিল করা হয়।
লন্ডনঃ ১ জুন, ২০০৮
আর্কাইভ8 |